May 25, 2026, 4:19 am
আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতনের লাগাম টানতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক উত্তোলন সীমিত রাখার প্রচেষ্টায় সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠ সৌদি আরবের। তবে দেশটি থেকে জ্বালানি পণ্যটির রফতানিতে এর প্রভাব দেখা যায়নি।
গত অক্টোবরে সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি আগের মাসের তুলনায় দৈনিক গড়ে ৯৩ হাজার ব্যারেল বেড়েছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত জয়েন্ট অর্গানাইজেশনস ডাটা ইনিশিয়েটিভের (জেওডিআই) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।
সৌদি আরব বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশ। জেওডিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের অক্টোবরে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন গড়ে ৬১ লাখ ৫৯ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন গড়ে ৬০ লাখ ৬৬ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি হয়েছিল। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে জ্বালানি পণ্যটির দৈনিক গড় রফতানি ৯৩ হাজার ব্যারেল বাড়িয়েছে সৌদি আরব।
চলতি বছর করোনা মহামারীর কারণে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা রেকর্ড পরিমাণ কমে। এর প্রভাব পড়ে সৌদি আরব থেকে জ্বালানি পণ্যটির রফতানিতে। একই সঙ্গে রাশিয়া-সৌদি আরবের মধ্যকার মূল্যযুদ্ধ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দরপতনের প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।
করোনা মহামারীর কারণে গত জুনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক গড় রফতানি ৫০ লাখ ব্যারেলের নিচে নামিয়ে এনেছিল সৌদি আরব। তবে গত মে মাসের পর সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক গড় রফতানি ৬০ লাখ ব্যারেলের মাইলফলক ছাড়িয়ে যায়। অক্টোবরে তা আরো বেড়ে দৈনিক সাড়ে ৬১ লাখ ব্যারেলে ছাড়িয়ে গেছে। চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার দেশগুলোয় বাড়তি চাহিদা সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রফতানিকে চাঙ্গা করে তুলেছে।
এদিকে এশিয়ার দেশগুলোর জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সৌদি আরব। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকোর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সৌদি আরামকো জানিয়েছে, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে এশিয়ার দেশগুলো সৌদি আরবের কাছ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনতে গেলে আরব লাইট ক্রুডের ক্ষেত্রে চলতি ডিসেম্বরের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি বাড়তি ৮০ সেন্ট গুনতে হবে। এর মধ্য দিয়ে আরব লাইট ক্রুডের দাম ওমান/দুবাই গ্রেডের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ৩০ সেন্ট বাড়তি থাকবে।
তবে চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য বাড়ালেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমিয়েছে সৌদি আরামকো। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জানুয়ারিতে আরব লাইট ক্রুডের ক্ষেত্রে মার্কিন ক্রেতাদের ডিসেম্বরের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ৩০ সেন্ট কম পরিশোধ করতে হবে।
করোনাকালে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি তেল ব্যবসায় জোরদার করেছে সৌদি আরব। চীন, ভারতসহ বেশির ভাগ দেশে সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বেড়েছে। দাম তুলনামূলক কম থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এশিয়ার দেশগুলোও সৌদি আরব থেকে বাড়তি জ্বালানি তেল আমদানি করছে।