June 5, 2026, 3:35 am

ভরা মৌসুমেও ইলিশ সংকট, নাগালের বাইরে দাম

ভরা মৌসুমেও ইলিশ সংকট, নাগালের বাইরে দাম

ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা নেই চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে। কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ জেলেরা। এর প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম বড় ইলিশের বাজার চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছ ঘাটে।

শুধু স্থানীয় নদীর মাছই নয়, দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশের আমদানিও কমেছে আশঙ্কাজনক ভাবে।

আমদানি কম থাকায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে ইলিশ। সাধারণ সময়ের চেয়ে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১শ’ থেকে ২শ’ টাকা বেশি দরে। ইলিশের আমদানি কম থাকায় হতাশ ক্রেতা-বিক্রেতারা। যদিও ইলিশ গবেষকেরা বলছেন, অচিরেই এই দুরবস্থা কেটে যাবে, জেলেদের জালে ধরা দেবে রূপালি ইলিশ।

শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বড় স্টেশন মাছ ঘাটে দেখা যায়, মাছের আমদানি অনেক কম। অধিকাংশ ব্যবসায়ীর আড়তেই ছিল না ইলিশ। আড়তদার ও শ্রমিকেরা অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছিলেন।

ইলিশ ব্যবসায়ী আকবর আলী, মো. বিপ্লব ও সম্রাট হোসেন বলেন, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। কিন্তু বাজারে ইলিশের আমদানি নেই বললেই চলে।

এই সময়টাতে অন্যান্য বছরে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার মন ইলিশ আমদানি হতো। কিন্তু বর্তমানে ইলিশ আম নাদী হচ্ছে ৩শ’ থেকে ৪শ’ মন মাত্র। এর ফলে ইলিশের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে কিছুটা। বর্তমানে হাতিয়া, সন্দীপ, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর থেকে কিছু ইলিশ চাঁদপুরে আমদানি হচ্ছে। তবে যেই পরিমাণে আমদানি হচ্ছে চাহিদা তার কয়েক গুন বেশি। ভরা মৌসুমে ইলিশ আমদানি না হলে আমাদের অনেক লোকসান গুনতে হবে।

বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলের ১ কেজি সাইজের ইলিশ প্রতি কেজি ৯শ’-সাড়ে ৯শ’ টাকা, ৮শ’ থেকে ৯শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ সাড়ে ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা এবং ৪শ’ থেকে ৫শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকায়। চাঁদপুরের স্থানীয় নদীর ইলিশ প্রকারভেদে ১শ’ থেকে ২শ’ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতা আসাদুজ্জামান ও আ. রব জানান, চাঁদপুর ইলিশের জন্য বিখ্যাত। তাই চাঁদপুরে এসেছি ইলিশ কিনতে। কিন্তু এসে দেখি ইলিশের আমদানি অনেক কম। দামও প্রতি কেজিতে কয়েকশ’ টাকা বেশি চাচ্ছে বিক্রেতারা। এই ভরা মৌসুমেও ইলিশ সাধারণ ক্রেতাদের নাগালে নেই।

এদিকে চাঁদপুরের পুরানবাজার ও হরিনা ফেরিঘাট এলাকার জেলেরা জানান, প্রতিদিন ইলিশের সন্ধানে নদীতে যাচ্ছে তারা। কিন্তু ইলিশের দেখা মিলছে না খুব একটা। সারা দিন জাল বেয়ে যেই পরিমাণ ইলিশ পাচ্ছেন তা দিয়ে তাদের খরচের টাকা তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতে করে পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়ছে তারা।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিছুর রহমান বলেন, নদীতে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার ওপর ভিত্তি করে জোয়ার-ভাটায় প্রভাব পড়ে। ভরা পূর্ণিমা বা অমাবস্যার সময়টাকে বলে ভড়াকাটাল। আর ভরা পূর্ণিমা ও অমাবস্যার মাঝামাঝি সময়টাকে বলে মরাকাটাল। মরাকাটালের সময়টাতে নদীতে জোয়ার ভাটার প্রভাব কম থাকে। বর্তমানে মরাকাটাল চলছে। তাই মাছ কিছুটা কম পাচ্ছে জেলেরা। তবে আর কিছুদিন পরেই ভরা পূর্ণিমাতে ইলিশে জেলেদের জাল ভরে উঠবে বলে আশা করি।

তাছাড়া নদীর বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর ও দূষণের ফলে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশের মৌসুমেও জেলেরা তাদের কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পায় না বলে জানান তিনি। নিয়ম মেনে নদী শাসন ও দূষণরোধ করতে পারলে ইলিশ পাবে জেলেরা। বিগত বছরগুলোর ন্যায় এ বছরও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com