October 8, 2026, 8:12 am

‘যুবসমাজের মধ্যে তামাক সেবন যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা ভয়াবহ’

‘যুবসমাজের মধ্যে তামাক সেবন যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা ভয়াবহ’

তরুণ সমাজ ভয়াবহভাবে তামাকে ঝুঁকছে। বর্তমানে যুবসমাজের মধ্যে তামাক সেবন যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা ভয়াবহ। বিশ্বে তামাক ব্যবহারে বাংলাদেশ অন্যতম বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহ্সান রাসেল।

বৃহস্পতিবার(২৭ মে) আসন্ন জাতীয় বাজেট ২০২১-২২ এ তামাক কর বৃদ্ধির মাধ্যমে যুব সমাজকে তামাক সেবনে নিরুৎসাহিত করা শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সংলাপে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ডিজেএফবি ও ডরপ,’র যৌথ উদ্যোগে ভার্চুয়াল সংলাপের আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে এক তৃতীয়াংশ মানুষ তামাক ব্যবহার করছে এটা খুবই ক্ষতিকর। যুবদের যদি আমরা তামাক সেবন থেকে দূরে না রাখতে পারি তবে আমাদের টার্গেট পূরণ করতে পারবো না। ২৪ বছরের নীচে ৪৯ শতাংশ তরুণ সমাজ রয়েছে যারা তামাক সেবন করছে এটা ভয়াবহ চিত্র।সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে কিভাবে যুব সমাজকে মাদক-তামাক থেকে দূরে রাখা যায়। তারপরও যে চিত্র দেখলাম এটা ভয়াবহ। এতো ট্যাক্স বৃদ্ধির পরও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। ‍শুধু ট্যাক্স বৃদ্ধি নয় জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে তামাক সেবন বন্ধে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, তামাকে কর বৃদ্ধি করতে হবে।তামাক সেবনের মধ্য দিয়ে যুব সমাজ বড় ধরণের নেশায় ঝুঁকে পড়ছে। তামাক-মাকদের ব্যাপারের পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন নিরুৎসাহিতমূলক শিক্ষা দেয় এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। তামাক এমন একটা বিষয় এটা বন্ধু ও আড্ডা স্থল থেকে সেবন করা হচ্ছে। এই বিষয়ে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। আমি নানা অনুষ্ঠানে বলে থাকি আমি কখনও মাদক ও তামাক সেবন করি নাই। সব সময় খেলাধুলায় নিজেটে জড়িয়ে রেখেছি।

মাদক থেকে যুব সমাজকে রক্ষায় উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রাসেল বলেন, আমরা উপজেলা পর্যায়ে খেলার মাঠ করে দিচ্ছি। প্রতি উপজেলায় নতুন নতুন বিনোদন কেন্দ্র করে দিচ্ছি। তামাকমুক্ত দেশ গড়ায় নানা পদক্ষেপ নিচ্ছি ।

তামাকের কর বৃদ্ধিদে সংসসে জোরালে ভূমিকা রাখার প্রত্যায় ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি সব সময় সংসদে তামাকে কর বৃদ্ধির বিষয়ে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি। আসন্ন বাজেটে তামাকের কর বৃদ্ধিতে চেষ্টা করবো। সিগারেটের শলাকা বিক্রি বন্ধের পদক্ষেপ নেবা। তা হলে অনেকে যুবক এক সঙ্গে এক প্যাকেট সিগারেট কিনতে পারবে না। তামাকের কর বৃদ্ধির বিষয়ে জোরালো ব্যবস্থা নেবো। যাতে আমার তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে পারি।তরুণ সমাজ সিগারেট সেবনের ফলে পরিবারের অর্থ ও পরিবেশকে নষ্ট করছে।

জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমাদের যুবসমাজকে না বাঁচাতে পারলে দেশের টার্গেট পূরণ হবে না। ২০৪০ সালে উন্নত দেশে রুপ দিতে হলে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে। তামাক ক্ষতিকারক বস্তু। তামাকে বেশি বেশি ট্যাক্স বৃদ্ধি করতে হবে। তামাকে খুব একটা বেশি ট্যাক্স বৃদ্ধি হচ্ছে বলে মনে হয় না। তামাকে ট্যাক্স বৃদ্ধির মাধ্যমে যুবসমাজকে তামাকমুক্ত করতে পারবো। যারা আগে সেবন করতো তাদের রক্ষা করতে পারবো।

বিশেষ অতিথি হিসেবে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য(সিনিয়র সচিব) ড.শামসুল আলম বলেন, যুব সমাজকে নানা নেশা থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এটা যুব সমাজের জন্য অন্যতম সমস্যা। তবে তামাক শুন্য দেশ নেই এর মানে এই নয় যে আমরা তামাকশূন্য হবো না।

