July 27, 2026, 4:04 am
রাজধানীর বাইরে পূর্বাচলে চলছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। এবার ঢাকার বাইরে মেলা হওয়ায় ব্যবসায়ীরা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে এবারের মেলাও দারুণ জমজমাট হবে বলে মনে করছেন তারা। গত শুক্র ও শনিবার অবশ্য প্রমাণও পেয়েছেন তারা। মেলা শুরুর প্রথম শুক্রবারের জনসমাগম দেখে মুনাফার স্বপ্ন দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
রোববার (৯ জানুয়ারি) পূর্বাচলের বাণিজ্য মেলার ব্যবসায়ীরা তাদের স্বপ্নের কথা জানান।
বাণিজ্য মেলার এশিয়া প্যাসিফিক জোনের ম্যানেজার স্বপন বলেন, আমাদের মালিক শুরুতে খুবই শঙ্কিত ছিলেন। তবে গত শুক্রবারের চিত্রে স্বস্তি ফিরেছে। অন্যান্য দিনগুলোতে মানুষ সেভাবে না এলেও ছুটির দিনে দারুণ জমজমাট ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। তাছাড়া মেলা শুরুর প্রথম দিকে এরকমই পরিস্থিতি থাকে।
রাশেদ নামের একজন বলেন, আমি ফার্মগেট থেকে এসেছি। এখানে আসতে একটু বেগ পোহাতে হয়েছে। কারণ, কুড়িল থেকে আসার রাস্তাটি পুরোপুরি ঠিক হয়নি। প্রচুর ধুলাবালি। রাস্তার কাজ শেষ হলে খুবই দৃষ্টিনন্দন হবে এলাকাটি। তবে মেলায় এসে ভালো লাগছে। সবকিছু পরিপাটি, গোছানো। আমি আশা করছি এবারের বাণিজ্য মেলা দারুণ জমবে।
কার্পেট দোকানের নাঈম বলেন, গত শুক্র ও শনিবার জমজমাট ছিল মেলা। আগারগাঁওয়ের মতোই মেলা জমবে। কারণ প্রতিদিনই কমবেশি মানুষ মেলায় আসছে। ২০ জানুয়ারির পর থেকে মেলা দারুণ জমবে।
উল্লেখ্য, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৬তম আসরের পর্দা উঠেছে নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে। পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিবিসিএফইসি) এ মেলা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে এই মেলার আয়োজন করে আসছে। তবে এবারই প্রথম স্থায়ী মেলা কমপ্লেক্সে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলে। প্রবেশ মূল্য বড়দের জন্য ৪০ ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা।
সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল থেকে মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত বিআরটিসি ডেডিকেটেড সার্ভিসের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বাণিজ্য মেলা পর্যন্ত ৩০টি স্পেশাল বাস চলছে। ভাড়া জনপ্রতি ৩০ টাকা। মতিঝিল ও মিরপুর থেকে মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত বিআরটিসি বাস চলবে।
বাণিজ্য মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট ২৩টি প্যাভিলিয়ন, ২৭টি মিনি প্যাভিলিয়ন, ১৬২টি স্টল এবং ১৫টি ফুড স্টল দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা অন্য বছরের তুলনায় অর্ধেক। মেলায় মাত্র ১১টি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি স্টল থাকবে। মেলা কমপ্লেক্সের বাইরে প্যাভিলিয়ন, মিনি প্যাভিলিয়ন ও ফুড স্টলও রয়েছে।