October 8, 2026, 8:52 am

ফের সংশোধন হচ্ছে আশ্রয়ণ-২, পুনর্বাসন করা হবে ৬ লাখ পরিবারকে

ফের সংশোধন হচ্ছে আশ্রয়ণ-২, পুনর্বাসন করা হবে ৬ লাখ পরিবারকে

এম আর মাসফি: চতুর্থবারের মতো সংশোধন হচ্ছে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদিত মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীণদের জন্য গৃহ প্রদান নীতিমালা ২০২০ বাস্তবায়নসহ চলমান প্রকল্পের সময়-ব্যয় বাড়িয়ে দেশব্যাপী ৫ লাখ ৮৭ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ছিন্নমুল, গৃহহীন ভূমিহীন পরিবারকে জমি, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, বিশুদ্ধ খাবার পানি, বিদ্যুৎ ও চলাচলের জন্য পাকা রাস্তা ইত্যাদি সুযোগ সুবিধা দিয়ে পুনর্বাসন করা এবং পুনর্বাসিতদের ঋণ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মানির্ভরশীল করে গড়ে তোলার জন্য ১৯৯৭ সাল হতে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল, অসহায় দরিদ্র পরিবার পুনর্বাসন, ঋণ প্রদান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করে তোলা এবং আয়বর্ধক কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণসহ তাদের আর্থ- সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে মোট ১ হাজার ১৬৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১০ সালের জুলাই হতে ২০১৪ সালের জুনে বাস্তবায়নের জন্য আশ্রয়ণ-২ শীর্ষক মূল প্রকল্পটি ২০১০ সালের ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। মূল অনুমোদিত ডিপিপির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭০০টি আশ্রয়ণ গ্রাম স্থাপন করে ৫০ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসন করা।

পরবর্তীতে শহর এলাকায় টিনের ঘরের পরিবর্তে বহুতল ভবন নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ ৫০ হাজার পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য ১ হাজার ৩৫ কোটি ২ লাখ টাকা বৃদ্ধি এবং মেয়াদ তিন বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করে প্রথম সংশোধিত ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) মোট ২ হাজার ২০৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অনুমোদিত হয়।

সরকার ঘোষিত সবার জন্য বাসস্থান কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় মোট ২ লাখ ৫০ হাজারটি পরিবারকে পুনর্বাসন করার জন্য প্রথম সংশোধিত ডিপিপির চেয়ে আরও ২ হাজার ৬৩৬ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয় বৃদ্ধি এবং মেয়াদ ২ বছর বৃদ্ধি করে মোট ৪ হাজার ৮৪০ কোটি ২৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে এবং ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুনে বাস্তবায়ন মেয়াদে প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপি ২০১৭ সালের ২ মে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অনুমোদিত হয়।

এ ছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে কক্সবাজারের খুরুশকুল মৌজায় পুনর্বাসনের জন্য ১৩৯টি ৫ তলা আবাসিক ভবন ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ কার্যক্রম দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ কার্যক্রমের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২০টি ভবনের কার্যাদেশ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট ১১৯টি ভবন কে খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ শীর্ষক একটি পৃথক প্রকল্প প্রণয়ন করা হয় এবং তা এরমধ্যে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে।

পরবর্তীতে নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি, খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ ইত্যাদি কারণে প্রকল্পটির তৃতীয় সংশোধন করা হয় এবং মোট ৪ হাজার ৮২৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে এবং ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়ন মেয়াদ ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির তৃতীয় সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদিত হয়।

এবার প্রধানমন্ত্রী মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীণদের জন্য গৃহ প্রদান নীতিমালা ২০২০, গত বছরের ১৩ মে অনুমোদন করেন। এই নীতিমালা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভুমিহীণ ও গৃহহীন ক শ্রেণি এবং জমি আছে কিন্তু ঘর নেই এ রূপ খ শ্রেণির ৩ লাখ ৫০ হাজার পরিবারসহ মোট ৬ লাখ পরিবার পুনর্বাসন প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত ডিজাইন অনুযায়ী একক গৃহ নির্মাণের মাধ্যমে পুনর্বাসনের জন্য আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী ৩ লাখ ৫০ হাজারটি পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প সংশোধনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে, ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৭টি ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ও অসহায় পরিবার বাছাইকরণ, ৫ হাজার ১৪৯টি পাকা ব্যারাক, চরাঞ্চলে ৫ হাজার ৭৮টি সিআইসিট ব্যারাক, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ব্যারাক নির্মাণ, ১২০টি বহুতল নির্মাণ, ১ হাজার ১১০টি বহুতল ভবন, সকল প্রকল্প গ্রামে অগভীর গভীর নলকূপ স্থাপন এবং ৫৬৪টি ঘাটলা, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, বক্স কালভার্ট, পাকা ড্রেন ও স্লোপ প্রোটেকশন নির্মাণ ইত্যাদি।

সব প্রকল্প গ্রামে অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণসহ ৫৮০ টি বিশেষ ডিজাইনের ঘর নির্মাণ, সব প্রকল্প এলাকায় গ্রামে অগভীর, গভীর নলকূপ স্থাপন, ৫৬৪ টি ঘাটলা, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, বক্স কালভার্ট, পাকা ড্রেন ও স্লোপ প্রটেকশন নির্মাণ, ইত্যাদি কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় করা হবে ১২ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা।

চলতি সময় থেকে ২০২৪ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। নতুন করে প্রকল্পের প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ ‘আশ্রয়ণ-২ (চতুর্থ সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. মামুন আল রশীদ। এরপরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) মো. মতিউর রহমান বলেন, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে এসেছে। প্রকল্পটি নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা করেছি। প্রকল্পের আওতায় গৃহহীন মানুষকে পাকা ঘর দেওয়া হবে। প্রকল্পের কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি আছে। এগুলো সংশোধন করে প্রকল্পটি আমরা একনেক পর্যন্ত পৌঁছে দেবো।

বিজনেস নিউজ/এসআর

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com