October 9, 2026, 11:01 am
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, ‘বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের ঘাটতি আছে। তবে ক্রমেই পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি যখন চাকরি শুরু করি, তখন যে অবস্থায় ছিল, এর চেয়ে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। হয়তো সাগর পরিবর্তন করতে পারিনি। কিন্তু পুকুর পরিবর্তন করতে পেরেছি।’
শনিবার (২৬ জুন) ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) আয়োজিত বাজেট আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন আইবিএফবি সভাপতি হুমায়ূন রশীদ।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান।
অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশের পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ, এনবিআরের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এর রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মোহাম্মদ মাহফুজ কবির প্রমুখ।
এ সময় আইবিএফবি সভাপতি হুমায়ূন রশীদ বলেন, ‘বাজেটে থোক বরাদ্দ হিসেবে ৭ হাজার কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। এখন আবার লকডাউন দেয়া হচ্ছে। এই সময়ে যেন এই টাকা গরিব মানুষের জন্য খরচ করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘ব্যাংক থেকে যারা প্রণোদনার টাকা নিয়েছেন। ব্যাংকগুলো মনে করছে- তাদের অনেকেই টাকা ফেরত দিতে পারবে না।’
এনবিআরের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, ‘রিজার্ভ বাড়লেই তা অর্থনীতির জন্য স্বাস্থ্যকর নাও হতে পারে। আমরা হয়তো শ্রীলঙ্কা ও সুদানকে ঋণ দিয়ে বাহবা নিতে পারব। এই অর্থ বসিয়ে না রেখে অর্থনীতিতে কাজে লাগানো উচিত।’
এ বিষয়ে তিনি একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘শরীরের সুগার ভালো। এটি ৬ শতাংশ পর্যন্ত সহনীয়। কিন্তু ১৩-১৪ শতাংশ হয়ে গেলে ডায়াবেটিস হয়ে যাবে।’
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, গত এক দশকে স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত গৃহস্থলী সরঞ্জামগুলো মোট বাজারের ৯০ শতাংশ অংশ দখলে নিয়েছে। স্থানীয় উদ্যোক্তা ছাড়াও স্যামসাং ও এলজি-র মতো বিদেশি সংস্থা দেশে কারখানা স্থাপন করেছে। মোটর গাড়ি ও মোটরযান নির্মাতাদের স্থানীয় শিল্পে প্রবৃদ্ধির বিদ্যমান গতি বজায় রাখতে ভ্যাট ছাড়ের পাঁচ বছরের বর্ধনেরও প্রস্তাব করেছেন।
তারা আরও বলেন, করছাড়ের পাশাপাশি এই শিল্পগুলো কাঁচামাল বা উপাদান আমদানির জন্য ভ্যাট এবং অগ্রিম আয়কর (এআইটি) উপভোগ করবে। কমপক্ষে এক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বিনিয়োগের শর্ত পূরণ করলে তিন ও চার চাকার গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো আরও ১০ বছরের অব্যাহতি পেতে পারে।