August 24, 2026, 12:00 pm
দেশের সর্ববৃহৎ সরকারি ব্যাংক সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের রমনা করপোরেট শাখার বেশিরভাগ ঋণই খেলাপি। এ শাখার মোট বিনিয়োগ করা টাকার ৭২ শতাংশই খেলাপি হয়েছে। এ ছাড়া আরও তিনটি শাখার বিতরণ করা ঋণের ৩৫ শতাংশ খেলাপি হওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে এ শাখাগুলোর বিনিয়োগ করা টাকা।
দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হলেও ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে শহরকেন্দ্রিক হয়ে গেছে ব্যাংকটি। মাত্র কয়েকটি শাখায় সীমাবদ্ধ সবচেয়ে বড় ব্যাংকটির বেশিরভাগ ঋণ। সোনালী ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রমনা করপোরেট শাখার বিনিয়োগ করা ঋণের পরিমাণ ৯২৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৬৬৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকাই খেলাপি হয়ে পড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাখাটির অন্যতম খেলাপির তালিকায় রয়েছে মেসার্স ফেয়ার ট্রেড ফেব্রিক্স, মেসার্স ফেয়ার এক্সপো এবং মেসার্স সুমিস সোয়েটার লিমিটেড। এই তিনটি কোম্পানিই আবার শীর্ষ ২০ খেলাপির অন্তর্ভুক্ত।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা-১ জিএম অফিসের বিতরণ করা ঋণ ৪ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে, যা বিতরণের ৩৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। শুধু ঢাকা নয়, খুলনা জিএম অফিসের খেলাপির হার ৩৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এ ছাড়া চট্টগ্রাম জিএম অফিসের খেলাপি হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ অর্থ। শুধু রমনা শাখা নয়, ঋণ এককেন্দ্রিক হওয়া ও দুর্নীতিগ্রস্ত অন্য শাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকটির স্থানীয় কার্যালয়, হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে আলোচিত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল করপোরেট শাখা, দিলকুশা করপোরেট, লালদীঘি শাখা, নারায়ণগঞ্জ করপোরেট, দৌলতপুর করপোরেট, খুলনা করপোরেট, আগ্রাবাদ করপোরেট ও ফরিদপুর করপোরেট শাখা। তথ্য অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপির সবাই এসব শাখার গ্রাহক, যাদের সমন্বিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪ হাজার ৮৩ কোটি টাকা। এ ব্যাংকের ১০টি শাখায় আটকে আছে মোট খেলাপির ৩৮ শতাংশ।
সোনালী ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের আগস্ট শেষে ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার ৭২১ কোটি ১৩ লাখ টাকা; যা মোট বিতরণ করা ঋণের ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এর মধ্যে শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছেই পাওনা ৪ হাজার ৮৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
খেলাপি ঋণের ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা জিএম-১ শাখার ব্যবস্থাপক আবদুল কুদ্দুস বলেন, আমাদের শাখা খুবই ভালো অবস্থানে আছে। গত বছরও ৬০০ কোটি টাকা প্রফিট হয়েছে আমাদের। এর সঙ্গে ২৮ হাজার কোটি টাকা ডিপোজিট আছে। শুধু হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল শাখায় আমাদের বেশিরভাগ খেলাপি। হলমার্কের খেলাপি ঋণ বাদ দিলে আমাদের অধীনে খেলাপি বেশি নেই। হলমার্কের ১ হাজার ২২৯ কোটি টাকা অবলোপন করার পরে খেলাপি আছে ১ হাজার ২৭ কোটি টাকা।
ঋণ আদায়ের বিষয়ে আবদুল কুদ্দুস বলেন, হলমার্কে ১৩৭ একর জায়গার মধ্যে ৯৭ একর আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। অর্থঋণ আদালতের আইন ২০০৩ ও সংশোধিত ২০১০ আইন অনুযায়ী আমরা এ জমিগুলো ভোগ-দখলের অধিকার পেয়েছি। আশা করছি, জমি বিক্রি করে আমাদের ঋণের টাকা আদায় হয়ে যাবে।
ঋণখেলাপি প্রসঙ্গে সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখার জিএম বিজনেস নিউজকে বলেন, ‘খেলাপি ঋণের বেশিরভাগই ২০০৩ সালের আগে বিতরণ করা। বর্তমান সময়ে খুব ভালো অবস্থানে আছে আমাদের শাখা। এখনকার বিতরণ করা ঋণের প্রায় সবই আদায় হচ্ছে। আগের ঋণগুলো বাদ দিলে আমাদের শাখা এখন অনেক ভালো অবস্থানে আছে।’
সোনালী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেশিরভাগ বড় খেলাপি ঋণ আদায়ে অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করা হয়েছে। তবে একদিকে মামলার দীর্ঘসূত্রতা, অন্যদিকে খেলাপিরা বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্তে¡ও খেলাপি ঋণ আদায় করা যাচ্ছে না।