April 19, 2026, 12:50 am

করোনায় স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম

করোনায় স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম

ব্যাংকিং সেক্টরের একটি বড় শক্তি মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও তরুণ প্রজন্ম। গ্রামকে বাদ রেখে এই শ্রেণিকে সাময়িকভাবে উন্নয়নের আওতায় আনা যাবে না। এজন্য তাদের ফিন্যান্সিয়াল সিস্টেমে আনতে হবে। এজন্য সহজ ও আধুনিক পদ্ধতি হচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং।

গ্রামে এখনো এমন অনেক মানুষ আছে, যারা বাড়িতে টাকা রাখে। এই শ্রেণির মানুষকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। অধিকাংশ ব্যাংক যারা এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করেছে তাদের কর্মকাণ্ড বেশির ভাগই গ্রামীণ এলাকায়।

ব্যাংকের শাখা নেই এমন এলাকায় মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে টাকা জমা, তোলা, স্থানান্তর, পরিষেবা বিল পরিশোধ ও প্রবাসী আয় তুলতে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে আর ব্যাংকের শাখায় দৌড়াতে হচ্ছে না। নিজ বাড়ির পাশের হাটবাজার বা ইউনিয়ন ডিজিটাল কেন্দ্রে থাকা এজেন্ট বা আউটলেট থেকে সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা মিলছে। এভাবে ব্যাংকিং সেবা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের আনাচ-কানাচে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহকরা এজেন্ট পয়েন্টের সেবার পাশাপাশি ব্যাংক শাখা ও এটিএমের সুবিধাও নিতে পারছেন। কিন্তু মহামারি করোনা ভাইরাসে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। কমেছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম।

চলমান পরিস্থিতিতে দেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের আয় সাড়ে ৭০ শতাংশ কমে গেছে। কার্যক্রম বন্ধ প্রায় ২১ শতাংশের। সশরীরে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে দুই-পঞ্চমাংশের বেশি এজেন্ট। এতে করে এজেন্টদের মাসিক ব্যয়ের চেয়ে আয় তিন গুণ কমে গেছে। বেসরকারি সংস্থা ইনোভেশনের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘ইমপ্যাক্ট অব কোভিড-১৯ আউটব্রেক অন এজেন্ট ব্যাংকিং ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ গবেষণা করে সংস্থাটি। সম্প্রতি তা প্রকাশ করা হয়েছে।

সর্বশেষ তথ্যমতে, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনার জন্য লাইসেন্স পেয়েছে। এ নিয়ে দেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮টিতে। এর মধ্যে ২৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব ব্যাংক ৮ হাজার ৭৬৪টি মাস্টার এজেন্টের আওতায় ১২ হাজার ৪৪৯টি আউটলেটের মাধ্যমে এ সেবা দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের জুন শেষে দেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় ৭৩ লাখ ৫৮ হাজার ১৯০ জন গ্রাহক হিসাব খুলেছেন। এসব হিসাবে জমাকৃত অর্থের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২২০ কোটি টাকা। গত বছরের জুন (২০১৯) পর্যন্ত গ্রাহক ছিল ৩৪ লাখ ১৬ হাজার ৬৭২ জন এবং আমানত স্থিতি ছিল ৫ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। অর্থাত্ এক বছরের ব্যবধানে গ্রাহক বেড়েছে ৪৯ লাখ ৪১ হাজার ৫১৮ এবং আমানত স্থিতি বেড়েছে ৪ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা।

বর্তমানে যে ২৩টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে সেগুলো হলো—ব্যাংক এশিয়া, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com