May 30, 2026, 10:01 pm
দেশের অষ্টম পঞ্চবার্ষিকি পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। এই অষ্টম পঞ্চবার্ষিকি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যায় হবে ৬৪ লাখ ৯৫ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা।
আজ মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অষ্টম পঞ্চবার্ষিকি পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়।
অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটিকে দুটি খণ্ডে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রথম খণ্ডে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষিতসহ কৌশলগত নির্দেশনা ও নীতিকাঠামো বর্ণনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় খণ্ডে জাতীয় বাজেটের সঙ্গে সংগতি রেখে মোট ১৩টি খাতে (প্রতিরক্ষা ব্যতীত) খাতভিত্তিক কৌশল, কর্মসূচি এবং নীতিসমূহ বর্ণনাসহ প্রতিটি খাতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও সম্ভাব্য উন্নয়ন বরাদ্দ প্রাক্কলন করা হয়েছে।
অষ্টম পরিকল্পনায় বার্ষিক গড়ে আট শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ২০২৫ সাল নাগাদ এ প্রবৃদ্ধি আট দশমিক ৫১ শতাংশে উন্নীতের লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা মেয়াদে এক কোটি ১৩ লাখ ৩০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে বৈদেশিক কর্মসংস্থান হবে ৩২ লাখ ৫০ হাজার। এ সময়ে শ্রমবাজারে যুক্ত হবে ৭৮ লাখ ১০ হাজার নতুন মুখ। পরিকল্পনা মেয়াদে মাথাগুনতি দারিদ্র্য হার ২০২৫ সাল নাগাদ ১৫ দশমিক ছয় শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কৌশল ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পিছিয়ে পড়া জেলাগুলো থেকে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরির লক্ষে সঠিক তথ্য, প্রশিক্ষণ, অভিবাসন ব্যয় মেটাতে ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। ২০২১ সালে ২১ লাখ ৬০ হাজার, ২০২২ সালে ২২ লাখ ৩০ হাজার, ২৩ সালে ২৩ লাখ ৩০, ২৪ সালে ২৪ লাখ ২০ এবং ২০২৫ সালে ২৫ লাখ ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার।
গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকার মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ধাক্কায় সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ওই অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ ধরা হচ্ছে ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ।
কোভিড-১৯ এর কারণে সৃষ্ঠ মহামারি থেকে পুনরুদ্ধারে স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস, কর্মসংস্থান, আয় এবং অর্থনীতি কার্যক্রম পূর্বের ধারায় ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দ্রুত দারিদ্র হ্রাসকরণে জোর দেওয়া হয়েছে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায়। উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ এবং তা থেকে উপকৃত হওয়া এবং দরিদ্র ও দুর্দশাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা দেওয়ার লক্ষে একটি অন্তর্ভূক্তিমূলক কৌশল নেওয়া হয়েছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য পথপরিক্রমা প্রণয়ন, যা হবে দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা। ২০৩১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া হবে নতুন পরিকল্পনায়।
অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে দারিদ্র সমস্যা মোকাবেলায় কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিকে উচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সুবিধাভোগীদের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এসব জেলাগুলোতে কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আয় বৃদ্ধির জন্য কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণ সেবার ওপর অধিকতর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আগামী পাঁচ বছরে নতুন এক কোটি ১৬ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে কর্মসংস্থানের এই লক্ষ সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার তুলনায় ১০ লাখ কম। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অনেক লক্ষই পূরণ হয়নি। যেটা অষ্টম পঞ্চমবার্ষিকী পরিকল্পনার মধ্যে ঠাঁই পেয়েছে।
সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় গত পাঁচ বছরে (২০১৬-২০২০) মোট কর্মসংস্থানের লক্ষ ছিল ১ কোটি ২৯ লাখ। এর মধ্যে দেশীয় ১ কোটি ৯ লাখ ও বিদেশি ২০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ ছিল। পাঁচ বছর শেষে অবশ্য লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি, কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে ৯৫ লাখের মধ্যে দেশীয় ৬০ লাখ ও প্রবাসে ৩৫ লাখ। কোভিড-১৯ এর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এবার এনইসি সভায় উঠছে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। পরিকল্পনায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ। এই ধারাবাহিকতায় ২০২১ অর্থবছরে ৮ দশমিক ২০, ২০২২ অর্থবছরে ৮ দশমিক ২২, ২০২৩ অর্থবছরে ৮ দশমিক ২৯, ২০২৪ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৩২, ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ ধরে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার লক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে সার্বিক মূল্যস্ফীতির লক্ষ ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। আগামী ২০২১-২০২২ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ, ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, ৫ দশমিক ২ শতাংশ, ৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সবশেষ ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি নেমে আসবে ৪ দশমিক ৮ শতাংশে।
এই প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, করোনাকালে পুরো বিশ্বই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। তবে পরিকল্পনা থেমে থাকবে না। আমরা অষ্টম-পঞ্চম বার্ষিকী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। মঙ্গলবার আশা করছি এটা পাস হয়ে যাবে। যদি না পারি তাহলে নবম পঞ্চম-বার্ষিক পরিকল্পনায় এটা পূরণ করবো।