May 25, 2026, 6:26 pm
অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য সাড়া না পাওয়া গেলেও পুঁজিবাজারে এর প্রভাব পড়েছে।পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের ফলে ক্যাশ ফ্লো বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।
মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে মুজিববর্ষের কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাইলট বেসিসে ইএফডি মেশিন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে ক্যাশ ফ্লো বাড়লেও রিটার্নের ক্ষেত্রে তেমন সাড়া পড়েনি। রিটার্ন আসলে বোঝা যাবে কী পরিমাণ অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রশ্ন করতে পারবে না । কেউ যদি অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করতে চায় সেক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রশ্ন করতে পারবে না। আমরা সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেছি। যে সব প্রতিষ্ঠান এসব নিয়ে প্রশ্ন করেন, আমরা সবার সঙ্গে কথা বলেছি, তারা এ বিষয়ে প্রশ্ন করবেন না। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান এ ধরনের প্রশ্ন তোলেন, তাদের সেটা অন্যায় হবে, অনুচিত হবে।
তবে এক্ষেত্রে কেউ চাইলে আইনের আশ্রয় নিতে পারবে। সরকার আইন করে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করতে বলেছেন। এখানে কেউ প্রশ্ন রাখতে পারে না। তবে আমার মনে হয় কাউকেই আইনের আশ্রয় নিতে হবে না।
তিনি বলেন, ‘ভ্যাটের অনিয়ম বন্ধ করতেই ইএফডি চালু করা হচ্ছে। ইএফডি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। ফলে হয়রানি দূর হবে এবং রাজস্ব আহরণের ব্যয় ও ব্যবসায়িক খরচ কমবে। কর পরিহারের সুযোগ থাকবেন না। রাজস্ব আদায়ে গতি আসার পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অটোমেশনের আওতায় আসবে। ’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্রেতাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। আস্থার জায়গা তৈরি করতে পারবো। প্রাথমিকভাবে ১০০ মেশিন বসানো হলো। পর্যায়ক্রমে আগামী তিন মাসের মধ্যে এক হাজার ইএফডি মেশিন বসানো হবে। আগামী জুনের মধ্যে এক লাখ ইএফডি মেশিন বসানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ’
ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস বা ইএফডি হচ্ছে একটি কম্পিউটারাইজড যন্ত্র। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পণ্য বেচাকেনায় দক্ষ ব্যবস্থাপনায় এটি ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে রাজস্ব বিভাগ ব্যবসায়িক লেনদেন বা কেনাবেচায় সরাসরি নজর রাখতে পারে। ফলে ভ্যাট ফাঁকি অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর পরিশোধ করে শেয়ারবাজারে তিন বছরের জন্য এ অর্থ বিনিয়োগ করা হলে আয়কর কর্তৃপক্ষসহ সরকারের অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা শেয়ারবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন।
পুঁজিবাজার ছাড়াও ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা তাদের আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত জমি, ভবন, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের প্রতি বর্গমিটারের ওপর নির্দিষ্ট হারে এবং নগদ অর্থ, ব্যাংকে সঞ্চিত অর্থ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড বা অন্য কোন সিকিউরিটিজের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দেওয়া সাপেক্ষে তা আয়কর রিটার্নে দেখাতে পারবেন। এক্ষেত্রেও আয়কর কর্তৃপক্ষসহ সরকারের অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না। ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার এ বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুযোগ পাবেন।