October 14, 2026, 9:06 pm
রাজধানীর বেইলি রোডে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে রিকশাচালক, এক আরোহী ও তার কোলের শিশুকে আহত করার মামলায় গ্রেপ্তার কিশোরের আইনজীবী বাবাকে তিরষ্কার করেছেন বিচারক। অপরিণত ছেলেকে গাড়ি চালাতে দেয়ায় বিচারক তাকে বলেছেন, ‘অন্যায় আপনি করেছেন। এর জন্য আপনার শাস্তি হওয়া উচিত।’
এর আগে রিকশা গুঁড়িয়ে দেয়া কিশোর তাসকিন আহম্মেদ শাফিরের রিমান্ড আবেদন নাকচ করে দেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়। সেখানে উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তার সামনে পুলিশকে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের আদেশও দেন আদালত।
সোমবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬ এর বিচারক আল-মামুন এই আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক বিপ্লব সরকার কিশোর তাসকিন আহম্মেদকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ৫ দিনের হেফাজতে নেয়ার আবেদন করেছিলেন। পরে বিকেলের দিকে এই মামলার শুনানি হয়। তখনও তাসকিনের পক্ষে তার আইনজীবী বাবা আদালতে উপস্থিত হননি।
এ সময় বিচারক তাসকিনকে দেখে বলেন, ‘ওর তো গাড়ি চালানোর বয়স হয়নি। লাইসেন্স নাই। তার হাতে গাড়ি দিল কেন? ওর বাবাকে গ্রেপ্তার করা উচিত।’
এরপর তাসকিনকে তিনি জিজ্ঞাসা করেন, গাড়ি কার নামে? তখন তাসকিন বলে, তার বাবার নামে গাড়ি। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেসমিন আক্তার বিচারককে বলেন, সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি। ৬ মাস আগে কেনা হয়েছে। তার বাবা সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। কোথায়, কিসে পড়াশোনা করে জানতে চাইলে উত্তরে তাসকিন জানায়, সে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। এরপর বিচারক বলেন, তাকে রিমান্ড দিতে পারবো না। রিমান্ড হবে না।’
তখন তাসকিনের উদ্দেশ্যে বিচারক বলেন, এখনো অনেক সময় পড়ে আছে। বড় হও, অনেক গাড়ি চালাতে পারবে। তুমিও তো একজনের ছেলে। যে শিশুটাকে আহত করেছো- সেও কারো না কারো ছেলে। কত সময়, কত দিন পড়ে আছে। জীবনটা কি এত ছোট?
এরপর আদালত রিমান্ড নাকচ করে তাসকিনকে গাজিপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়ে সেই কেন্দ্রের কর্মকর্তার সামনে একদিন জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন বিচারক।
এরপর তাসকিনের বাবা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তারজেল হোসেনসহ কয়েকজন আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করেন। তখন বিচারক তাদের বলেন, ‘আদেশ তো হয়ে গেছে। এখন আর শুনানি করা যাবে না।’
বিচারক তাসকিনের বাবার কাছে জানতে চান, ‘সে (তাসকিন) কি লাইসেন্সসহ গাড়ি চালাচ্ছিল?’ উত্তরে তাসকিনের বাবা বলেন, ‘না। কাউকে না জানিয়ে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যায় সে।’
এ সময় বিচারক বলেন, ‘অন্যায় আপনি করেছেন, অপরাধ আপনি করেছেন। এর জন্য আপনার শাস্তি হওয়া উচিত। শিশু বাচ্চাটার পা ভেঙে গেছে। যা-ই হোক, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা শেষ হোক। এরপর জামিন শুনানি হবে। শুনানির এসব তথ্য দেন আইনজীবী তারজেল হোসেন।
মামলার ঘটনায় জানা যায়, গত ১৯ নভেম্বর বিকেলে রাজধানীর মগবাজার এলাকার বাসিন্দা শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা ফখরুল হাসান তার পাঁচ মাসের শিশুপুত্রকে নিয়ে বাসার বাইরে বের হন। তিনি একটি রিকশা নিয়ে মগবাজার থেকে বেইলি রোড হয়ে রমনা পার্কের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বেইলি রোডে একটি বেপরোয়া গতির প্রাইভেটকার তাদের বহনকারী রিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশাচালক আনোয়ার ইসলামসহ গুরুতর আহত হন ওই ব্যাংক কর্মকর্তা ও তার পাঁচ মাসের শিশু পুত্র ইব্রাহিম মোহাম্মদ বিন হাসান।
দুর্ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।
পরদিন সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তাসকিন তার মাকে নিয়ে বাসে করে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায় তার দাদার বাড়ি চলে যায়। সেখান থেকে আবার চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গায় তার খালার বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করে সে। পরে দুই উপজেলার থানা পুলিশের সহায়তায় তাসকিনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ পুলিশ।