May 26, 2026, 2:19 am
ইসলামী শরীয়াহ ভিত্তিক সিকিউরিটি ‘সুকুক’ ইস্যুর মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন সারাদেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প যথাযথ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং করবে সরকার।
ইসলামী শরীয়াহ ভিত্তিক সিকিউরিটি ‘সুকুক’ ইস্যুর মাধ্যমে অর্থায়ন করার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক ৮,৮৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ‘ সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প ’ – টি নির্বাচন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতােমধ্যে ৫ (পাঁচ) বছর মেয়াদি চার হাজার কোটি টাকার সুকুক ইস্যু করা হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরাে ৪০০০ ( চার হাজার ) কোটি টাকার সুকুক ইস্যু করা হবে।
তৎপ্রেক্ষিতে সুকুক গাইডলাইন, ২০২০ অনুযায়ী ইতােমধ্যে উক্ত প্রকল্পের অধীন বিদ্যমান ও ভবিষ্যতে অস্তিত্বশীল হবে এরূপ সমপরিমান সম্পদের মালিকানা ও ভােগস্বত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীন গঠিত স্পেশাল পারপাস ভেহিকল (এসপিভি) ‘র বরাবর Assign করা হয়েছে।
জানা গেছে, সুকুকের মেয়াদপূর্তিতে আলােচ্য ইজারা সুকুকের অভিহিত মূল্য ও ভাড়া পরিশােধ হওয়ার পর এসপিভির নিকট থেকে উক্ত সুকুকের বিপরীতে Assign কৃত সম্পদ সরকারের নিকট প্রত্যর্পণ করবে।
প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী যথাসময়ে ও যথাযথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে প্রতিবছর বাজেট প্রণয়নকালে অর্থ বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনের সাথে আলােচনাক্রমে প্রকল্পের অনুকূলে প্রয়ােজনীয় অর্থের বরাদ্দ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সুকুক’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ হচ্ছে সিলমোহর লাগিয়ে কাউকে অধিকার ও দায়িত্ব দেওয়ার আইনি দলিল। তবে প্রচলিত বন্ড ও ‘সুকুক’ বন্ডের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। প্রচলিত বন্ড সুদভিত্তিক হওয়ায় তা শরিয়াহসম্মত নয়। আর ‘সুকুক’ হচ্ছে এমন একটি বিনিয়োগ, যাতে সম্পদের ওপর মালিকানা দেওয়ার নিশ্চয়তা থাকে। সাধারণত সুকুকধারীরা সম্পদের মালিকানা লাভ করেন এবং মুনাফা পান।
শরিয়াহভিত্তিক বন্ড নিয়ে গত ৮ অক্টোবর নীতিমালা জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। ‘বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ সুকুক গাইডলাইন ২০২০’ শীর্ষক ওই নীতিমালা গত ২১ অক্টোবর সার্কুলার আকারে জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ বিভাগের মধ্যে বাজারে ‘সুকুক’ বন্ড ছাড়ার বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়। আর গত ২৮ ডিসেম্বর এই সুকুক বন্ড চালু হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এখন থেকে প্রচলিত ট্রেজারি বিল ও বন্ড এবং সঞ্চয়পত্রের পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক এই বন্ডও হবে সরকারের অর্থ সংগ্রহের নতুন একটি উৎস, যে অর্থ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হবে।
সরকারের সুবিধা : বাজেটে ঘাটতি মেটাতে এত দিন সরকার শুধু প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিতে পারত। অথচ দেশের এক-তৃতীয়াংশ ইসলামী ব্যাংকিং। শরিয়াহভিত্তিক উপকরণ না থাকায় সেখান থেকে কোনো ঋণ নিতে পারছিল না সরকার। ইসলামী বন্ডের কল্যাণে এখন সেখান থেকেও ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো। এতে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আসার পাশাপাশি প্রচলিত ধারার ব্যাংকের ওপর সরকারের নির্ভরতা কমবে। সেই সঙ্গে ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও কমবে।
বিজনেস নিউজ/এসআর