May 31, 2026, 8:58 am
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ভাতাভোগীদের নিজের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ জন্য পরীক্ষামূলক (ডেমো) কার্যক্রম শুরু করছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতার টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেওয়া হবে। চলতি মাস থেকেই দেশের আট বিভাগের আটটি ইউনিয়নে এ বিষয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে সারাদেশের ভাতাভোগীদের সুবিধা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করবে সরকার। আজ এ নিয়ে দেশের চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকে বসছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে এবং ভাতাভোগীদের নিজের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে অনেকেই ভাতা পাওয়ার উপযোগী না হয়েও তা নিচ্ছেন। এতে সরকারের অপচয় হচ্ছে। আবার ব্যাংকের মাধ্যমে ভাতা সংগ্রহ করতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীরা সমস্যায় পড়েন। তাই এ পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ডেমোর মাধ্যমে দেখা হবে ভাতার সুবিধাভোগীরা ঠিকমতো ভাতা নিতে পারছেন কিনা; সবার নিজস্ব মোবাইল আছে কিনা; যদি না থাকে তাহলে অন্যের মোবাইল ফোনে নিতে পারছেন কিনা। এককথায় মোবাইল অ্যাকাউন্টে ভাতা দিলে ভাতাভোগীদের কোনো সমস্যা হয় কিনা। কোনো সমস্যা না হলে পরে সারাদেশে এ কার্যক্রম চালু করা হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলার বাগমারা (উত্তর) ইউনিয়ন, রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়ন, ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ার কান্দি ইউনিয়ন, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজার ইউনিয়ন, রাজশাহী বিভাগের নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর ইউনিয়ন, খুলনার দাকোপ উপজেলার কামারখোলা ইউনিয়ন, বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন ও ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা রায়পুর ইউনিয়নে এ পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এই আটটি ইউনিয়নে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ভাতাপ্রাপ্ত বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতা দেওয়া হবে। আট ইউনিয়নে মোট ১৩ হাজার ৮৮৫ জন সুবিধাভোগীর ওপর এই পরীক্ষামূলক লেনদেন চালানো হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাত হাজার ৫৮৭ জন বয়স্ক ভাতাভোগী। এ ছাড়া তিন হাজার ৮১৮ জন বিধবা ও দুই হাজার ৪৪০ জন প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী। বয়স্করা প্রতি মাসে ৫০০ টাকা ভাতা পান। বিধবারাও একই হারে ভাতা পেয়ে থাকেন। আর প্রতিবন্ধীদের মাসে ৭৫০ টাকা ভাতা দেওয়া হয়। চলতি অর্থবছরে ৪৯ লাখ বয়স্ক নাগরিক, ২০ লাখ ৫০ হাজার জন বিধবা ও ১৮ লাখ প্রতিবন্ধীকে ভাতা দেওয়া হবে।
নগদ, বিকাশ, রকেট ও শিওরক্যাশের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এ সুবিধা পাঠানো হবে। প্রতিটি কোম্পানি দুটি করে ইউনিয়নে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ভাতাভোগীকে কোনো ধরনের কমিশন বা ফি দিতে হবে না; বরং মোবাইল অ্যাকাউন্ট থেকে নগদ টাকা হাতে পেতে (ক্যাশআউট) যে কমিশন লাগবে, তা ভাতার সঙ্গে অতিরিক্ত দেওয়া হবে। অর্থাৎ কেউ এক হাজার টাকা ভাতা পেলে তাকে পাঠানো হবে এক হাজার ১৮ টাকা, যাতে তিনি ক্যাশআউটের খরচ মেটাতে পারেন। নগদ, বিকাশ, রকেট ও শিওরক্যাশে ক্যাশআউটের জন্য কোম্পানিভেদে ১৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা খরচ হয়। এর মধ্যে সরকার প্রতি হাজারে সাত টাকা দেবে। বাকি খরচ সংশ্নিষ্ট কোম্পানি বহন করবে।