April 18, 2026, 2:28 pm
দরপত্র নম্বর: ৮৯৭১৩৪ এ পিপিআর ২০০৮ এর বিধি-২৯(৩) ও বাংলাদেশ পাবলিক প্রক্রিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিএএ) লংঘন করে আইন বহিভূতভাবে কান্ট্রি ওরিজিন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অষ্ট্রেলিয়ার নাম উল্লেখ্য করে শর্তারোপ করার মাধ্যমে সর্বনিম্ন দরদাতা কে নন-রেসপনসিভ করে সর্বচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান কে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের একক সিদ্ধান্তে কাজ প্রদান করা হয়। ক্ষমতার অপব্যবহার ব্যবহার করে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবৎ পিপিআর আইন বহিভূত শর্ত প্রদানের মাধ্যমে অতিরিক্ত মূল্যে মালামাল সরবরাহ করে যাচ্ছে নিজেদের স্বার্থ হাছিল করার জন্য।
উল্লেখিত দরপত্রে (৮৯৭১৩৪) প্রদানকৃত শর্তটি পিপিআর লংঘীত হওয়ার বিষয়টি একাধিক অংশগ্রহণকারী দরদাতা প্রতিষ্ঠান প্রাক-দরপত্র মিটিং এ আপত্তি জানানোর পরও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর যোগসাজশে সিন্ডিকেটের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য এ ব্যাপারে কোন ভ্রুক্ষেপ না করে দরপত্র কার্যক্রম চলমান রাখে এবং পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন। পণ্য কেনাকাটার ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা না মানার অভিযোগ উঠেছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বিরুদ্ধে। বিধি না মেনে কম্পিউটার কেনার একটি কাজ সর্বনিম্ন দরদাতার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ দরদাতাকে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
তাদের অভিযোগ, টেন্ডার স্পেসিফিকেশনে পণ্য উৎপাদনকারী দেশের নাম উল্লেখ বাধ্যতামূলক করেছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক। যা পিপিআর ২০০৮-এর বিধি-২৯ (৩) এর সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শেখ মো. জামিনুর রহমানের দাবি তিনি সব কিছু মেনেই টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং কাজ দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শেখ মো. জামিনুর রহমান বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে গত ছয় বছর কোনো কম্পিউটার কেনা হয়নি। এজন্য কম্পিউটার ক্রয় করতে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এই টেন্ডারে পাঁচটি কোম্পানি অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে দুটি কোম্পানি টেন্ডার থেকে বেরিয়ে যায়। এই দুটি কোম্পানির মধ্যে একটা ছিল ফুনায়েন ফোরটেক আরেকটা ছিল ওয়ালটন। দইটি কোম্পানি বেরিয়ে যাওয়ার পর টেন্ডারে টিকে থাকে স্টারটেক, গ্লোবাল ও স্মার্ট। এই তিন কোম্পানির কাছে ‘ম্যানুফেকচার অথরাইজড লেটার’ চাওয়া হয়। একটি কোম্পানি এ লেটার দিতে না পারায় তারা নন-রেসপনসিভ হয়। এরপর বাকি দুটি কোম্পানির মধ্যে আর্থিক মূল্যায়ন করা হয়। এই মূল্যায়নে যে সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে তাকে কাজ দেওয়া হয়েছে।
‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ এর অংশ-৩ (বিনির্দেশ প্রস্তুতকরণ ও গোপনীয়তা রক্ষা) এ বিধি-২৯(৩) এ কারিগরি বিনির্দেশে কোনো পণ্যের ট্রেডমার্ক বা পণ্যের ব্যবসায়িক নাম (ট্রেড নাম), পেটেন্ট, নকশা বা ধরন, নির্দিষ্ট উৎস দেশের নাম (কান্ট্রিজ অব অরিজিন), উৎপাদনকারী বা সেবা সরবরাহকারীর নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা যাবে না’ বলে বিধিতে উল্লেখ থাকলেও আপনারা তা উল্লেখ করেছেন- এই অভিযোগের বিষয়ে কী বলবেন?
জবাবে তিনি বলেন, টেন্ডার স্পেসিফিকেশনে ‘একটি দেশে’র নাম উল্লেখ করা যাবে না কিন্তু একাধিক দেশের নাম উল্লেখ করা যাবে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধি অনুযায়ী টেন্ডার স্পেসিফিকেশনে দেশের নাম ও পণ্যের নাম উল্লেখ করা যাবে।
তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানও ১৭ বার পরিবর্তন করা হয়েছে। পিপিআরও পরিবর্তন করা হচ্ছে।
এমডি বলেন, এই টেন্ডার প্রসিডিউরের মধ্যে একটা প্রাক-দরপত্র আছে। প্রাক-দরপত্রেও তারা কোনো অভিযোগ দেয়নি। প্রাক-দরপত্রে অভিযোগের তো সুযোগ ছিল।
অর্থ বিভাগ ও বিপিপিএ-তে দেওয়া চিঠিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, আপত্তি থাকা সত্ত্বেও প্রাক-দরপত্র মিটিংয়ে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নির্দিষ্ট কোম্পানিকে কাজ দিতে দরপত্রের কার্যক্রম চলমান রাখেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেলের রহমান চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
বিজনেস নিউজ/এসআর