May 31, 2026, 2:13 pm
বিএনপি আবার জ্বালাও পোড়াও কর্মসূচি শুরু করেছে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ নিজেরা এসব কাজ করে তারা দায়টা চাপায় অন্যের উপর। সেই পুরোনো পদ্ধতি, সেই পুরোনো রীতি মানুষের উপর দায় চাপানো। যেটা তাদের প্রধানমন্ত্রী করেছেন।’
রবিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশন সচিবের কাছে দলটির ২০২২ সালের বার্ষিক আয়-ব্যয় হিসাব জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
ক্ষতমতাসীন দলের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘একটি অবৈধ শাসক যে কথা বলে, সে কথার কোনো ভিত্তি থাকে না। উনি যদি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হতেন, তাহলে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার একটা ভয় থাকত। সেই ভয়তো উনার নেই। উনি এবং উনার সাধারণ সম্পাদক ওবায়ুদল কাদের সাহেব যখন যা ইচ্ছা সেটা তারা বলছেন। এটা আপনারা নিজেরাই প্রমাণ পেয়েছেন।’
এসময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, ‘জ্বালাও পোড়াও কে করছে, কে করে- অতীতে আপনারা দেখেছেন, গতকালও যে ঘটনা ঘটেছে, স্বয়ং বাস চালক বলছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দশ গজ দূরে ছিল। পুলিশের অবস্থান থাকার পরও কয়েকজন যুবক এসে চালককে বলছে তুমি নামো, তা না হলে তোমোকেসহ পুড়িয়ে দেওয়া হবে।’
রিজভী আরও বলেন, ‘সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছিল না। কারণ সেখানে গোলাগুলি হচ্ছিল। এর মধ্যে একেবারে ঠাণ্ডা মাথায় মোটরসাইকেলে এসে পোড়াবে! মুর্খরা ছাড়া কেউ এটা বিশ্বাস করবে না। পাগলও বিশ্বাস করবে না।’
নিজেদের দলের সমাবেশের উদাহরণ টেনে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আমাদের এতো বড় মহাসমাবেশ হলো সেখানে কি আমরা কোনো অশান্তি সৃষ্টি করেছি? হঠাৎ অতর্কিত এসে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করল, বেপরোয়া কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করল, গুলি করা শুরু করল। সবই আপনাদের সামনে হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘আপনারা জানেন, গত ২৫ তারিখের পর থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়েছে। একদিকে পুলিশ অন্যদিকে তাদের সম্পূরক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ। এদের মাঝেও আমাদের ছেলেরা বীরের মতো দাঁড়িয়ে কর্মসূচি পালন করেছে, আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।’
কংগ্রেস ম্যানদের দেওয়া চিঠির প্রসেঙ্গে রিজভী বলেন, ‘পৃথিবীর গণতন্ত্রকামী মানুষ এটা বুঝতে পেরেছে এই দেশে গণতন্ত্র নেই। গোটা দেশ এখন দমবন্ধ করা পরিবশে। সেখানে আমরা মনে করি শেখ হাসিনার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে গোটা সরকারে পদত্যাগ হবে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন করতে হবে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্ববধায়ক সরকারে দাবিতে আমাদের এক দফা সংগ্রাম চলছে। এই সরকারে পদত্যাগ ছাড়া কোনো স্বচ্ছ নির্বাচন সম্ভব না।’
এদিন দলটির গত ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আয়-ব্যয় কমিশন সচিবের কাছে জমা দেন রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। যেখানে দেখা যায়, গত এক বছরে দলটির আয় হয়েছে পাঁচ কোটি ৯২ লাখ চার হাজার ৬৩২ টাকা। অপর দিকে ব্যয় হয়েছে তিন কোটি ৮৮ লাখ ৩৩ হাজার ৮০৩ টাকা।