August 20, 2026, 6:30 am
বিশ্বের যে কোনো দেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা পেলে তারা ধীরে ধীরে বৃহৎ কোম্পানিতে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার মো. আব্দুল হালিম।
বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসএমই প্লাটফর্মে যোগ্যতা সম্পন্ন বিনিয়োগকারী নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং ট্রেডিং পদ্ধতি বিষয়ক এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
বিএসইসি কমিশনার বলেন, ডিএসইর এসএমই প্লাটফর্মে কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্তির মাধ্যমে সেগুলো ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ পাবে। এছাড়া, দেশে অনেক কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর রয়েছে। কিন্তু এসএমই প্লাটফর্মে মাত্র ৮টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত আছে। তালিকাভুক্তির সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য এসএমই উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এসএমই উদ্যোক্তাদের মেধা ও কোয়ালিফাইড ইনভেস্টরদের অর্থের সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এ খাতের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। এর ফলে এসএমই খাত আরও বেশি গতিশীল হবে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর পরিচালক অধ্যাপক ড. এ. কে. এম মাসুদ এবং ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট শরীফ আনোয়ার হোসেন।
কর্মশালায় ডিএসইর পরিচালক ড. এ. কে. এম মাসুদ বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে এসএমই খাতের গুরুত্ব অপরিসীম৷ বাংলাদেশে এসএমই খাতের অর্থায়নের উৎস ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং খাত ৷ মূলত ব্যাংক নির্ভর অর্থায়নের ফলে এসএমই খাতের পরিচালন ব্যয় যেমন বাড়ছে তেমনি ঋণ-মূলধনের অনুপাতের অসামঞ্জস্যতাও বাড়ছে৷
তিনি বলেন, উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক স্বল্পমূলধনী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷ সম্ভাবনাময় এই প্রতিষ্ঠানসমূহ শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখছে৷
এসএমই খাতকে অধিকতর গতিশীল করতে ডিএসই বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জানিয়ে ডিএসইর পরিচালক বলেন, এর মধ্যে এসএমই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন ফি কমানো, বিভিন্ন ধরনের সভা সেমিনারের মাধ্যমে এসএমই উদ্যোক্তাদের শেয়ারবাজারমুখী করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷ এছাড়াও প্রয়োজনীয় আইনি সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন কর্মশালা অব্যাহত রয়েছে৷ আর এ সবই করা হচ্ছে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও পেশাদার বিনিয়োগকারী তৈরি করার জন্য৷ ডিএসই এই খাতের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে।
ডিবিএর প্রেসিডেন্ট শরীফ আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে নতুন কোম্পানিগুলো এসএমই প্লাটফর্মের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে অবগত হবে। আগামীতে এ ধরনের আরও কর্মশালা আয়োজনের জন্য ডিএসইর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এর ফলে এসএমই প্লাটফর্ম আরও গতিশীল হবে।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার। তিনি বলেন, ডিএসই এসএমই প্লাটফর্মে বর্তমানে নতুন ৪টি কোম্পাানি ও ওটিসি মার্কেট থেকে আসা ৪টি কোম্পানিসহ মোট ৮টি কোম্পানি রয়েছে। ডিএসই এসএমই প্লাটফর্মকে আরও গতিশীল করার জন্য কাজ করছে। বর্তমানে এসএমই উদ্যোক্তাদের ও বিনিয়োগকারীদের কিছু ধারণাগত পার্থক্য রয়েছে। আর তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের জন্য এই ধরনের কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে। এছাড়াও ডিএসই বন্ড মার্কেটের উন্নয়নের জন্যেও কাজ করে যাচ্ছে।
ডিএসই ট্রেনিং একাডেমির প্রধান ও সিনিয়র ম্যানেজার মুহাম্মদ রনি ইসলামের সঞ্চালনায় কর্মশালার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লিস্টিং অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ম্যানেজার মো. রবিউল ইসলাম।