August 19, 2026, 5:50 pm
দেশের সব ধরনের ব্যবসায়ীদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্নীতি, অদক্ষ প্রশাসন ও অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা। এই সমস্যা বড় ব্যবসায়ীদের তুলনায় ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য আরও বেশি। পাশাপাশি করোনার পরে যে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হচ্ছে সেটাও বৈষম্যমূলক।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক মতামত জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজস্ব কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জরিপের ফল প্রকাশ করে সিপিডি। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এ তথ্য উপস্থাপন করেন।
‘বাংলাদেশ ব্যবসায় পরিবেশ ২০২১ উদ্যোক্তা মতামত জরিপ’ শীর্ষক এ গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।
জরিপে বলা হয়, ব্যবসা করতে গিয়ে দুর্নীতিকেই প্রধান বাধা হিসেবে দেখছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। ১৬টি সমস্যার মধ্যে দুর্নীতিকে তারা রেখেছেন এক নম্বরে। দ্বিতীয় সমস্যা হিসেবে অদক্ষ প্রশাসনের কথা বলেছেন তারা। তৃতীয় হলো অর্থায়নের সীমিত সুযোগ।
দেশের ৭৩টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওপর চালানো হয়েছে এ জরিপ। যার মধ্যে উদ্যোক্তা ও বোর্ডের সদস্যরা রয়েছে। যাদের মূলধন ১০ কোটি টাকার ওপর শুধু সেই ব্যবসায়ীরাই এতে অংশ নিয়েছেন। জরিপের সময়কাল ছিল গত বছরের এপ্রিল থেকে জুলাই। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ফরিদপুর এলাকায় অবস্থিত কৃষি, সেবা ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১০টি সূচকের ওপর ভিত্তি করে জরিপ পরিচালনা করা হয়।
ফলাফলে আরও দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ ব্যবসায়ীই প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বলেছেন নানা ধরনের দুর্নীতির কথা। লাইসেন্স, কর এবং বিভিন্ন পরিষেবার জন্য আর্থিক লেনদেনে যেতে হয় তাদের। ৬৭ শতাংশ ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসার পথে অদক্ষ আমলাতন্ত্রকে দায়ী করেছেন। টাকা পাওয়ার সুযোগ সীমিত থাকার কথা বলেছেন ৫৫ শতাংশ ব্যবসায়ী। এর পর আছে অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, ঘন ঘন নীতি বদল ইত্যাদি। জরিপে ২৮ শতাংশ ব্যবসায়ী বলেছেন, করোনার প্রভাবে তাদের খরচ কমাতে হচ্ছে। খরচ কমাতে গিয়ে শ্রমিক ছাঁটাই করতে হচ্ছে।