June 5, 2026, 12:57 am

সরকার দেশকে কৃষি থেকে শিল্পায়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে

সরকার দেশকে কৃষি থেকে শিল্পায়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার আজ দেশকে কৃষি থেকে শিল্পায়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। দেশে শিল্পায়নের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে একটি সমৃদ্ধ উন্নত দেশে রূপান্তর করতে চেয়েছেন। কিন্তু ২০৪১ সাল নয়, তার আগেই এদেশ সেই লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে। ’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার ও ডিজেলের দাম কমিয়েছেন, বাড়িয়েছেন কৃষকের ধানের দাম। তাই আমাদের দেশের কৃষকরা আবার নতুন করে আউশ-আমন ধান চাষ করতে শুরু করেছেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মেহেরপুর জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আউশ ধান কাটা শুরুর ভার্চ্যুয়াল উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মুনছুর আলম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন জনপ্রশান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন দোদুল।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার কালাচাঁদপুর মাঠে কৃষকের আউশ ধান কাটার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আব্দুর রাজ্জাক আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, এদেশ হবে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত একটি সমৃদ্ধ ও শান্তির সোনার বাংলাদেশ। তার তনয়া শেখ হাসিনা ১২ বছর ক্ষমতায় থেকে অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। যা সারা পৃথিবীতে প্রশংশিত হচ্ছে। সামাজিক উন্নয়ন, ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন, পদ্মাসেতু, আইসিটি, রাস্তা-ঘাট, ফোর লেন রাস্তা, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। দেশের উন্নয়নের সব চেয়ে বড় বাধা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। প্রধানমন্ত্রী সে ক্ষেত্রেও সাফল্য এনেছেন। ২০৪১ সালের আগে দেশকে একটি উন্নত এবং সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তর করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। ’

নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলের মঙ্গা কবলিত এলাকাগুলোতে সেই মঙ্গা এখন আর নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ আর আগের মতো না খেয়ে থাকে না। তারা দু’বেলা দু’মুঠো ভাত খেতে পায়। কৃষির আধুনিকায়ন ও বাণিজ্যকীকরণ এখন কৃষি মন্ত্রণালয়ের বড় চ্যালেঞ্জ। রোদ-বৃষ্টি সহ্য করে শরীরের ঘাম ঝরিয়ে যে কৃষক ফসল ফলাচ্ছেন, তাদের সে ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত এবং কৃষক ও তাদের ছেলে-মেয়েরা যাতে লেখাপড়া শিখে উন্নত জীবন যাবন করতে পারেন, সে ব্যবস্থা করাই হবে মূল লক্ষ্য।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিরুজ্জামান, মহাপরিচালক ড. আব্দুল মুহিত।

এছাড়া আরো বক্তব্য দেন মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা (ডিডি) স্বপন কুমার শাহ, মেহেরপুর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট পল্লব ভট্টাচার্য, কৃষক মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।

কৃষির ক্ষেত্রে মেহেরপুর একটি সম্ভাবনাময় জেলা। মেহেরপুরের কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে সম্পৃক্ত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন কৃষিমন্ত্রী।

ইউরোপ ও আমেরিকায় এ জেলার হিমসাগর  আমের  বাজারে  এবং আমেরিকায় এখানকার সবজির বাজার সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় কৌশল নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের কৃষকদের জাগিয়ে তুলতে হবে। কৃষি এবং কৃষকদের প্রাধান্য দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অর্থনীতি ও প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছেন কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতির ওপর। আমাদের এলাকার আশা আকাঙ্ক্ষা, সম্ভাবনা ও স্বপ্নই কৃষিকে ঘিরে। তাই ডেল্টা প্লানিংয়ের আওতায় জেলার নদী ও খাল খনন এবং বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়ে জেলার কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করা হবে। ’

উল্লেখ্য, মেহেরপুর জেলায় এ বছর ২০ হাজার ৫৯৪ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ২০ হাজার ৮৩০ হেক্টর জমিতে। এছাড়া রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ২৫ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com