August 24, 2026, 7:02 pm

প্রণোদনার ঋণ অন্য খাতে ব্যবহার হচ্ছে: বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রণোদনার ঋণ অন্য খাতে ব্যবহার হচ্ছে: বাংলাদেশ ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় প্রদত্ত ঋণ যথাযথ খাতে ব্যবহার না হয়ে কিছু কিছু ঋণ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হচ্ছে। এ ছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ঋণ দিয়ে ঋণগ্রহীতা তার অন্য কোনো ঋণের দায় শোধ করছে। এতে প্রণোদনা প্যাকেজের অনুসরণীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন করা না হলে প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। যা কোনভাবেই কাঙ্খিত নয়।

মহামারি করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রণোদনার যে ঋণ বিতরণ করেছে সেই ঋণ যথাযথ খাতে যাচ্ছে না বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় প্রদত্ত ঋণ যথাযথ খাতে ব্যবহার না হয়ে কিছু কিছু ঋণ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হচ্ছে। এ ছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ঋণ দিয়ে ঋণগ্রহীতা তার অন্য কোনো ঋণের দায় শোধ করছে। এতে প্রণোদনা প্যাকেজের অনুসরণীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন করা না হলে প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। যা কোনভাবেই কাঙ্খিত নয়।

সোমবার দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রণোদনার ঋণ যাতে যথাযথ ব্যবহার হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।

‘করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় প্রদত্ত ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘কোভিড-১৯ এর নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। সেইসঙ্গে প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ যাতে অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার না হয়, সেজন্য এসব ঋণের সদ্ব্যবহারের বিষয়টি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের মাধ্যমে যাচাইপূর্বক নিশ্চিত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হলো।’

এর আগে গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে একই ধরনের নির্দেশনা দেয়।

১ আগস্ট রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের আরেকটি চিঠি দেয়া হয়। তাতে বলা হয়েছে, মহামারির ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ব্যাংকগুলো প্রণোদনার যে ঋণ বিতরণ করেছে, সেই ঋণ কোথায় গেছে, কারা নিয়েছে, তা ১৫ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জানাতে হবে। যদি এই প্রণোদনার টাকা যাদের প্রয়োজন তারা না পেয়ে থাকেন, অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্তরা না পেয়ে অন্য কেউ পেয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও ঋণগ্রহিতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সব মিলিয়ে ২৮টি প্যাকেজের আওতায় এক লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার মতো প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার।

করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসার যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ছোট ও বড় ব্যবসায়ীরা (বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাত) স্বল্প সুদে ৪৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার ঋণ নিয়েছেন। এ ঋণের মোট সুদের অর্ধেক ভর্তুকি হিসেবে দিয়েছে সরকার।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতে চলতি মূলধন জোগান দেয়ার জন্য ৩৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগের মতো এসব ঋণের সুদহারও হবে ৯ শতাংশ। এর মধ্যে সাড়ে ৪ শতাংশ দেবেন গ্রাহক। বাকি সাড়ে ৪ শতাংশ সুদ ভর্তুকি হিসেবে দেবে সরকার।

গত বৃহস্পতিবার ২০২১-২২ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণার সময়ও প্রণোদনা ঋণের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন গভর্নর ফজলে কবির।

তিনি বলেন, ‘এটা অনস্বীকার্য যে, মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের বিষয়টি আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চলমান করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে সরেজমিনে নিরীক্ষা কার্যক্রম অনেকটা শিথিল থাকায় প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর কিছু অপব্যবহারের বিষয়ে ইতোমধ্যে দেশের গণমাধ্যম ও বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।’

‘এ প্রসঙ্গে আমি উল্লেখ করতে চাই যে, বর্তমানে করোনার দুর্যোগময় পরিস্থিতির কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরেজমিনে পরিদশর্ণ/নিরীক্ষা কার্যক্রম কিছুটা বাধাগ্রস্থ হলেও প্রযুক্তিনির্ভর অফ-সাইট নিরীক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর টাকা যে উদ্দেশে ব্যবহারের জন্য দেয়া হয়েছে, তা যেন অন্য কোন উদ্দেশে ব্যবহৃত হতে না পারে, সে ব্যাপারে ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব নজরদারি বাড়িয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইতোমধ্যেই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

‘একইসঙ্গে, করোনা পরিস্থিতির কাঙ্খিত উন্নতির সাথে সাথেই প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর যথাযথ ব্যবহারের বিষয়ে সরেজমিনে নিরীক্ষা কার্যক্রম জোরদারকরণের পাশাপাশি এর ব্যবহার ও ফলাফল বিষয়ে বিশেষ সমীক্ষা পরিচালনার বিষয়টিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।’

এছাড়া আর্থিক খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং বিদেশে অর্থপাচার রোধকল্পে বিএফআইইউয়ের মাধ্যমে আর্থিক গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়াতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান ফজলে কবির।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com