May 30, 2026, 8:48 am

ক্ষুদ্র ঋণের সুদহার কমিয়েছে পিকেএসএফ

ক্ষুদ্র ঋণের সুদহার কমিয়েছে পিকেএসএফ

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের প্রণোদনা ঋণের সুদহার ২৪ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশ কমিয়ে ১৮ শতাংশ নির্ধারণ করেছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। সেসঙ্গে সাধারণ ক্ষুদ্র ঋণের পরিশোধের সময়সীমা এক বছর হলেও বিশেষ এই ঋণের ক্ষেত্রে সেটি বৃদ্ধি করে দুই বছর করা হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের ধাক্কা কম বেশি সব ব্যবসায়তেই লেগেছে। তবে সক্ষমতা বিচারে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসার ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। পুঁজি হারিয়ে ব্যবসাও বন্ধ হয়েছে অনেকের। এসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পুঁজির যোগানে ২ হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রণোদনা দিয়েছে সরকার।

এরমধ্যে ৫শ’ কোটি টাকা বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সরকারি সংস্থা পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনকে (পিকেএসএফ)। সংস্থাটির ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ কার্যক্রমের আওতায় এই ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কর্মসংস্থান ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনসহ মোট চারটি প্রতিষ্ঠানকে এই বিশেষ ঋণ বিতরণের দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা যে ৫শ’ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করবো, সেটা শুধু কোভিড-১৯ মোকাবিলার জন্যই। এই মুহূর্তে চাকরি হারিয়েছেন ও বেকার হয়েছেন অনেক যুবক। এছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদেরকে আমরা এই ঋণ বিতরণ করবো।
প্রণোদনার এই ঋণ বিতরণে সুদের হারের পরিবর্তন এনেছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।  শতকরা ১৮ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবেন গ্রাহকরা। যেখানে পিকেএসএফ-এর অন্যান্য ঋণের সুদের হার ২৪ শতাংশ পর্যন্ত। ছয়মাস পর থেকে কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে। পরিশোধের সময় পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ দুই বছর। সরকারের কাছ থেকে পাওয়া ২৫০ কোটি টাকা ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা সংস্থাটির সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিতরণ করেছে পিকেএসএফ।

মো. জসিম উদ্দিন বলেন, গ্রাহকদের কাছে আমাদের অন্য ঋণ আছে। সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে আমাদের অনেক কিছু ছাড় দিতে হয়েছে। এগুলোর মধ্যে সুদের হার ও পরিশোধের সময়সীমা রয়েছে। মাইক্রোক্রেডিট সাপ্তাহিক কিস্তি আদায় হলেও আমরা গ্রাহককে ছয় মাসও সময় দিয়েছি। ছয় মাসের মধ্যে কোনো টাকা দিতে হবে না। কেউ যদি আংশিক টাকা দেয় তাহলে আমরা দুই বছর পর্যন্ত সময় দিয়েছি।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ বলেন, এসব দরিদ্র মানুষগুলোর পক্ষে আনুষ্ঠানিক খাত থেকে ঋণ প্রাপ্তি সম্ভব নয়। ফলে পিকেএসএফ যে এখন সুদের হার কমিয়েছে। ফলে সুবিধাভোগীদের যারা অত্যন্ত ক্ষুদ্র উদ্যোগের সঙ্গে আছেন। তারা তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন। আগের তুলনায় তারা যে কম সুদে ঋণ পাচ্ছেন এটা আগের চেয়ে কম সময়ে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত উদ্যোক্তাদের সহায়তা বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক থেকেও প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা পাওয়ার কথা রয়েছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের। এসব ঋণও ১৮ শতাংশ সুদে বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।

 

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com