August 25, 2026, 12:03 pm

রড-সিমেন্টের লাগামহীন দাম

রড-সিমেন্টের লাগামহীন দাম

সারা দেশে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো নির্মাণ কাজ। এই মুহূর্তে সরকারের মেগা প্রকল্পগুলো ছাড়া কোনো প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়নে নেই গতি।

প্রায় বছর ধরে নির্মাণসামগ্রীর মুখ্য উপকরণ রড, সিমেন্ট ও ইট-পাথরের দামের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

দাম স্থিতিশীল রাখতে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকার ইস্পাত এবং সিমেন্ট শিল্পে আগাম কর প্রত্যাহার করে নেয়। পাশাপাশি লৌহজাত পণ্য প্রস্তুতে ব্যবহার্য কয়েকটি কাঁচামাল, স্ক্র্যাপ ভেসেল ও পিভিসি, পিইটি রেজিন উৎপাদনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ইথানল গ্লাইকলসহ বিভিন্ন পণ্যের আগাম কর অব্যাহতি দেয়া হয়। কিন্তু বাজেট কার্যকরের পর এক মাস পার হলেও বাজারে কমেনি এসব নির্মাণ উপকরণের দাম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারের হাতে এখন ছোট-বড় ও মাঝারি বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় ২ হাজার প্রকল্পের উন্নয়নকাজ চলমান আছে। অন্যদিকে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার কাজও চলছে। এ ছাড়া আবাসন চাহিদা পূরণেও খাতসংশ্লিষ্টদের হাতে রয়েছে সহস্রাধিক প্রকল্প। উৎপাদনমুখী বিভিন্ন খাতেও শিল্প-কারখানা নির্মাণ ও সম্প্রসারণের কাজ হচ্ছে। এর বাইরে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত কয়েক লাখ ঘর-বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ রয়েছে।

এভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান উন্নয়নযজ্ঞে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার টন রড, সিমেন্ট, ইট ও পাথরের জোগান প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু দেশে-বিদেশে করোনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং দফায় দফায় লকডাউনে এসব উপকরণের দাম আকাশ ছুঁয়েছে, যা সার্বিক উন্নয়নের লাগাম টেনে ধরছে।

এই পরিস্থিতিতে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের তালিকায় থাকা পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেলসহ হাতেগোনা কয়েকটি প্রকল্প ছাড়া অন্য সব প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রাখায় ভাটা পড়েছে।

উপকরণের মাত্রাতিরিক্ত দামের কারণে বাড়তি খরচ সমন্বয়ের সুযোগ না থাকায় বেঁকে বসছে অধিকাংশ ঠিকাদার। জরুরি বিবেচনায় আগের চুক্তিমূল্যেই যারা কাজ চালিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের কাজের গতিও খুব ধীর এবং সেখানে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে দাম কমার আশায় ব্যক্তি উদ্যোগে ঘর-বাড়ি নির্মাণকাজ এবং উদ্যোক্তাদের চলমান অনেক উন্নয়নকাজও এখন বন্ধ হয়ে গেছে।

আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (রিহ্যাব) জানিয়েছে, শুধু চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই দেশে অবকাঠামো নির্মাণে খরচ বেড়েছে কমপক্ষে ২০ শতাংশ।

অন্যদিকে দেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রি (বিএসিআই) জানায়, প্রকৌশল বিধি অনুযায়ী প্রকল্পের গুরুত্ব বুঝে ৩৮ থেকে ৪২ শতাংশ রড, ৩৫ থেকে ৪৫ শতাংশ ইট বা পাথর এবং ১৮-২২ শতাংশ পর্যন্ত সিমেন্ট ব্যবহারের দরকার পড়ে। অর্থাৎ কোনো একটি অবকাঠামোর কমপক্ষে ৯০ শতাংশজুড়েই থাকে এসব উপকরণ। এর কোনো একটির ঘাটতি হলে অবকাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

গত বছর ডিসেম্বর থেকে এই সময় পর্যন্ত উপকরণভেদে রডের দাম ৩২ থেকে ৩৫ শতাংশ, পাথরের ৩৫ শতাংশ, সিমেন্টের ১৫ শতাংশ এবং ইটের ২৫-৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার পরিস্থিতি

বর্তমান বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের রডের দাম প্রতি টনে বেড়েছে ১৮-২২ হাজার টাকা পর্যন্ত। সবচেয়ে ভালো মানের ৭৫ গ্রেডের এমএস (মাইল্ড স্টিল) রড এখন কোম্পানিভেদে বিক্রি হচ্ছে ৭২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৭৪ হাজার ৫০০ টাকায়। গত বছর নভেম্বরে এই গ্রেডের রড বিক্রি হতো ৫২-৫৪ হাজার টাকার মধ্যে।

৬০ গ্রেডের রড বিক্রি হচ্ছে ৬৬-৬৭ হাজার টাকায়। গত বছর নভেম্বরে এই দাম ছিল ৪২-৪৪ হাজার টাকার মধ্যে। সাধারণ ৪০ গ্রেডের প্রতি টন এমএস রড বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৬৩ হাজার ৫০০ থেকে ৬৪ হাজার টাকায়। একই রড গত নভেম্বরে ছিল ৪০ হাজার টাকার মধ্যে। এ ছাড়া বাংলা রড (গ্রেড ছাড়া) বিক্রি হচ্ছে ৬১ হাজার ৫০০ টাকায়। গত বছর নভেম্বরে এর দাম ছিল মাত্র ৩৮ হাজার টাকার মধ্যে।

বাজারে এখন সিমেন্টের সর্বনিম্ন দাম বস্তাপ্রতি ৪১০ টাকা থেকে ৪৮০ টাকার মধ্যে। এই সময়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বস্তাপ্রতি সিমেন্টের দাম বেড়েছে ৩০-৫০ টাকা।

প্রতি টন পাথরের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে ৪০০-৬০০ টাকা এবং ইটের দর প্রতি হাজারে এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com