August 24, 2026, 5:00 am

ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি পরিশোধে ভোগান্তি

ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি পরিশোধে ভোগান্তি

করোনা মহামারি চলছে। চলাফেরায় বিধিনিষেধ আরোপ করে শাটডাউন দিয়েছে সরকার। এই মুহূর্তে কী করে ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি পরিশোধ করব? বের হলেই তো রাস্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলে জবাবদিহি করতে হবে। হেনস্তার শিকার হতে হবে। কিন্তু সময়মতো কিস্তি জমা না দিলেও আছে জরিমানার খড়্গ।’

আক্ষেপের সুরে এসব কথা জানান বেসরকারি একটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী আতিয়া খানম।
তিনি বলেন, শুক্র ও শনিবারের পর রোববারও ব্যাংক বন্ধ ছিল। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে নির্দেশনা দিয়েছে, তাতে কোন শাখা খোলা, সেটা জানেন না তিনি। এখন বিল কীভাবে দেবেন, সেটা ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না। কারণ সপ্তাহে মাত্র সোম, মঙ্গল আর বৃহস্পতিবার ব্যাংকের শাখা খোলা।

এ সময়ে হাতে নগদ টাকা না থাকলেও ক্রেডিট কার্ড হয়ে উঠছে নাগরিকদের কাছে নগদ টাকা। চাহিদামতো দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিমানের টিকিট ক্রয়, দেশে ও বিদেশে হোটেল-রেস্তোরাঁর বিল পরিশোধ—সবই হচ্ছে এ ক্রেডিট কার্ড দিয়ে। সময়মতো বিল পরিশোধ করলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কিস্তি না দিলেই গুনতে হবে চড়া জরিমানা।

গত বছর করোনা সংক্রমণ ধরা পড়লে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর লম্বা একটা সময় ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি পরিশোধে ছাড় দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর চলতি বছর ৫ এপ্রিল এক সপ্তাহের লকডাউন চলাকালে ক্রেডিট কার্ডধারীদের বিল পরিশোধে ভোগান্তির বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিবেচনায় রাখলেও এরপর দফায় দফায় শাটডাউনে সেটি নিয়ে ভাবা হয়নি। সময়মতো বিল পরিশোধ না করা হলে জরিমানা না নেয়ার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি।

কঠোর বিধিনিষেধে ব্যাংকের সব শাখাও খোলা থাকবে না। সব ব্যাংকের বুথে টাকা জমা দেয়ার পদ্ধতিও নেই। ফলে এবার সময়মতো বিল পরিশোধ করতে না পারলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

ক্রেডিট কার্ডের বিল জমা দেয়ার কোনো একক তারিখ নেই। একেকজনের ক্ষেত্রে এটি একেক রকম। তবে নির্ধারিত সময়ে বিল দিতে না পারলে সেখানে বিলম্ব ফি ছাড়াও উচ্চ হারে সুদ গুনতে হয়। এ কারণে গ্রাহকরা কার্ডের বিল সময়মতো পরিশোধে জোর দিয়ে থাকেন।

ক্রেডিট কার্ডের বিল অনলাইনেও জমা দেয়া যায়। তবে সবাই অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবহার করেন না। তারা ব্যাংকে গিয়েই টাকা পরিশোধ করেন।

পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএস) বিকাশের মাধ্যমে সহজেই কার্ডের বিল পরিশোধ করা গেলেও সবাই সেটা বোঝেন না। দেশে ইস্যু হওয়া ভিসা ও অ্যামেক্স ব্র্যান্ডের সব ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ করা যাবে বিকাশের মাধ্যমে। এর বিপরীতে গ্রাহকদের অতিরিক্ত ১ শতাংশ মাশুল গুনতে হবে।

এবার শাটডাউন নামে পরিচিতি পাওয়া কঠোর বিধিনিষেধে সরকার অনেক কঠোর। মানুষকে ঘরে রাখতে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী। যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া বের হওয়ায় মানুষকে আটক করা হয়েছে।

এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়ে দিয়েছে, বিধিনিষেধ চলাকালে শুক্র ও শনিবারের পাশাপাশি ব্যাংক বন্ধ থাকবে রোববার ও বুধবার। বাকি দিন সবগুলো শাখা খুলবে না। প্রতিটি ব্যাংক প্রয়োজন অনুসারে শাখা খোলা রাখতে পারবে।

ক্রেডিট কার্ডের বিল সময়মতো দিতে না পারলে জরিমানার পাশাপাশি অনেক বেশি হারে সুদ দিতে হয়। ব্যাংকে সুদহার ৯ শতাংশ হলেও কার্ডের সুদ ২০ শতাংশ পর্যন্ত আছে।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আরিফুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে আয় কমে গেছে। কোম্পানি বন্ধ থাকার কারণে লোকসান গুনতে হবে। সামনে অবস্থা আরও খারাপ হবে কি না, বুঝতে পারছি না। সংসার চালাতে গত মাসে ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা ঋণ নিয়েছি। এই মুহূর্তে কিস্তি দেয়া সম্ভব নয়। বিলম্ব ফি ও চক্রবৃদ্ধি সুদ আরোপ হলে আর্থিক সংকটে পড়তে হবে।’

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com