May 31, 2026, 5:55 am
করোনার ছুটি পরবর্তী সময়ে দেশের পুঁজিবাজারে বেশ কিছুদিন ধরে বাড়তির দিকে বিমা খাতের কোম্পানিগুলো। যদিও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ। এরপরও হু হু করে বাড়ছে এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম।
যদিও এসব কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। আবার গ্রাহকের পলিসির টাকার বেপরোয়া ব্যয়, বিমা দাবি সময়মতো পরিশোধ না করাসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত প্রায় প্রতিটি বিমা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাজারে গুজব রয়েছে তালিকাভুক্ত বিমা কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর ৫০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
হঠাৎ করে বিমা কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজারসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বিমা কোম্পানিদের যেখানে নিজস্ব আয় নেই, কমপ্লায়েন্স দুর্বল সেখানে শেয়ারের দর বাড়ার কোনো কারণ নেই বলে জানান তারা। গুজব তৈরি করে একটি দল বিমার দর বৃদ্ধিতে কারসাজি করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক দিন ধরে প্রায় প্রতিদিনই মোট লেনদেনের অর্ধেক জুড়ে থাকছে বিমা খাতের অংশগ্রহণ, যার নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। ভবিষ্যতে এই খাতের অবস্থা ভালো হবে, সেই গুজবে বাড়ছে শেয়ারের দাম। আর অতি সম্প্রতি ২৬টি বিমা কোম্পানিকে তালিকাভুক্তিতে শর্ত শিথিল করে বাজারে আসার অনুমতি দিয়েছে বিএসইসি। বর্তমান বিএসইসির চেয়ারম্যান এর আগে সাধারণ বিমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএসইসির চেয়ারম্যান এ খাতে বিশেষ নজর দেবেন ভেবে এটিও বিমার শেয়ারদর বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গতকালও দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে দেখা যায়, টপ টেন গেইনারের প্রথম অবস্থানে ছিল বিমা খাতের কোম্পানি কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স। ৪৯ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন শুরু করে শেষ হয় ৫২ টাকা ৮০ পয়সায়। এছাড়া গত এক মাসের ব্যবধানে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৭ টাকা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই ৫৬ শতাংশ দর বেড়েছে এ কোম্পানির। যদিও কোম্পানিটির লভ্যাংশ প্রদানের হারও সন্তোষজনক নয়। গেল কয়েক বছর ধরে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়ে আসছে এ কোম্পানি।
একইভাবে এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম ৩০ টাকা থেকে ৫৩ টাকায় পৌঁছেছে। দর বেড়েছে ৭৬ শতাংশ। এই কোম্পানিটিও গেল কয়েক বছর ধরে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। তাছাড়া এই সময়ের মধ্যে এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স, গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সসহ সব বিমার দর বাড়ছে, যার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
এর আগে শেয়ারের অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডকে নোটিস পাঠায় ডিএসই। গত ১৭ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো রকম অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়ছে।
এছাড়া নিটল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে শেয়ারদর বেড়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ৫০ টাকা ৭০ পয়সা, যা গত ২৭ সেপ্টেম্বর লেনদেন হয় ৬৮ টাকা ৬০ পয়সায়। এ হিসাবে পাঁচ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের দর বেড়েছে ১৭ টাকা ৯০ পয়সা। আর এ দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করায় ডিএসই নোটিস পাঠায়। গতকাল ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন ৬০ টাকা ৬০ পয়সায় শেষ হয়।
অন্যদিকে, রূপালী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারদর গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ১৬ সেপ্টেম্বর কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ২২ টাকা ২০ পয়সা, যা গত ২৭ সেপ্টেম্বর লেনদেন হয় ৩০ টাকা ৯০ পয়সায়। এ হিসাবে আট কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের দর বেড়েছে আট টাকা ৭০ পয়সা। আর এ দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করে ডিএসই নোটিস পাঠায় রূপালী ইন্স্যুরেন্সকে। গতকাল কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন শেষ হয়েছে ৩১ টাকা ৮০ পয়সায়।
বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর কোনো কারণ ছাড়াই শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, শেয়ার ক্রয়ের আগে বিনিয়োগকারীদের কোনো কোম্পানি সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝেশুনে বিনিয়োগ করা উচিত। কী কারণে বিমার শেয়ারদর বাড়ছে তিনিও জানার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, কোনো বিনিয়োগকারীকে শেয়ার ক্রয় করতে নিষেধ করতে পারে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কিন্তু এই কোম্পানিগুলো কোনো অন্যায় করছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে রাখছে বিএসইসি। যেসব কোম্পানি মূল্য সংবেদনশীল তথ্য দিচ্ছে না তাদের তলব করছে বিএসইসি।
এদিকে বিমা কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তিকে অন্যতম বাধা ছিল পরিশোধিত মূলধন। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্তির জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিতে আবেদন করতে হলে কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা থাকতে হবে। দু’একটি ছাড়া আর কোনো কোম্পানির বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আবেদনে সক্ষমতা নেই। বাকি কোম্পানিগুলোকে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে আবেদন করতে হলেও ৩০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন থাকতে হবে। সেই শর্ত পূরণেও হিমশিম খাচ্ছে কোম্পানিগুলো। এক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধনের ছাড় দিয়েছে বিএসইসি।