May 30, 2026, 3:00 pm

বিদেশ ফেরতদের আইসিটি প্রশিক্ষণ দেবে কোডার্স ট্রাস্ট

বিদেশ ফেরতদের আইসিটি প্রশিক্ষণ দেবে কোডার্স ট্রাস্ট

করোনা মহামারির কারণে বিদেশ থেকে যারা কাজ হারিয়ে দেশে ফিরেছেন, কিংবা দেশে ফিরে কাজ হারিয়েছেন অথবা যারা আর বিদেশে ফিরে যেতে পারছেন না, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে কোডার্স ট্রাস্ট বাংলাদেশ। বিদেশে ফেরত যেতে না পারা সেইসব ব্যক্তিদের দেওয়া হচ্ছে আইসিটি প্রশিক্ষণ।

এতে তারা দক্ষ হয়ে উঠবেন কাজ খুঁজে নিতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে দেশে বসে আবারও আয় করতে পারবেন বিদেশি অর্থ। এমনকি তারা নিজেরাই হতে পারবেন উদ্যোক্তা। দিতে পারবেন অন্যদেরও চাকরি।

এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা জানিয়েছেন, তারা কোডার্স ট্রাস্টের উদ্যোগে এই কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, এতে খুলে যাবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার। বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বে সম্পন্ন হচ্ছে এই কর্মসূচি।

রোববার (৪ অক্টোবর) ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, শুরুতে যা সঙ্কট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল পরে তাতেই সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছি। আজ সেই সম্ভাবনা আলোর মুখ দেখছে। সচিব বলেন, আমরা কোডার্স ট্রাস্টকে এজন্য ধন্যবাদ জানাই।

২০২০ সালের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন জানিয়ে সচিব বলেন, দেশের ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বিদেশে অবস্থান করেন, তার মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষ প্রতিবছরই দেশে ফেরেন। সেই হিসাবে সংখ্যাটি বড় নয়, কিন্তু তাতে আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। আমরা মনে করি এদের প্রত্যেকেই কিছু না কিছু যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়ে দেশে ফিরেছেন, আমরা সেগুলো কাজে লাগাতে চাই। তাদের সেই দক্ষতার স্বীকৃতি দিতে চাই, একই সঙ্গে, তাদের নতুন নতুন দক্ষতা দিতেও রয়েছে উদ্যোগ, আইসিটি তার অন্যতম।

কর্মসূচির আওতায় কোডার্স ট্রাস্ট ১৪০ জন দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের প্রশিক্ষণ দেবে। সচিব এই কর্মসূচিকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই কর্মসূচি সফলতা পেলে আরও ব্যাপক পরিসরে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

কোডার্স ট্রাস্টের কো-ফাউন্ডার অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। স্বাগত বক্তব্য তিনি বলেন, এই কর্মসূচির পেছনে একটি সেন্টিমেন্ট কাজ করছে। আমি নিজে প্রবাসী বাংলাদেশি, আমেরিকা ছাড়াও বিশ্বের অর্ধশত দেশে গেছি, আমি দেখেছি দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই প্রবাসী শ্রমিকদের ভূমিকা ও আন্তরিকতা। তবে কোভিড-১৯ তাদের নতুন করে বিপদের মুখে ফেলেছে, তাদের জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ।

আজিজ আহমদ বলেন, এই প্রশিক্ষণ আপনাদের জন্য নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে আমি মনে করি। তবে প্রশিক্ষণটি সকলকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মনযোগ দিয়ে শেষ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্যসচিব আবদুল করিম বলেন, একটা সময়ে বলা হতো- নলেজ ইজ পাওয়ার, ইনফরমেশন ইজ পাওয়ার, এখন স্কিল ইজ পাওয়ার। আমি আশা করি বিদেশ ফেরতদের এই প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে আত্ম কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং তারা আবার আমাদের দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

সাবেক শিক্ষা ও আইসিটি সচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিদেশ থেকে যারা ফিরে এসেছেন তাদের অনেকেই বলেন, আমরা সাধারণ শ্রমের কাজ করেছি, আমরা কি করতে পারব? যেটা ভুল ধারণা। কোডার্স ট্রাস্ট তার মানসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আপনাদের দক্ষ করে তুলবে।

স্টার্ট আপ বাংলাদেশ এর আইসিটি বিভাগের প্রকল্প পরিচালক, অতিরিক্ত সচিব মজিবুল হক বলেন, বিদেশ থেকে যারা এসেছেন তাদের কয়েকটি ক্লাস্টারে ভাগ করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সরকারের একার পক্ষে এই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। একটি উপযুক্ত সময়ে কোডার্স ট্রাস্ট তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

কোডার্স ট্রাস্টের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল হালিম জানান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৫৭৯৪ জনের তালিকা থেকে ১২৫০ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোডার্স ট্রাস্ট। এদের অনলাইনে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ ও সুবিধা সবার নেই। এদের মধ্য থেকেই প্রাথমিকভাবে ১৪০ জনকে নির্বাচন করা হয়, যাদের চারটি গ্রুপে ভাগ করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com