August 27, 2026, 5:12 pm
টানা চার কার্যদিবস ধরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য প্রতিষ্ঠান সিনহা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের লেনদেন বন্ধ রয়েছে। ফলে এই ব্রোকারহাউজটির ৩১ হাজার বেনিফিশিয়ারি ওনারর্স ( বিও) অ্যাকাউন্টধারী তাদের শেয়ার কেনা-বেচা করতে পারছে না। প্রতিষ্ঠানটিতে আদৌ লেনদেন চালু হবে কি না সেটি নিয়েও তারা সন্দিহান ? শুধু তাই নয়, তাদের কোডে শেয়ার আছে কি না তা নিয়েও শঙ্কায় আছেন বিনিয়োগকারীরা।
উল্লেখ, সিনহা সিকিউরিটিজ ৩ বছর ধরে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিও অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণের বার্ষিক ফি জমা নিলেও তা থেকে সিডিবিএলসহ অন্য স্টেকহোল্ডারদের প্রাপ্য পরিশোধ করেনি। যা টাকার অংকে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটিতে। তাই লেনদেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) লেনদেন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে।
সিনহা সিকিউরিটিজ বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড ও এইচআরডি এস এম সিকানদার বলেন, বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীদের কোডের (অ্যাকাউন্ট) টাকা ব্রোকারেদের কোডে রয়েছে। আমাদের সেই রকম সমস্যা ছিলো। আর এটি হয়েছে ২০১০ সালের ধসের পর থেকে মার্জিন লোন দেয়া ক্লায়েন্টের জন্য। তাদের শেয়ার ফোর্সড সেল না করে ধরে রাখাতে এই পাওনা হয়েছে।
লেনদেন চালু হবে প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, সোমবার থেকে হা্উজের বিনিয়োগকারীরা লেনদেন করতে পারবেন। এই বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন(বিএসইসি) ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সঙ্গে সমোঝতা হয়েছে। আমরা বকেয়া টাকার কিছু অংশ পরিশোধ করেছি। বাকি অংশ পরিশোধের জন্য কমিশনের কাছে এক বছর সময় চেয়েছিলাম, কমিশন ৬ মাস সময় দিয়েছে। আশা করছি এই ৬ মাসের মধ্যেই বাকি টাকা দিয়ে দেবো। সোমবার থেকে গ্রাহকরা লেনদেন করতে পারবেন।
তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএস্ই) এর সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে, রোববার পর্যন্ত ওই ব্রোকারহাউজের লেনদেন শুরুর বিষয়ে তাদের কাছে কমিশনের কোনো নিদের্শনা আসেনি। অন্যদিকে সিডিবিএলও এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেনি।
উল্লেখ্য, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) বকেয়া টাকা না দেয়ায় পহেলা সেপ্টম্বর থেকে সিনহা সিকিউরিটিজের ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্ট (ডিপি) লাইসেন্স স্থগিত করায়। ফলে ১,২,৩ এবং ৬ সেপ্টেম্বর মোট কার্যদিবস এই ব্রোকারহাউজের গ্রাহকরা শেয়ার কেনাবেচা করতে পারেননি। এতে অনেক গ্রাহক বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
একটি বড় গ্রুপ অব কোম্পানির মালিকানাধীন ব্রোকারহাউজটির এই ঘটনায় বাজার সংশ্লিষ্টরা বিষ্মিত। ক্ষুব্ধ। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের ঘটনা পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করছে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একমি ল্যাবরেটরিজ ও সিনহা সিকিউরিটিজ একই মালিকদের প্রতিষ্ঠান। একমি ল্যাবরেটরিজের চেয়ারম্যান নাসির উর রহমান সিনহা এই ব্রোকারহাউজের (সিনহা সিকিউরিটিজ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
জানা গেছে, তিন বছর ধরে সিনহা সিকিউরিটিজ সিডিবিএলের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করছে না। অথচ তারা ঠিকই গ্রাহকদের কাছ থেকে ফি সংগ্রহ করছে। প্রতিষ্ঠানটিকে বার বার তাগাদা দিয়েও কোনো সদুত্তর পায়নি সিডিবিএল কর্তৃপক্ষ। এর প্রেক্ষিতে তারা পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) শরনাপন্ন হয়। বিএসইসি প্রতিষ্ঠানটিকে বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। পাশাপাশি সিডিবিএলকে অনুমতি দেওয়া হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বকেয়া পরিশোধ না করলে ডিপি লাইসেন্স স্থগিত রাখার।
ডিপি লাইসেন্স স্থগিত থাকলে ওই প্রতিষ্ঠানের ডিপি হিসাবে শেয়ারের পে-ইন ও পে-আউট বন্ধ থাকে। তাই শেয়ারের লেনদেন হলেও তা নিষ্পন্ন করা সম্ভব নয়। তাই ডিএসই কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন বন্ধ রেখেছে।
ডিপি লাইসেন্স স্থগিতজনিত সমস্যায় ব্রোকারহাউজটির সব সব শাখা অফিস গত কয়েকদিন বন্ধ ছিল। এসব শাখার গ্রাহকরা অফিসে এসে সেটি তালাবদ্ধ দেখে ফিরে গেছেন। এ কারণে তারা লেনদেন তো করতে পারেন-ই-নি, উল্টো হয়রানির শিকার হয়েছেন।
এদিকে সিনহা সিকিউরিটিজ কর্তৃপক্ষ এখনো তাদের গ্রাহকদের অন্ধকারে রেখেছেন। তারা তাদেরকে প্রকৃত ঘটনা না জানিয়ে নানা বাহানা করছে। বলা হচ্ছে, সার্ভারের সমস্যার কারণে লেনদেন বন্ধ আছে। শিগগিরই তা চালু হবে।
শুধু লেনদেন বন্ধ নয়, সিনহা সিকিউরিটিজ গ্রাহকদের রিক্যুইজিশন দেওয়া টাকা দেওয়াও বন্ধ রেখেছেন। জুনে শেয়ার বিক্রি করে এখন পর্যন্ত টাকা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক বিনিয়োগকারী।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে দ্রুত বিষয়টির সুরাহা হওয়া দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।