June 5, 2026, 5:53 am
ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত কাজে সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে গেলে ঘুষ ছাড়া কাজ আদায় করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসের (এফবিসিসিআই) পরিচালক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন।
দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এই সংগঠনটির নেতা বলেছেন, ‘সরকারি অফিসগুলো তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে না। সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অনাগ্রহ দেখা যায়। ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি বাংলাদেশে। বিদেশি উদ্যোক্তারা এখানে এলে সঠিকভাবে তথ্য পান না।’
রবিবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও জার্মানির উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘দেশে নতুন কারখানা নির্মাণে প্রয়োজনীয় তথ্য একসঙ্গে পাওয়া সংক্রান্ত ওয়েবসাইট’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিসগুলোতে এখনও অনেক কিছুই পাওয়া যায় না। এতে একজন বিদেশি উদ্যোক্তা ছয় থেকে সাত মাস বাংলাদেশে ঘুরে কোনো তথ্য না পেয়ে চলে যাচ্ছেন। এ ছাড়া যোগাযোগব্যবস্থার যথেষ্ট ত্রুটি রয়েছে। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতে যেখানে এক ঘণ্টা লাগার কথা সেখানে তিন থেকে চার ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। এতে ব্যবসা খাতসহ ক্ষতির মুখে পড়ছে সব খাত।’
সরকারি সেবার বিষয়ে একই অভিযোগ বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমেরও।
তিনি বলেন, ‘ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন সরকারি কর্মকর্তারা। একটা কাজ নিয়ে গেলে এক স্টেপ টাকা দিয়ে শেষ করলে অন্য স্টেপে কাজটি সম্পূর্ণ করতে টাকা চান তারা। কাগজপত্র নিয়েও করেন ঝামেলা। সূক্ষ্ম ভুলকে বড় আকারে নিয়ে সময়ক্ষেপণ করে সরকারি অফিসগুলো। বাংলাদেশে এখন ব্যবসায় অনেকটা জ্বালাতন সহ্য করতেই হচ্ছে। এত জ্বালা সহ্য করে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বলা হয় বাংলাদেশে ইজ অব ডুয়িং বিজনেসের (আরামে ব্যবসা করা) জন্য কাজ করা হচ্ছে। তবে আমরা ব্যবসায়ীরা ইজ অব ডুয়িং বিজনেসের ফিল্ডটা এখনও পাচ্ছি না। উদ্যেক্তারা দেশের জন্য কাজ করেছেন। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে উদ্যোক্তাদের সাহসিকতায় কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। এরপরও ব্যবসায়ীদের ছোট করে দেখা হচ্ছে। অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে যার যার অবস্থান থেকে মাইন্ড সেট পরিবর্তন করতে হবে। শিল্প-কারখানা নির্মাণের ক্ষেত্রেও যত্নশীল হতে হবে। ফাঁকিবাজি করে সনদ নিয়ে কারখানা নির্মাণ করা যাবে না।’
অনুষ্ঠানে লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘ব্যবসার ক্ষেত্রে যেকোনো কাজ বা কারখানা নির্মাণে অতিরিক্ত ডকুমেন্টস সরবরাহের হয়রানির স্বীকার হতে হয় উদ্যোক্তাদের। যা দরকার নয় সেসব কাগজপত্রও প্রদর্শন করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে। এতে সময় অপচয় হচ্ছে বেশ। এক্ষেত্রে একটা কার্যাবলির মধ্যে সহজীকরণ পন্থা থাকতে হবে। অপ্রয়োজনীয় কী কী বাদ দেওয়া যায় তা নজরে এনে কাজ এগিয়ে নিতে হবে। এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরের দৌড়ঝাঁপ বন্ধ করে সব কাজকে অটোমেশন পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’
এ সময় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘ব্যবসা করতে গিয়ে এখন উদ্যোক্তারা নানা ঝামেলায় পড়ছেন। লোডশেডিংয়ের কারণে আমরা ঠিকমতো উৎপাদনে যেতে পারছি না। অনেক ক্রয়াদেশ কমে এসেছে। সামনের দিনগুলোতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অনেকটাই কমে যাবে। গ্যাস এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না দেওয়ায় জেনারেটর ১০ ঘণ্টা চালিয়ে ডিজেল খরচ হচ্ছে অনেক। উৎপাদন খরচ বেড়েছে অনেক। এমন অবস্থায় ব্যালেন্স করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।’
সমাপনী বক্তব্যে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বর্তমানে দেশে দুর্নীতি একটা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘুষ ও দুর্নীতির কারণে ছোট উদ্যোক্তারা ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করতে সাহস পাচ্ছেন না। তাই এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নীতি-নির্ধারকদের সঠিক কর্মপদ্ধতি বা পরিকল্পনায় জোর দিতে হবে।’
তিনি জানান, সিপিডি এবং জিআইজেড উদ্ভাবিত সেট আপ এ নিউ ফ্যাক্টরি ওয়েবসাইটে পোশাক, ওষুধ, চামড়া ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত কারখানা নির্মাণে একজন নতুন উদ্যেক্তা কীভাবে লাইসেন্স, নিবন্ধন এবং সনদ নেবেন তার যাবতীয় তথ্য ও করণীয় বিষয়গুলো একসঙ্গে পাওয়া যাবে