July 22, 2026, 5:01 am

প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা পেয়েছেন ২২ শতাংশ ব্যবসায়ী

প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা পেয়েছেন ২২ শতাংশ ব্যবসায়ী

প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা পেয়েছেন দেশের ২২ শতাংশ ব্যবসায়ী। সুবিধা পাননি ৬৯ শতাংশ ব্যবসায়ী।

৯ শতাংশ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন প্রণোদনা প্যাকেজ সম্পর্কে তারা জানেন না। বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রণোদনা প্যাকেজ পেয়েছে ৪৬ শতাংশ, মাঝারি ২৮ শতাংশ ও ১০ শতাংশ ক্ষুদ্র ও ছোট প্রতিষ্ঠান।

মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) অনলাইনে সানেম ও দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত ওয়েবিনারে করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের আস্থা ও প্রত্যাশা সংক্রান্ত জরিপের তৃতীয় পর্যায়ের ফলাফলে এসব কথা বলা হয়েছে।

ওয়েবিনারে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এ জরিপ পরিচালিত হয়। জরিপে অংশগ্রহণকৃত ৭১ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের দিকে যাচ্ছে।

যার মধ্যে ১৫ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করছেন এ পুনরুদ্ধার হচ্ছে দুর্বল মানের, ৪০ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করছেন অর্থনীতির পুনরুদ্ধার হচ্ছে মাঝারি মানের ও ১৬ শতাংশ মনে করছেন এ পুনরুদ্ধার হচ্ছে শক্তিশালী।

২০২০ সালের এপ্রিল-জুন মাসে পিবিএসআই (ত্রৈমাসিক) এর মান ছিল ২৯.৪৮ শতাংশ, জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে মান ছিল ৪৭.৯৬ শতাংশ ও অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে মান ছিল ৪৮.৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ এপ্রিল-জুনের তুলনায় অক্টোবর-ডিসেম্বরে ব্যবসার পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এপ্রিল-জুনের তুলনায় জুলাই-সেপ্টেম্বরে যে গতিতে ব্যবসার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছিল জুলাই-সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ব্যবসার পরিস্থিতি সে গতিতে উন্নতি হয়নি। ২০২০ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরের তুলনায় ২০২০ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বরে মুনাফা, কর্মসংস্থান ও মজুরি সূচকের মান কিছু উন্নতি হয়েছে। তবে ব্যবসার খরচ সূচকের মানের অবনতি ঘটেছে। বিভিন্ন খাতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতির মধ্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ফার্মাসিউটিক্যাল, আর্থিক খাত, টেক্সটাইলে দ্রুতগতির পুনরুদ্ধার দেখা যাচ্ছে।

২০২০ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২১ সালের জানুয়ারি-মার্চের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক কিছু খানি বেশি আস্থা পেয়েছেন। ব্যবসায় আস্থা সূচক ২০২০ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ছিল ৫১ শতাংশ, অক্টোবর-ডিসেম্বরে ছিল ৫৫ শতাংশ ও ২০২১ সালের জানুয়ারি-মার্চে ছিল ৫৮ শতাংশ।

জরিপের ফলাফল উপস্থাপনে ড. সেলিম রায়হান তৃতীয় পর্যায়ের জরিপ সম্পর্কে ধারণা দেন। বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের ৩৬টি জেলার মোট ৫০২টি ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ওপর এ জরিপ করা হয়েছে। এরমধ্যে ২৫২টি উৎপাদন খাতের ও ২৫০টি সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠান। উৎপাদন খাতের তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস, হালকা প্রকৌশল ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলো জরিপের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেবা খাতের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, আইসিটি ও টেলিকমিউনিকেশন, আর্থিক খাত ও রিয়েল এস্টেট খাত জরিপের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২১ সালের জানুয়ারির ৫ থেকে ২১ তারিখের মধ্যে এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পদাধিকারীদের সঙ্গে ফোনালাপের মাধ্যমে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়।

ড সেলিম রায়হান চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, পাইকারি ব্যবসা, পরিবহন, তৈরি পোশাক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রিয়েল এস্টেট খাতে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। এ খাতগুলোতে দীর্ঘ সময়ের জন্য সুদ হার কমানো, এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড গঠনের কথা তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে এসএমই খাতে ঋণ ও প্রণোদনা প্রাপ্তি বাড়ানোর ওপর তিনি গুরত্ব দেন।

আলোচক হিসেবে ওয়েবিনারে উপস্থিত ছিলেন- এ কে খান টেলিকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম খান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, এস এম ই ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার ফারজানা খান, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও বিজিএমইএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট আরশাদ জামাল দিপু।

বিজনেস নিউজ /আরএ

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com