May 25, 2026, 11:30 am
করোনার কারণে গত অর্থবছর থেকে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ঝিমিয়ে পড়েছে। তারপরও করোনার প্রভাব চলমান অবস্থায়ও আগামী ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পের সমাবেশ অব্যাহত। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরেরসহ চলতি অর্থবছরে শেষ হবে না এমন প্রকল্পকে একত্রিত করে মেয়াদোত্তীর্ণ মোট ৬৭৮টি প্রকল্প আগামী এডিপিতে যুক্ত হচ্ছে। করোনা মহামারীতে নতুন প্রায় ২ হাজার অননুমোদিত প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের জন্য বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভা থেকে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার প্রস্তাব করা হবে ঈদের পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায়। যা চলতি অর্থবছরের মূল এডিপি থেকে প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। ওই আকারের মধ্যে ১৫টি খাতে ৫৮টি মন্ত্রণালয়ের জন্য ৯৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ২১ হাজার ৫৬০ কোটি ৩৫লাখ টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হবে। এই অর্থের মধ্যে স্থানীয় অর্থায়ন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৫৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে অর্থায়ন ৮৭ হাজার ৭শ’ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এডিপিতে মূল বরাদ্দের বাইরে স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের ৮৯টি প্রকল্পের অনুকূলে ১১ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা যুক্ত থাকছে।
পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের তথ্যানুযায়ী, আগামী এডিপিতে ২০২২ সালের ৩০ জুনে সমাপ্তির জন্য ৩৫৪টি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩২২টি বিনিয়োগ এবং ২৭টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প। আর ৫টি নিজস্ব অর্থায়নের। এদিকে চলতি অর্থবছরের জুনে সমাপ্তির জন্য ৪৪২টি প্রকল্প নির্ধারিত ছিল। যা আবশ্যিকভাবে সমাপ্ত করার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে সমাপ্ত হবে না। এ্ প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৫৭টি প্রকল্প আবার আগামী এডিপিতে অন্তভর্’ক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১৫টি প্রকল্প ২০১৯-২০ অর্থবছরে সমাপ্ত করার কথা ছিল।করোনা ভাইরাসের কারণে এই সব প্রকল্প সমাপ্ত করা সম্ভব হবে না বলে এনইসি সভায় গতবছর ১৫টি প্রকল্পসহ মোট ১৩৭টি প্রকল্প এক বছর বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত সমাপ্তির মেয়াদ করা হয়। একন ওই ৫৭টি প্রকল্পকে আগামী অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দসহ অন্তর্ভূক্ত করার জন্য প্রস্তাব করেছে পরিকল্পনা কমিশন। চলতি বছর ৩০ জুন মেয়াদোত্তীর্ণ হবে এমন ৬৭৮টি প্রকল্প আগামী ২০২১-২২ এডিপিতে অন্তর্ভূক্তর প্রস্তাব করেছে পরিকল্পনা কমিশন।
এইসব প্রকল্পের ব্যাপারে পরিকল্পনা কমিশন বলছে, অভিজ্ঞতায় দেখ যায়, মেয়াদ বৃদ্ধি যথাসময়ে না হওয়ায় অর্থ বছরের প্রথম ৪/৫ মাস এসব প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় ও ব্যয় করা সম্ভব হয় না। ফলে এডিপির বরাদ্দ ব্যবহার কমে যায়। সামগ্রীকভাবে এডিপি বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এসব প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সংশোধন করা প্রয়োজন। যাতে অর্থবছরের শুরুতেই অথাৎ জুলাই’২২ থেকে প্রকল্পগুলোর অনুক’লে অর্থ বরাদ্দ, ছাড় ও ব্যয় করা সম্ভব হয়।
কমিশন বলছে, আগামী এডিপিতে বরাদ্দসহ প্রকল্প সংখ্যা মোট এক হাজার ৪২৬টি। যার মধ্যে বিনিয়োগ ১ হাজার ৩০৮টি, কারিগরি সহায়তা ১১৮টি প্রকল্প। ২০২০-২১ অর্থবছরের আরএডিপি থেকে প্রস্তাবিত নতুন এডিপিতে স্থানান্তরিত প্রকল্প হলো এক হাজার ৩৯৬টি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রস্তাব নতুন অনুমোদিত ৩০ প্রকল্প। স্বায়ত্বশাসিত ৮৯টিসহ মোট প্রর্কপ হলো এক হাজার ৫১৫টি। সম্পূর্ণ জিওবি অর্থে বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় এক হাজার ২৯১টি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে, এডিপিতে বরাদ্দবিহীনভাবে অন্তর্ভূক্তির জন্য অননুমোদিত নতুন ৫৯৬টি প্রকল্প যুক্ত করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।
আর বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিদার্থে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকা আরো ১৪১টি প্রকল্প অন্তর্ভূক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারী বেসরকারী অংশীদারিত্বে (পিপিপি) বাস্তবায়নের জন্য ৮৮টি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে, ১৫টি খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬১ হাজার ৬৩১ কোটি ৪১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পরিবহণ ও যোগাযোগ খাতে। বিদ্যুৎ ও জ্বালাণী খাতে ৪৫ হাজা ৮৬৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, গৃহায়নে ২৩ হাজার ৮২১ কোটি ১৬ লাখ টাকা, শিক্ষা খাতে ২৩ হাজার ৩২৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ১৭ হাজার ৩০১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ১৪ হাজার ২৭৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, কৃষি খাতে ৭ হাজার ৬৪৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিজনেস নিউজ/এইচএস