May 26, 2026, 12:05 pm
চারটি পণ্য নিয়ে ২০০৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়া ওয়ালটন দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের ৪০টি দেশে। ১৯৭৭ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি গত বছর ফ্রিজ বিক্রি করেছে মোট ২০ লাখ ৪০ হাজারটি। রাজধানী ঢাকা থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে গাজীপুরের চন্দ্রায় সাড়ে ৭০০ একরেরও বেশি জায়গায় গড়ে উঠেছে ওয়ালটন গ্রুপের সুবিশাল কারখানা। বিভিন্ন পর্যায়ে ২৫ হাজারের বেশি কর্মী এই উৎপাদনমুখী শিল্পে শ্রম দিচ্ছেন। পরিবেশবান্ধব করে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কারখানা এলাকা।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গুণগতমান বজায় রেখে দ্রুতই বিশ্বমানের কোম্পানি হিসেবে গড়ে ওঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক (মার্কেটিং বিভাগ) হুমায়ুন কবির।
পুঁজিবাজার বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) সদস্যদের কোম্পানিটির চন্দ্রা কারখানা পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানান তিনি।
এ সময় কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ আলমগীর আলম সরকার, কোম্পানি সচিব প্রার্থ প্রতিম দাস, মিডিয়া উপদেষ্টা এনায়েত ফেরদৌস, সিএমজেএফের সভাপতি হাসান ইমাম রুবেল, সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেনসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কোম্পানির তথ্যানুযায়ী, তরুণ ব্যবসায়ী মরহুম এসএম নজরুল ইসলামের হাত ধরেই এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু। ১৯৯৪ সালে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবসা সম্প্রসারিত হয়। মূলত ইলেকট্রনিক্স ব্যবসা দিয়েই ১৯৯৪ সালে বড় পরিসরে নামে তারা। ১৯৯৭ সালে প্রথম ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য উৎপাদন শুরু করেন। ওয়ালটন ব্র্যান্ডের নামে ব্যবসা শুরু হয় ১৯৯৯ সালে। ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৫ সালে। ২০০৭ সালে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয় ২০০৮ সালে। ২০১০ সালে মোবাইল ফোন এবং ২০১১ সালে এয়ারকন্ডিশনার বিক্রি শুরু করে ওয়ালটন।
ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ দশমিক ৫৩ শতাংশ শেয়ার ছেড়ে ২০২০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানটি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজার থেকে শত কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। এই টাকার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং ৩৩ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছে কোম্পানটি। কোম্পানি সর্বশষে অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, দেশের পাশাপাশি বিদেশেও ওয়ালটনের ফ্রিজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গত বছর ২০ লাখ ৪০ হাজার ফ্রিজ বিক্রি করেছি। করোনার কারণে বিক্রিতে কিছুটা অসুবিধা হলেও আমাদের পণ্যের চাহিদা ছিল অনেক বেশি। আর
ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক উদয় হাকিম বলেন, ওয়ালটন হাইটেক পার্ক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। সাধারণ মানুষের মালিকানা আরো বাড়াতে ওয়ালটনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ডিজিটেক ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড ও মার্সেলকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করব।
কর্মকর্তারা বলছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি কোম্পানির তালিকায় প্রবেশ করবে ওয়ালটন। এই লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের নামীদামি অনেক কোম্পানি ওয়ালটনের কাছ থেকে ইলেক্ট্রিক পণ্য তৈরি করছে। উৎপাদিত পণ্যের মান আন্তর্জাতিক মানের হওয়ায় তারা ওয়ালটনের কাছে আসছে পণ্য তৈরিতে।
উল্লেখ্য, ওয়ালটন হাইটেক পার্ক রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার, কম্প্রেসার, টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার, কম্পিউটার ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, হোম ও অ্যাপ্লায়েন্স, ইলেকট্রিকাল অ্যাপ্ল্যায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল সলিউশনস, হার্ডওয়্যার, এলিভেটর ও ক্যামিক্যালসহ নানা ধরনের পণ্য উৎপাদন করে বিক্রি করছে।