May 26, 2026, 7:51 am
ব্যাংকের ই-পেমেন্ট ব্যবস্থাসহ পরিশোধ ব্যবস্থাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এজন্য ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইন, ২০২১’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার (৯ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে এই অনুমোদনের কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বায়নের যুগে দ্রুতগতিতে ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থার উন্নতির ফলে আইসিটিভিত্তিক ব্যাংকিং এখন খুবই অপরিহার্য হয়ে গেছে। অনলাইন ই-ব্যাংকিংসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা পরিচালনা ও লেনদেন হচ্ছে। এজন্য পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট আইন প্রণয়ন করা খুবই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
খসড়া আইনের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যাংক ও কোম্পানিগুলোর পরিশোধ ব্যবস্থা পরিষ্কার করে দেয়া হচ্ছে। পরিশোধ ব্যবস্থা পরিচালনা বা ইলেকট্রনিক মুদ্রায় পরিশোধ সেবা দেয়ার আগে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদন গ্রহণ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে সব পরিশোধ ব্যবস্থা পরিচালনাকারী, অংশগ্রহণকারী ও সেবাদানকারীর কার্যক্রম পরিচালনায় অনুমতি প্রদান ও তদারকি করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিজে বা প্রয়োজনে তার অনুমোদিত কোনো কর্তৃপক্ষ দিয়ে আন্তঃব্যাংক ইলেকট্রনিক লেনদেন ব্যবস্থাগুলো যেভাবেই অবিহিত থাকুক না কেন পরিচালনা করতে পারবেন।’
পেমেন্ট সিস্টেম সংক্রান্ত পৃথক কোনো আইন ছিল না জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘টাকা-পয়সা বা ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে আইন না থাকায় এবং পরিশোধ ব্যবস্থায় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক লেনদেন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার রুলস পরিচালনার জন্য কনট্রাক্ট অ্যাক্টের অধীনে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজকর্ম করত। সেজন্য কনট্রাক্ট ল থেকে বের করে নিয়ে পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট আইন করা হয়েছে। পেমেন্ট সিস্টেম কনট্রাক্ট অ্যাক্ট দিয়ে কাভার করা যাচ্ছে না, সেজন্য এ আইন করা হয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইলেকট্রনিক লেনদেন বিস্তারের ফলে গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ জরুরি হয়ে পড়ে এবং ব্যাংকের পাশাপাশি অ-ব্যাংক পরিশোধ সেবাদানকারীদের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আইনি কাঠামোয় নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এজন্য এ আইন করা হয়েছে বলেও জানান খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
তিনি আরও বলেন, ‘আইনে পরিশোধ কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, পরিচালন ও সেবা প্রদানে একটা বিধান রাখা হয়েছে এবং কারা কারা এই পরিশোধ করার জন্য কোয়ালিফাইড করবে বা একটা ফার্ম নিয়োগ দিয়ে এই সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা করতে- এগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময় রুলস-রেগুলেশন দিয়ে ওই সব ফার্মকে নিয়োগ দেবে। কত দিনের জন্য হবে সেগুলো ঠিকে করে দেবে এবং কি পদ্ধতিতে এ টাকাপয়সা পরিশোধ ব্যবস্থাপনা করবে তাদেরকে ডিফাইন করবে।’
বিজনেস নিউজ/এসআর