April 18, 2026, 4:07 pm
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি বিবিএস ক্যাবলস শেয়ার নিয়ে কারসাজি করায় কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক, কোম্পানি সচিব, ব্যবস্থাপক, চেয়ারম্যানের স্ত্রীসহ ১৫ ব্যক্তি ও ৩ প্রতিষ্ঠানকে রেকর্ড পরিমাণ জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
কমিশন সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, বিবিএস ক্যাবলসের শেয়ারের অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের কারণ চিহ্নিত করার লক্ষ্যে কমিশন একটি তদন্ত টিম গঠন করে। তদন্ত কমিটি অনুসন্ধানে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পায়। অনুসন্ধানে উঠে আসে বিবিএস ক্যাবলস ও এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মার্কেট ম্যানুপুলেশন, ইনসাইডার ট্রেন্ডিং ও যথাসময়ে সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ না করা মতো অপরাধ করে। এ অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের জরিমানা করা হয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বিবিএস ক্যাবলসের শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়। ওই টিম তাদের প্রতিবেদনে কোম্পানির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল হাসান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নোমান হাওলাদার ও কোম্পানি সচিব নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে সুবিধাভোগী লেনদেনের প্রমাণ পায়। প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল হাসান তার স্ত্রীর নামে এবং আবু নোমান হাওলাদার ভাই ও শ্যালকের নামে শেয়ার কেনেন অথবা তারা তার কাছ থেকে কোম্পানির গোপন তথ্য আগে জেনে নিজেরাই শেয়ারে বিনিয়োগ করে। শেয়ারে বিনিয়োগ করেন কোম্পানি সচিবের স্ত্রীও। এছাড়া কোম্পানির সিনিয়র ম্যানেজার ফাইজুস জামানও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শেয়ার কেনেন। তারা সম্মিলিতভাবে শেয়ার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯,; সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (সুবিধাভুগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ) বিধিমালা ১৯৯৫ এর বিভিন্ন ধারা লংঘন করেন।
অন্যদিকে সময়মত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করে আইন লংঘন করেছে কোম্পানিটি, যার দায় বর্তায় প্রত্যেক পরিচালকের উপর। তদন্ত টিমের প্রতিবেদন এবং এনফোর্সমেন্ট বিভাগের শুনানী পর্যালোচনা করে আজ কমিশন জরিমানার এই সিদ্ধান্ত নেয়।
কমিশন সুবিধাভুগী লেনদেনের অপরাধে বিবিএস কেবলসের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল হাসানের স্ত্রী খাদিজা তাহেরাকে ৩ কোটি টাকা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নোমান হাওলাদারকে ১ কোটি টাকা, তার ভাই আবু নাইম হা্ওলাদারকে ১০ লাখ টাকা, তার শ্যালক ফরহাদ হোসেনকে ৩০ লাখ টাকা, মনোনিত পরিচালক সৈয়দ ফেরদৌস রায়হান কিরমানিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে। এই অপরাধে কোম্পানি সচিব নাজমুল হাসানের স্ত্রী সৈয়দাতুন নেসা এবং কোম্পানির সিনিয়র ম্যানেজার ফয়জুস জামানকে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সময়মত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করায় কোম্পানির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল হাসান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আবু নোমান হাওলাদার, পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ রুহুল মজিদ, প্রকৌশলী হাসান মুর্শেদ চৌধুরী ও মোঃ আশরাফ আলী খানের প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
শেয়ারমূল্য কারসাজির দায়ে কবির আহমেদ অ্যান্ড এসোসিয়েটকে ২৫ লাখ টাকা, ব্রোকারেজ হাউজ প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটালকে ৫৫ লাখ টাকা, আব্দুল কাইয়ুম অ্যান্ড এসোসিয়েটকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, মো. নজরুল ইসলাম অ্যান্ড এসোসিয়েটকে ২৫ লাখ টাকা, সৈয়দ আনিসুর রহমানকে ২৫ লাখ টাকা ও হাসান জামিলকে ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।