May 30, 2026, 9:28 pm

বিদেশফেরত অভিবাসীদের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বেড়েছে: আইওএম

বিদেশফেরত অভিবাসীদের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বেড়েছে: আইওএম

সরকার দেশব্যাপী লকডাউন প্রত্যাহারের পরের মাসগুলোতে ফিরে আসা আভিবাসীরা চাকরি খুঁজে পেতে সক্ষম হন। এর ফলে স্বাস্থ্য এবং মনো-সামাজিক সমস্যা কমেছিল এবং উন্নত হয়েছিল পরিবারিক পর্যায়ে খাদ্য সুরক্ষা। তবে অভিবাসীদের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

আইওএম-এর গবেষণায় দেখা গেছে, অভিবসাীদের ঋণের বোঝা বৃদ্ধি পেয়েছে, ঋণ পরিশোধে তারা টাকা ধার করেছেন এবং স্বাস্থ্য খাতে তাদের ব্যয়ের পরিমাণ  কমাতে হয়েছে।

আইওএম-এর ‘র‌্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট রাউন্ড-২: নিডস অ্যান্ড ভালনারেবিলিটিস অব ইন্টার্নাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল রিটার্ন মাইগ্র্যান্টস ইন বাংলাদেশ’  শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশের ১২টি উচ্চ অভিবাসন প্রবণ জেলায়  দ্বিতীয় দফায় এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়।  ২০২০ সালের আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৫৮৪ জন অভিবাসী এতে অংশ নেন। এর মধ্যে ৮৭৫ জন বিদেশফেরত ও ৭০৯ জন অভ্যন্তরীণ অভিবাসী।  প্রথম দফায় ২০২০ সালের জুন মাসে ২ হাজার ৭৬৫ জনের ওপর গবেষণা করা হয়েছিল। এতে দ্বিতীয় ধাপের সবাই ছিলেন।

গবেষণার ফলাফল অভিবাসন নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিবাসীদের ওপর কোভিড-১৯ এর প্রভাব, পুনঃরেকত্রীকরণে সমস্যা এবং পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়গুলো বুঝতে সহযোাগিতা করবে বলে আইওএম জানিয়েছে।

গবেষণার ফলাফল বলছে, দ্বিতীয় ধাপে বিদেশফেরত অভিবাসীদের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ২০ ভাগ বেড়েছে প্রথম ধাপের চেয়ে। প্রথম ধাপের গবেষণায় এই হার ছিল ৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে যা দাঁড়ায় প্রায় ৭১ শতাংশে। বিদেশফেরত অভিবাসীদের চ্যালেঞ্জগুলো হলো- চাকরি খুঁজে পেতে সমস্যা (৪৭ শতাংশ), অর্থনেতিক সমস্যা (২৯ শতাংশ), এবং লোন পরিশোধের বোঝা (২১ শতাংশ)। দ্বিতীয় ধাপের জারিপে দেখা যায়, উত্তরদাতের বেকরত্বের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৬৪ শতাংশ, যা আগের ধাপে ছিল ৭৪ শতাংশ।  মূলত লকডাউন তুলে দেওয়া, সাধারণ কর্মকাণ্ড উন্মুক্ত হওয়া এবং অন্যান্য বিধি-নিষেধ উঠে যাওয়ায় বেকারত্বের হার কমেছে।  তারপরও গবেষণায় অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের মধ্যে বেকারত্ব বেশি ছিল।

প্রথম ধাপের প্রতিবেদনে যেখানে বিদেশফরত অভিবাসীদের ৭০ শতাংশ তিন বেলা খেতে পারতেন, দ্বিতীয় ধাপে তা ১৮ শতাংশ বেড়ে ৮৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।  আর অভ্যন্তরীণ অভিবাসীদের এই হার ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৯২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, কোভিড-১৯ এর কারণে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবেলায় সরকারি সাহায্যের জন্য আবেদন করতে চেয়েছেন ৬০ শতাংশ বিদেশফেরত অভিবাসী। আর অভ্যন্তরীণ অভিবাসীদের এই হার ৩৯ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক উভয় অভিবাসীরা বলেছেন, টাকা ধার করা, খরচ কমানো, এবং অর্থ সহয়তার ওপর তারা নির্ভরশীল ছিলেন অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান ও ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে।  অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবিলায় টাকা ধার করা বা অতিরিক্ত ঋণ নিয়েছেন এমন অভিবাসী ৫০ শতাংশ (আন্তর্জাতিক অভিবাসী) এবং ৭১ শতাংশ (অভ্যন্তরীণ অভিবাসী)। বিদেশফেরত অর্ধেকেরও বেশি অভিবাসীরা বলেছেন, তাদের প্রত্যেকের এক লাখ টাকার উপরে ঋণ আছে এবং ২৮ শতাংশ বলেছেন তাদের ঋণ আছে দুই লাখ টাকার উপরে।  ৫৮ শতাংশ আন্তর্জাতিক ও ৫৩ শতাংশ অভ্যন্তরীণ অভিবাসী বলেছেন, তাদের ঋণের পরিমাণ  ২০২০ সালের জুনের চেয়ে সেপ্টেম্বর মাসে বেড়েছে।

বিজনেস নিউজ/এসআর

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com