May 25, 2026, 12:15 am
রেমিট্যান্স নিয়ে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে বলেছিল, ২০২০ সালে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় কমে এক হাজার ৪০০ কোটি ডলার হবে। এই আয় গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ কম। অথচ ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অভিবাসী শ্রমিকেরা ১৯.৬৯ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারা অব্যাহত থাকলে গত বছরের তুলনায় রেমিট্যান্স এর পরিমাণ ১৭.০৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ২০১৯ সালে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৮.৩৩ বিলিয়ন ডলার।
আজ মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (রামরু) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসনের গতি-প্রকৃতি ২০২০ সাফল্য ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনলাইনে এসব তথ্য তুলে ধরেন রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এ বছর রেমিট্যান্স বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। নভেম্বর পর্যন্ত রিজার্ভের পরিমা ৩৯.৬৫ বিলিয়ন ডলার যা গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল ৩৮.৫০ বিলিয়ন ডলার। সুতরাং বিশ্বব্যাংকের এই পূর্বাভাস বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হয়নি। করোনার প্রভাবে এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই নিম্নমুখী ছিল রেমিট্যান্সের ধারা। মার্চ ও এপ্রিলেও বড় বিপর্যয় ঘটে রেমিট্যান্সে।
তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে অনেক অভিবাসীকে দেশে ফেরত আসতে হচ্ছে। তারা তাদের সঞ্চয় দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। কারণ, সঙ্গে করে বেশি টাকা আনা যায় না। বিদেশে থাকা অনেকে সঞ্চয় ভেঙে টাকা দেশে পাঠাচ্ছেন। করোনা বন্যা কারণে সংকটকালীন সময়ে অনেকে টাকা পাঠাচ্ছেন। অনেকে সংকটে থাকলেও ঈদের টাকা পাঠিয়েছেন। বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। সে অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে ২ টাকা প্রণোদনা পাচ্ছেন। বাজেটে এজন্য ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত করে অনেক ব্যাংক আরও ১ শতাংশ বেশি প্রণোদনা দিচ্ছে। বৈধপথে রেমিট্যান্স বাড়ছে বলে এটা ভাবার কোনও কারণ নেই যেসব অভিবাসীই ভালো আছেন। আগামী বছর রেমিট্যান্সের প্রবাহ অন্যরকম হতে পারে। এই বছর লোক যেতে না পারার কারণে আগামী বছরের রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
করোনার কারনে অভিবাসন খাত বিশেষ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। ২০২০ সালের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮২ জন বাংলাদেশি কর্মী উপসাগরীয় ও অন্যান্য আরব দেশ এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অভিবাসন করেছেন। এদের অধিকাংশই এবছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিদেশে গিয়েছিলেন। জানুয়ারি হতে মার্চ পর্যন্ত তাদের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮১ হাজার ২১৮ জন। বিশ্বে লকডাউনের কারণে এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে কোন অভিবাসন হয়নি। অক্টোবর থেকে শুধু যারা ছুটিতে এসে আটকে পড়েছিলেন এমন ২ হাজার ৪৬৪ জন অভিবাসী নির্দিষ্ট কিছু দেশে ফিরে গেছেন।
বিজনেস নিউজ/এমআরএম