May 31, 2026, 4:00 am
স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের সুফল পেতে হলে বাংলাদেশকে ট্রেড ফেসিলিটেশন বা বাণিজ্য সহজীকরণের নীতি ও পদ্ধতিসমূহ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এ আহ্বান জানান। এ প্রেক্ষাপটে তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের পদ্ধতি সরলীকরণ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর সাপোর্ট টু সাস্টেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রকল্প (এসএসজিপি) ও মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ‘অগমেন্টিং কম্পিটিটিভনেস বাই ইম্প্রভিং ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন’ শীর্ষক এ কর্মশালা আয়োজন করে।
ইআরডি সচিব শরিফা খানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল এবং এমসিসিআই সভাপতি সাইফুল ইসলাম।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যে স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত হতে হলে বাংলাদেশকে ট্রেড ফেসিলিটেশন সংক্রান্ত নীতি ও পদ্ধতিসমুহ আবশ্যিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, একটি দেশের সার্বিক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে বাণিজ্য সহজীকরণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাণিজ্য সহজীকরণের জন্য বাণিজ্য সংক্রান্ত নিয়ম, নীতি ও পদ্ধতিসমূহের প্রয়োজনীয় আধুনিকীকরণ ও সমন্বয় সাধন প্রয়োজন। বাণিজ্য সহজীকরণ ব্যবসা-বাণিজ্যের দক্ষতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জন এবং বাণিজ্য সম্পাদনে সময় ও খরচ কমিয়ে আনতে সহায়তা করে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণ পরবর্তী সময়ে শুল্কমুক্ত কোটামুক্ত রপ্তানির সুবিধা ক্রমশ উঠে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব নিরসনের লক্ষ্যে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দেশের সার্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সব বাণিজ্য সহজীকরণ নীতিপদ্ধতিসমূহ বাস্তবায়ন করা অত্যাবশ্যক।
বৈশ্বিক বাণিজ্যে আরও গতি আনার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে একটি ট্রেড ফেসিলিটেশন এগ্রিমেন্ট (টিএফএ) বা বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তি অনুমোদিত হয়, যা ২০১৭ সালে কার্যকর হয়। বাংলাদেশ ২০১৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চুক্তিটি অনুস্বাক্ষর করেছে এবং বর্তমানে তা বাস্তবায়নের কাজ করছে। স্বল্পোন্নত দেশসমূহের জন্য টিএফএ চুক্তি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে। তবে উত্তরণের পর এই সুবিধাটি কিছুটা কমে আসবে।
স্বল্পোন্নত দেশ হতে বাংলাদেশের উত্তরণ পরবর্তী সময়ে শুল্কমুক্ত কোটামুক্ত রপ্তানির সুবিধা ক্রমশ উঠে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিরসনের ক্ষেত্রে বাণিজ্য সহজীকরণ পদ্ধতিসমূহ কী ভূমিকা পালন করতে পারে তা আলোচনা ও পর্যালোচনার জন্য উক্ত কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
একই সঙ্গে বাণিজ্য সহজীকরণ সংক্রান্ত আইনগত, প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ক্ষেত্রসমূহ নিয়ে কর্মশালায় আলোকপাত করা হয়।
কর্মশালায় ইআরডি সচিব শরিফা খান বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়মকানুন ও পদ্ধতিসমূহ আরও সহজ ও সমন্বিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল বন্দর ও লজিস্টিকস সংক্রান্ত উন্নয়ন কার্যক্রমসমূহ আরও সমন্বিত ও সুসংগঠিত উপায়ে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।
এমসিসিআই-এর সভাপতি সাইফুল ইসলাম দেশের বন্দরসমূহের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এই প্রেক্ষাপটে তিনি বন্দরসমূহের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার কাজে খ্যাতিসম্পন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।
বক্তারা দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যয় হ্রাস ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত যে সময় ব্যয় হয় তা আরও কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
কর্মশালায় মূল বিষয়বস্তুর ওপর আলোচনা করেন ইউএসএইড-এর অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘ফিড দ্য ফিউচার বাংলাদেশ ট্রেড একটিভিটি’-এর সিনিয়র কাস্টমস স্পেশালিস্ট মো. রইচ উদ্দিন খান।
কর্মশালার প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ড. আবদুল মান্নান শিকদার, পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমই এর পরিচালক আসিফ আশরাফ ও পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইআরডি-এর অতিরিক্ত সচিব ও এসএসজিপি-এর প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আজিজ। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন