August 24, 2026, 6:15 am
ব্যাংকের শিল্প খাতের ঋণ বিতরণেও আঘাত হেনেছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। অর্থনীতির অন্যান্য সূচকগুলোর মতই শিল্প ঋণ বিতরণ, আদায় এবং শ্রেণিকরণের দৌঁড় এখন পেছনের দিকে। চলতি বছরের মার্চের তুলনায় জুন প্রান্তিকে শিল্পখাতে বিতরণকৃত ঋণ কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ। গত বছরের জুন প্রান্তিকের তুলনায় বিতরণ কমেছে ৩৫ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি কয়েক বছর থেকেই কমে আসছে বেসরকারি খাতের ঋণ বিতরণ। নতুন করে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছেন না কেউ। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে এর পরিমাণ তলানিতে ঠেকেছে। শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ কমে যাওয়া তারই একটি প্রভাব।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে মোট ৭৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকার শিল্পঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংক। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। গত বছরের (২০১৯) একই সময়ে এই খাতের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। তবে চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিকে ৯১ হাজার ৬৬২ কোটি টাকার শিল্পঋণ বিতরণ করে ব্যাংক। সেই তুলনায় তিন মাসের ব্যবধানে জুন মাস শেষে ১৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ শিল্পঋণ বিতরণ কমেছে ব্যাংকিংখাতের।
অন্যদিকে পূর্বে বিতরণকৃত শিল্প ঋণ আদায়ের পরিমাণ কমেছে ৩০ শতাংশ। বছরের ব্যবধানে ৯১ হাজার ৯১৩ কোটি থেকে ৬৪ হাজার ১৩৫ কোটিতে নেমেছে আদায়। তবে মার্চ প্রান্তিকের তুলনায় জুন শেষে আদায় কমেছে প্রায় ১৮ ভাগ।
আলোচ্য সময়ে ব্যাংকের শিল্পখাতে বিতরণকৃত ঋণের খেলাপিও কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে ৫৭ হাজার ২০১ কোটি থেকে ৪৫ হাজার ৩২৮ কোটিতে নেমেছে খেলাপি ঋণ। তবে মার্চের তুলনায় খুব একটা কমেনি খেলাপি। তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি কমেছে মাত্র ৫০৪ কোটি টাকা। যা আগের তিন মাসের তুলনায় ১ দশমিক ১০ ভাগ।
প্রসঙ্গত, করোনার প্রভাব মোকাবিলায় বড় শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কম সুদে ও সহজ শর্তে চলতি মূলধনের জোগান দিতে ১২ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা দেয়। এর আওতায় সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তাদের সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার কথা বলা হয়। এ ঋণের মোট সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। বাকি সাড়ে ৪ শতাংশ ভর্তুকি হিসেবে দেবে সরকার। এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ দিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তহবিলের জোগান দিতে ২৩ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৫ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে।
এ তহবিল থেকে ওই প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ দিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৫০ শতাংশ অর্থের জোগান দেওয়া হবে। অর্থাৎ কোনো গ্রাহককে ১০০ কোটি টাকা ঋণ দিলে এর মধ্যে ৫০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক জোগান দেবে এবং বাকি ৫০ কোটি টাকা দেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক সুদ নেবে ৪ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার প্রভাব থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে দ্রুত ঋণ বিতরণ করতে হবে। শিল্প খাতসহ সংশ্লিষ্ট সব অর্থনৈতিক খাতকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু ঋণ বিতরণ বাড়ানো যাচ্ছে না। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একের পর এক শর্ত শিথিল করে যাচ্ছে।
১২ এপ্রিল জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছিল, প্যাকেজের মেয়াদ হবে তিন বছর। কিন্তু তা সুনির্দিষ্ট করা ছিল না। পরবর্তীতে অন্য একটি সার্কুলার এর মাধ্যমে এর মেয়াদ সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের ৪ আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের ৩ আগস্ট পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যেই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আলোচ্য প্যাকেজের আওতায় বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে হবে এবং পরিশোধ করতে হবে।