August 23, 2026, 2:22 pm
সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের জন্য বর্তমান সরকার বা কোনো ব্যক্তি দায়ী নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি এক ধরনের প্রাকৃতিক সংকটও দেখা দিয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নবনিযুক্ত রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে সঙ্গে নিয়ে সমাধি প্রাঙ্গণে যান রিজভী।
গ্যাস সংকটের কারণ ও পরিস্থিতি
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, মহেশখালীর গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহকারী টার্মিনালে ত্রুটির কারণে গত কয়েক দিন গ্যাসের চাপ কমে যায়। এতে বিভিন্ন এলাকার কারখানা বন্ধ হয়ে যায় এবং বাসাবাড়িতে রান্নার ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
তিনি বলেন, মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালের ত্রুটি ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ মেরামত করা হয়েছে। এলএনজির কার্গোও এসে পৌঁছেছে এবং সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ আবার বেড়েছে এবং লোডশেডিংও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
রিজভীর দাবি, সংকট দ্রুত নিরসনে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না। তবে এর মধ্যেও বিভিন্ন চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র হয়েছে। সরকার এসব শনাক্ত করে প্রতিহত করেছে। একই সঙ্গে জনকল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
‘জনকল্যাণে কাজ করছে সরকার’
বর্তমান সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, একটি সরকার তখনই সফল হয়, যখন সে আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে মনোনিবেশ করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারও জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, অনেক সংকটের মধ্য দিয়ে গেলেও সরকার তার কর্মকাণ্ডে সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছে। নির্বাচনের আগে দলের চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। সেই প্রচেষ্টা এখন দৃশ্যমান।
সরকারের কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা থাকবে
রিজভী বলেন, সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতা থাকবে। এই জবাবদিহি সংসদে, দলের নেতা-কর্মীদের কাছে এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমেও হতে পারে। সরকার ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বর্তমান সরকারকে জনকল্যাণমুখী সরকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের পাশাপাশি সব ধরনের দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। অতীতে, বিশেষ করে ‘ফ্যাসিস্ট আমলে’, মেগা প্রকল্পের নামে ‘মেগা দুর্নীতি’ হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ করে সরকার এখন প্রকৃত উন্নয়ন করছে।
সংগঠন শক্তিশালী করাই অগ্রাধিকার
দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে অগ্রাধিকার সম্পর্কে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, তার প্রধান দায়িত্ব হলো সংগঠনকে শক্তিশালী করা। একই সঙ্গে নেতা-কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনে বিদ্যমান বা ভবিষ্যতে দেখা দিতে পারে এমন ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করার বিষয়টি দেখভাল করা।
তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। এ কাজে দলের সহকর্মীরা সহযোগিতা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, যেসব কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেসব কমিটিতে নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা দেওয়া হবে। যথাসময়ে এসব কমিটির সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও জানান, কেউ কোনো পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও পুরোপুরি সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন না। বরং তার ‘ঊর্ধ্বমুখী অগ্রগতি’ হবে এবং তাকে বিএনপি বা দলের অন্য কোনো সংগঠনে উচ্চতর পদ ও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
ইএটি
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.