জিইডি সচিব আরো বলেন, তামাক বন্ধ নিয়ে বিতর্ক আছে। ছোট নেশা বাদ গেলে তারা বড় নেশা গ্রহণ করবো কিনা এটা নিয়ে আলোচনা করা উচিত। তামাক বন্ধ করলে অনেকে তাড়ি বা ইয়াবার দিকে ঝুঁকবে। এটা নিয়েও ভাবতে হবে পৃথিবীর অনেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভিত্বিক দেশ তারা তামাক থেকে চলে যায়নি। আমরা আবেগে অনেক কথা বলতে পারি কিন্তু বাস্তবে এটা কি হবে ভাবতে হবে।

ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে)র বাংলাদেশ এর লিড পলিসি অ্যাডভাইজর মো. মোস্তাফিজুর রহমান, দক্ষিণ এশীয়ায় অনেক সূচকে অনেক দেশকে পেছনে ফেলেছি। এমনকি মাথাপিছু আয় ভারতের থেকে এগিয়ে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আমাদের দেশে তামাকপণ্যের দাম কম। এটা বাড়াতে না পারলে দেশের জন্য ক্ষতি-যুব সমাজের জন্য শঙ্কা। তামাকের দাম কিছুটা বাড়ানো হয়েছে অন্যদিকে ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে।ফলে তামাকের ব্যবহার কমছে না। দক্ষিণ এশীয়ায় সব চেয়ে কম দামে তামাকপণ্য বিক্রি করছে। সরকার আশা করি এই বিষয়ে নজর দেবে। দেশে ৩৫ শতাংশ লোক তামাকপণ্য ব্যবহার করেন। এদের অধিকাংশ তরুণ। তরুণদের রক্ষা না করলে দেশে তার লক্ষে পৌঁছাবে না। সরকার সারে বিপুল পরিমাণে ভর্তুকি দিয়ে থাকে।অথচ ভর্তুকি সার তামাক চাষিরা পাচ্ছেন। এতে করে তামাক কোম্পানি লাভবান হচ্ছে। ভর্তুকি সার তামাকের জমিতে যাতে ব্যবহার না হয় সরকারকে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।

ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের (ডিজেএফবি) সভাপতি হুমায়ুন কবীর, যুব সমাজের হাতে তামাক তুলে দিলে আউটপুট পাবো না। করের বড় মাধ্যম হচ্ছে তামাক। তামাক আমাদের রেভিনিউকে সমৃদ্ধ করছে, এই বিষয়ে অনেকে যুক্তি তুলে ধরছেন। ২০১৮-১৯ সালে দেখেছি ২২ হাজার কোটি টাকার কর এসে তামাক থেকে একইভাবে ৩০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে চিকিৎসা বাবদ। তাহলে কি দেখলাম অতিরিক্ত ৮ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ক্ষতি হতে হয়েছে। আমাদের যুব সমাজ নেশা প্রবেশ করছে তার প্রাথমিক অনুঘট ক হিসেবে কাজ করছে সিগারেট। প্রথমে সিগারেট ধরে তার পরে নৈতিক অবক্ষয় শুরু হয়।

ডরপ’র প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর রুবিনা ইসলাম বলেন, যুব সমাজ তামাক ব্যবহার করে কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তখন ঘটি-বাটি বিক্রি করে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। অনেক পরিবার রাস্তায় নেমে পড়ছে। যারা তামাক সেবন করে এসব যুবসমাজকে প্রটেক্ট করা খুবই জরুরি। তামাক সেবনে যুব সমাজকে নিরুৎসাহি করাতে হবে। সিঙ্গেল শলাকা বিক্রি বন্ধ করতে হবে। অনেক শিক্ষার্থী ১০ টাকায় এক শলাকা কিনে সেবন করে। সিঙ্গেল শলাকা বিক্রি না করে প্যাকেট বিক্রি করতে হবে। কারণ অনেক ছাত্রের কাছে এক প্যাকেট সিগারেট কেনার টাকা থাকে না।

ডিজেএফবি’র কার্য নির্বাহী সদস্য সুশান্ত সিনহা সঞ্চালনায় সংলাপে অংশনেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক এম এ মতিন, ডরপ-এর চেয়ারম্যান আজহার আলী তালুকদার, ডিজেএফবি’র সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান, সহ-সভাপতি হামিদুজ্জামান মামুন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মামুন আব্দুল্লাহ, ডরপ এর উপ পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান প্রমূখ।

বিজনেস নিউজ/এমআর

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com