August 18, 2026, 4:09 am

নভেম্বরে শেষ হচ্ছে করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকা

নভেম্বরে শেষ হচ্ছে করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকা

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় (বুস্টার) ডোজের টিকা কার্যক্রম চলছে। তবে আগামী নভেম্বর মাসেই প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের জন্য সংরক্ষিত টিকার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এরপর শুধু বুস্টার ডোজের কার্যক্রমই চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশে এখনও প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ এক ডোজ টিকাও নেয়নি।

সোমবার (২৬ জুলাই) অধিদপ্তরের টিকা কর্মসূচির পরিচালক ডা. শামসুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত প্রচেষ্টায় ৩০ কোটি ডোজ টিকা আমরা সংগ্রহ করতে পেরেছি। প্রথম, দ্বিতীয় এবং বুস্টার ডোজ মিলিয়ে আমরা এখন পর্যন্ত ২৮ কোটি ৮৫ লাখ ডোজ টিকা দিতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের হাতে এখনো এক কোটি ৯৩ লাখ ডোজ টিকা মজুত আছে। এক্ষেত্রে প্রথম ডোজের জন্য আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ কোটি ২৯ লাখ মানুষ। সেখানে এখন পর্যন্ত প্রথম ডোজ পেয়েছেন ১২ কোটি ৯৬ লাখ মানুষ। যার ফলে এখনো প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ প্রথম ডোজ টিকা নেয়নি। একইভাবে দ্বিতীয় ডোজ এবং প্রথম ডোজের মধ্যে আমাদের পার্থক্য প্রায় ৯৪ লাখ। অর্থাৎ প্রথম ডোজ নিয়েছেন কিন্তু দ্বিতীয় ডোজ নেননি, এই মিলিয়ে হলো এক কোটি ২৭ লাখ।

শামসুল হক বলেন, আমাদের যারা এখনও টিকা গ্রহণ করেননি, তাদের টিকা কিন্তু আমাদের কাছে মজুত আছে। আমরা সেই টিকা সংগ্রহ করে প্রত্যেকটা মানুষ যেন টিকা পায় সেটা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া আছে, হাসপাতালগুলো তৈরি আছে, টিকা কেন্দ্র তৈরি আছে। কিন্তু এই প্রথম ডোজের ৩৩ লাখ এবং দ্বিতীয় ডোজের ৯৪ লাখ মানুষের জন্য যেই টিকা আছে, সেগুলোর মেয়াদ হলো নভেম্বর পর্যন্ত। এরপর সেগুলো আর দেওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু এখনও বড় একটা সংখ্যক মানুষ প্রথম ডোজ নেয়নি, সেক্ষেত্রে তাদের উচিত হবে এখনই প্রথম ডোজ নিয়ে নেওয়া। নিলে আমাদের প্রথম ডোজ সেপ্টেম্বরে প্রায় শেষ হয়ে যাবে। এখন আমরা এই বিষয়টার উপর গুরুত্ব দিচ্ছি। যে কারণে বলতে চাই যারা এখনো প্রথম ডোজ গ্রহণ করেননি, তারা দ্রুত নিয়ে নেবেন। এর এক মাস পর অবশ্যই দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে নেবেন।

বর্তমানে আমাদের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজের টিকা কার্যক্রম চলমান আছে। আপনারা যেকোনো জায়গায় রেজিস্ট্রেশন করে সেখান থেকে টিকা নিয়ে নিতে পারবেন, যোগ করেন এই কর্মকর্তা।

টিকা কর্মসূচির পরিচালক বলেন, শুধুমাত্র এই টিকা কার্যক্রমের জন্য বাংলাদেশে এখন সংক্রমণের হার অনেক কম। কিন্তু পৃথিবীর অনেক দেশে অসংখ্য মানুষ করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের টিকা গ্রহীতার হার বেশি হওয়ার কারণে সংক্রমণ কম হচ্ছে। যারা টিকা নিয়েছেন, তাদের মধ্যেও যদি কেউ আক্রান্ত হন, তাদের মারাত্মক অবস্থা তৈরি হচ্ছে না। সিভিয়ারিটি অনেক কম হচ্ছে। যে কারণে আমাদের হাসপাতালে ভর্তির হারও অনেক কম, মৃত্যুর হারও অনেক কম।

ডা. শামসুল হক বলেন, মৃত্যুর হার যদিও কম, তারপরও দেখা যাচ্ছে অন্যান্য রোগ নিয়ে যারা করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন এবং তাদের মধ্যে যারা মারা গেছেন তাদের হার হলো প্রায় ৩০ শতাংশ। এমনকি তারা কোনো ধরনের টিকা নেননি। দশ জন লোক যদি মারা যায়, সেখানে দেখা যাচ্ছে তিন জন লোক টিকাই নেয়নি।

নভেম্বরের মধ্যে যদি টিকা না নেয়, তাহলে কি প্রথম ডোজ বন্ধ হয়ে যাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তখন তো আমাদের হাতে প্রথম ডোজ, দ্বিতীয় ডোজের টিকা থাকবে না। আমাদের হাতে এই মুহূর্তে যেমন বুস্টার ডোজের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা আছে, এর জন্য পাইপলাইনে আরো টিকা আনার ব্যবস্থা করা আছে। এখন পর্যন্ত যাদেরকে আমরা টিকা দিয়েছি, তাদের মধ্যে প্রায় সাত কোটি লোক বুস্টার ডোজের জন্য উপযুক্ত হয়ে গেছেন।

প্রস্তুতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পরিচালক বলেন, টিকা কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত বুস্টারের টিকাও মজুত আছে। এখন যদি আমাদের কাছে কেউ আসে, তাকে আমরা বুস্টার ডোজও দিতে পারব, প্রথম-দ্বিতীয় ডোজও আমরা দিতে পারব। কিন্তু নভেম্বরের পর আমাদের হাতে আর প্রথম ডোজার টিকা থাকবে না। তখন আমরা শুধু বুস্টার ডোজই দেব।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com