May 31, 2026, 4:00 am

বাজারে চড়া সবজির দাম, কিছুটা কমেছে মাংসের

বাজারে চড়া সবজির দাম, কিছুটা কমেছে মাংসের

বাজারে কোনো সবজির ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত সবজির সরবরাহ থাকলেও বন্যার অজুহাতে গত দুই মাস ধরেই ঊর্ধ্বমুখী রাজধানীর সবজির বাজার।

দফায় দফায় দাম বেড়েছে সবজির। এসময়ের মধ্যে কোনো কোনো সবজির দাম দুই গুণ ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও দাম বেড়েছে বেশিরভাগ সবজির। কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে এসব সবজি।

তবে দাম না বাড়লেও আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে আলু, পেঁপে, কচুর মুখি ও কাঁচা কলা। আগের চড়া দাম দেখা গেছে শাকের বাজারে। তবে অপরিবর্তিত আছে চাল, ডাল, তেল ও মসলার বাজার।

দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হাতিরপুল, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা, ফকিরাপুল, মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি কলোনি ও খিলগাঁও কাঁচা বাজার ঘুরে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

এসব বাজারে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর মুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতিহালি ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে প্রতিকেজি শসা (দেশি) বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর (আমদানি) ৯০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, উস্তা ১০০ টাকা, মানভেদে ঝিঙা-ধুন্দল ৭০ টাকা, চিচিঙা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাকরোল আকারভেদে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, বেগুন আকারভেদে ৭০ থেকে ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজারে প্রতি আঁটি (মোড়া) লাল শাকের দাম চাওয়া হচ্ছে ২৫ টাকা, মুলা ও কলমি শাক ২০ টাকা, লাউ ও কুমড়া শাক ৪০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, ডাটা শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

এসব বাজারে প্রতিকেজি মিনিকেট (নতুন) চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, মিনিকেট পুরান ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা, বাসমতি ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, আতপ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, পোলাও’র চাল বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজিদরে।

এছাড়া গুটি চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, পায়জাম ৪৫ টাকা, আটাশ ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা, এক সিদ্দ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা কেজিদরে।

প্রতিকেজি ডাবলি ডাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা, অ্যাংকর ৫০ টাকা, দেশি মসুর ১২০ টাকা, মসুর ডাল (মোটা) ৮০ টাকা কেজিদরে।

খোলা সয়াবিন তেল (লাল) বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০৫ টাকা লিটার ও খোলা সয়াবিন তেল (সাদা) ১০০ টাকা লিটার।

এদিকে সবজির বাড়তি দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আমজাদ নামে হাতিরপুল বাজারে এক বিক্রেতা বলেন, বাজারে মালামাল না এলে দাম এমনিতে বেড়ে যায়। এখন বন্যার কারণে মালামাল সংকট আছে বাজারে। তাই বাড়তি দাম দিয়ে মালামাল কিনতে হচ্ছে। সেখানে দাম চড়া হওয়ায় খুচরায় দাম বেশি।

তবে তার কথার সঙ্গে একমত না এ বাজারের ক্রেতা হাবিব। তিনি বলেন, বাজারে সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত তাহলে কেন দাম বাড়বে। সবজির ঘাটতি হলে দাম বাড়বে, কিন্তু এসব বাজারে বিপরীত। ক্রেতার পকেট কাটায় ব্যস্ত বিক্রেতারা।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে মাংসের বাজারে দাম কমেছে। রাজধানীতে প্রতিকেজি গরু মাংস ৫০০ টাকা করে বিক্রি করতে দেখা গেছে। একইসঙ্গে ৭৩০ থেকে ৭৫০ টাকা করে বিক্রি করতে দেখা গেছে খাসির মাংস। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে গরুর মাংসে দাম কমেছে কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা। আর খাসির মাংসে কমেছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। এর আগে গরু মাংস ছিল ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি।

তবে মাছের দাম অপরিবর্তিত। এমনকি ইলিশ মাছের দাম নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে ইলিশের সরবরাহ থাকলেও  সে তুলনায় দাম কমেনি। আবার বিক্রেতারা বলছেন, ইলিশের মৌসুম না হলেও বাজারে ইলিশ আসছে। আবার দামও তুলনামূলক কম।

সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে পাঁচ টাকা কমে এসব বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। লেয়ার মুরগি প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা। আর ১০ টাকা কমে প্রতিকেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা। তবে দেশি মুরগির দর কমেছে ৫০ টাকা।   ৫৫০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া ছোট আকারের রোস্টের মুরগি প্রতি চার পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়।

এদিকে, কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে গরুর মাংসের দাম। এসব বাজারে প্রতিকেজি গরু মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কেজি। তবে কিছু কিছু দোকানে দাম চাওয়া হচ্ছে ৫৫০ টাকা। দাম কমে প্রতিকেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৩০ থেকে ৭৫০ টাকা। আর প্রতিকেজি বকরির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়।

এসব বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমে দাম কমেছে পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়। ১০ টাকা কমে দেশি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা।  সোনালি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। আর হাঁসের ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়।

সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে মাছের বাজার। এসব বাজারে প্রতিকেজি কাঁচকি মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, মলা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, দেশি টেংরা ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, নদীর টেংরা (বড়) ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৪০০ টাকা, দেশি শিং ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, দেশি চিংড়ি (ছোট) ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কৈ মাছ ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা, রুই (আকারভেদে) ১৮০ থেকে ৩০০ টাকা, মৃগেল ১৭০ থেকে ২৮০ টাকা, পাঙাস ১১০ থেকে ১৬০ টাকা, তেলাপিয়া ১১০ থেকে ১৫০ টাকা, কাতল ১৮০ থেকে ২৮০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে প্রতি সোয়া কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকা, এককেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ থেকে এক হাজার টাকায়, ৭৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬৫০ টাকা, প্রতি ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, আর ছোট ইলিশ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com