August 20, 2026, 5:02 am
আগামী কিছুদিনের মধ্যেই আপনারা বুঝতে পারবেন দেশের শেয়ারবাজারের প্রতি সরকারের কতটা সু-নজর রয়েছে। সেটা কোন পর্যায় থেকে হয় সেটা আপনারা তখন দেখলেই বুঝতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএসইসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী-রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।
বৃহস্পতিবার বিএসইসির মাল্টিপারপাস হলে লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ ও সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেডকে ডিএসই কর্তৃক প্রদও ফিক্স সার্টিফিকেশন প্রদান অনুষ্ঠানে বিএসইসি চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি’র কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমদ, ড. মিজানুর রহমান, মো. আব্দুল হালিম, বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালকবৃন্দ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূইয়া, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মো. জিয়াউল করিমসহ বিএসইসি, ডিএসই, লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
বিএসইসি’র চেয়ারম্যান বলেন, সকল ব্রোকারেজ হাউজগুলো যদি পর্যায়ক্রমে এপিআই সংযোগের মাধ্যমে নিজস্ব ওএমএস চালু করে তাহলে গ্রাহক সেবার উন্নতি হবে। যা পুঁজিবাজার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আপনারা গত তিন-চার বছর অনেক কষ্ট করেছেন। তবে আশা করছি এক বছরে আপনাদের ব্যবসায়ীক যেরকম উন্নতি হয়েছে আগামী দিনগুলোতে আরও ব্যাবসায়িক উন্নতি হবে।
আগামী কিছুদিনের মধ্যেই আপনারা বুঝতে পারবেন দেশের শেয়ারবাজারের প্রতি সরকারের কতটা সু-নজর রয়েছে। সেটা কোন পর্যায় থেকে হয় সেটা আপনারা তখন দেখলেই বুঝতে পারবেন। বর্তমানে পুঁজিবাজরের প্রতি যে আস্থা ফিরে এসেছে, তারই ফলশ্রুতিতে আগামীতে লেনদেন অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। বাজারটাকে অনেক বড় করতে হবে। বন্ড লেনদেন শুরু হলেই মার্কেট অনেক বড় হবে।
তিনি বলেন, আজকে সত্যিই একটি ঐতিহাসিক দিন। এই দিনটির জন্য আমরা অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি, এ বিষয়টি আমাদের খুবই দরকার ছিল। আমরা যখন কাজ করছিলাম শুরু থেকেই খেয়াল করছিলাম যে ডিএসই ওএমএস যেভাবে কেনা হয়েছিল, যে শক্তিতে তার চলার কথা, তার থেকে অনেক বেশি সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছিল। ফিক্স সার্টিফিকেশনের এই বিষয়টি আমাদের অনেকদূর নিয়ে যাবে। এতে ডিএসইর উপর যে অতিরিক্ত চাপ ছিল সেটা কমে যাবে। সেই সঙ্গে আস্তে আস্তে ব্রোকারেজ হাউসগুলো ডিএসইর ওএমএসের উপর চাপ কমিয়ে নিজেদের ওএমএস সিস্টেমে চলে যাবেন।
শিবলী রুবাইয়াত বলেন, নতুন যে ৫৪টি ব্রোকারেজ সনদ পেয়েছে তাদের কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। তারা বিভিন্নভাবে আমাদের সাথে যোগাযোগ করছে। তাদের বিনিয়োগ অনেক, ইতোমধ্যে অফিস ও জনবল নিয়েছে। কিন্তু এখনও ব্যবসা শুরু করতে পারেননি। তারা কোন ওএমএস সিস্টেম কিনবে সেটা তারা জানে না। তাই ডিএসইর প্রতি পরামর্শ থাকবে আপাতত কিছু কানেকশন দিয়ে নতুনদের কাজ শুরু করার সুযোগ করে দেয়ার৷
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূইয়া বলেন- আমাদের এতদিন একটাই ওএমএস ছিল। সেটার মাধ্যমে সবাই কানেকশন হত। এফপিআইকে এক্সপোজ করে দেয়াতে এখন অনেক ওএমএস বাজারে আসবে। নতুন কিছু ফিনটেক কোম্পানিও তৈরি হবে। তারা দেখবে ডিএসই ফিক্স গেটওয়ে ওপেন করে দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সারা বাংলাদেশে এখন ৩০০ এর বেশি ব্রোকারেজ হাউজ আছে, ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। নতুন কিছু ফিনটেক কোম্পানি কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। এতে ফিক্স সার্টিফিকেশনের মাধ্যমে আমরা শুধু ক্যাপিটাল মার্কেটে না, দেশের জিডিপি তেও অনেক অবদান রাখতে পারব।
তার আগে ডিএসইর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউল করিম স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। স্বাগত ব্যক্তব্যে তিনি বলেন, আজকে যে বিষয়টি নিয়ে অনুষ্ঠানটি হচ্ছে এটা আমাদের বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেটের জন্য একটা বিশাল অর্জন। ফিক্স ছোট একটি শব্দ। ফিক্স মানে হচ্ছে ফাইন্যান্সিয়াল ইনফর্মেশন এক্সচেঞ্জ। নাসডাকের যে ম্যাচিং ইঞ্জিন আছে সেটার একটা ভাষা আছে আর সেটাই হচ্ছে ফিক্স। কোনো ব্রোকার যখন ম্যাচিং ইঞ্জিনের সাথে যোগাযোগ করে সেটা এই ভাষার মাধ্যমে করে থাকে। এই ভাষাটা ব্রোকার সঠিকভাবে জানে কিনা সেটার যাচাই এই ফিক্স সার্টিফিকেশনের মাধ্যমে করা হয়েছে।