August 12, 2026, 5:58 pm

এসডিজি কোনো চ্যারিটি নয়, মানুষের সম্ভাবনা কাজে লাগানোই লক্ষ্য: আমির খসরু

এসডিজি কোনো চ্যারিটি নয়, মানুষের সম্ভাবনা কাজে লাগানোই লক্ষ্য: আমির খসরু

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য এসডিজি কোনো চ্যারিটি কার্যক্রম নয়, বরং দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নাগরিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত এবং অর্থনীতিতে সবার অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির একটি সমন্বিত কাঠামো এমন মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ এবং সৃজনশীল অর্থনীতির মাধ্যমে মানুষের নিজস্ব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তাদের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে।

বুধবার ১২ আগস্ট রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল কনফারেন্স অন ফাইভ ইয়ার স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড এসডিজি’-এর সমাপনী দিনে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, “এসডিজি কোনো চ্যারিটি না। এসডিজি হচ্ছে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা।” নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই এসডিজির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক গণতন্ত্র তখনই সফল হবে, যখন অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মানুষ যেন নিজ নিজ অবস্থান থেকে অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুফল যেন সবার কাছে পৌঁছে যায়—এটাই ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ’-এর মূল ধারণা।

এ প্রসঙ্গে সৃজনশীল অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শীতলপাটি, মৃৎশিল্প, তাঁত, রূপার গয়না, থিয়েটার, সংগীত ও খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত বিপুলসংখ্যক মানুষকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে হবে। তিনি বলেন, গ্রামের একজন কারিগর ৭০০ টাকার শীতলপাটি তৈরি করলেও যথাযথ নকশা, মানসম্মত উপকরণ, ব্র্যান্ডিং ও বাজারসংযোগের মাধ্যমে সেটি অনেক বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব।

আমির খসরু জানান, সৃজনশীল অর্থনীতির আওতায় কারিগরদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি নকশা, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন সুবিধা দেওয়া হবে। আলিবাবা, ইবে ও অ্যামাজনের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে এসব পণ্যের সংযোগ ঘটিয়ে বিশ্ববাজারে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে উৎপাদনশীলতা, আয় ও কর্মসংস্থান বাড়বে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।

তিনি বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগে এত বড় কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ জন্য বেসরকারি খাত, এনজিও, ডিজাইনার ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষকে অংশীদার করা হয়েছে। সরকারের নীতি ও বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে তা পৌঁছে দেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোর মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনা। এসডিজি বাস্তবায়নকে শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন তৈরির বিষয় হিসেবে না দেখে জাতীয় উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, বাস্তবতা ও উপাত্তের মধ্যে যে ফারাক রয়েছে তা দূর করতে তথ্য-উপাত্ত ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন করা হচ্ছে। এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রায় ৪২১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।

সাকি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান এই চারদিকে গুরুত্ব দিয়ে অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি, আর্থিক খাত সংস্কার, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ সহজীকরণ, প্রযুক্তির বিস্তার এবং পরিবেশ-প্রকৃতি রক্ষাকে অর্থনৈতিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে কর্মসূচিভিত্তিক গুচ্ছ প্রকল্প নেওয়া হবে এবং প্রথমে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ত্রুটি চিহ্নিত করে পরে জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হবে।

দুই বক্তাই বলেন, এসডিজির লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার, বেসরকারি খাত, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষসহ সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তাদের মতে, এসডিজি বাস্তবায়নের সাফল্য শুধু সরকারি প্রতিবেদনে নয়, মানুষের জীবনমানের বাস্তব পরিবর্তনের মধ্যেই প্রতিফলিত হতে হবে।

ইএটি

Please Share This Post in Your Social Media


Leave a Reply

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com