July 26, 2026, 1:57 am
চলতি অর্থবছরের সাড়ে ছয় মাসেই এক হাজার ৪০২ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত অর্থবছরে আসা মোট রেমিটেন্সের ৭৭ শতাংশের বেশি।
নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারির ১৪ দিনেই ৯ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা রেমিটেন্স এসেছে দেশে। গত কয়েক মাসের মত জানুয়ারি মাসেও রেমিটেন্সের পরিমাণ ২০০ কোটি ডলার ছাড়াবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ১ থেকে ১৪ জানুয়ারির মধ্যে মোট ১০৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের রেমিটেন্সে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। টাকার অংকে প্রায় ৯ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। যা গত বছরের জানুয়ারির একই সময়ের চেয়ে ৪১ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি।
গত বছরের এই ১৪ দিনে ৭৬ কোটি ৪৬ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছিল। আর পুরো অর্থবছরে মোট ১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা। ওই অঙ্ক ছিল আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি।
২০২০ সালের প্রায় পুরোটা সময় করোনাভাইরাসের মহামারীতে অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে পার করতে হয়েছে বিশ্বের প্রায় সব দেশকে, সেই সঙ্কট এখনও কাটেনি।
বিশ্ব ব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছিল, মহামারীর ধাক্কায় ২০২০ সালে দক্ষিণ এশিয়ার রেমিটেন্স ২২ শতাংশ কমবে, বাংলাদেশে কমবে ২০ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। ভারতে রেমিটেন্স ৩২ শতাংশ কমে গেলেও বাংলাদেশে বেড়েছে ১৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০২০ সালের শেষ মাস ডিসেম্বরে ২০৫ কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের চেয়ে ২১ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি।
চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসেই ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স দেশে এসেছে। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স এসেছিল দেশে, যা এক মাসের হিসাবে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।
দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা এক কোটির বেশি বাংলাদেশির পাঠানো এই অর্থ। দেশের জিডিপিতে সবমিলিয়ে রেমিটেন্সের অবদান ১২ শতাংশের মত।
রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে গত অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার।
বিজনেস নিউজ/এমআরএম