May 25, 2026, 11:14 am
ক্রমেই বাড়ছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা কোম্পানির শেয়ার চাহিদা। সম্প্রতি প্রতিনিয়তই মোট লেনদেনে এই খাতের অংশগ্রহণ বাড়ছে। প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না অন্য কোনো খাতের কোম্পানি। গতকালও এর বিপরীত হয়নি। গতকাল লেনদেনে বিক্রেতা শূন্য হয়ে যায় বিমা খাতের ৩ কোম্পানি।
গতকালের মোট লেনদেনে এ খাতের অবদান দেখতে পাওয়া যায় ৩৯ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ে কোনো খাতের মোট লেনদেনে সর্বোচ্চ একক অবদান। এর আগের কার্যদিবসেও এ খাতের অবাদন ছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ।
গতকালের বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সারা দিনই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল বিমা খাতের শেয়ারে। এর প্রধান কারণ সম্প্রতি এ খাতের শেয়ার দর সবচেয়ে বেশি বাড়ছে। অন্যদিকে শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত বা পি-ই রেশিওর বিবেচনায় এখনও অতিমূল্যায়িত হয়নি এসব শেয়ার। যে কারণে খাতটিতে বিনিয়োগ এখনও নিরাপদ বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।
গতকাল তিন বিমা কোম্পানির শেয়ারের বিক্রেতা শূন্য হয়ে যায়। কোম্পানিগুলো হলো: সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স।
সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স : বুধবার সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের ক্লোজিং দর ছিল ২৮.৩০ টাকায়। আজ কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন শুরু হয়েছে ৩১.১০ টাকা। সর্বশেষ কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩১.১০ টাকায়। অর্থাৎ আজ কোম্পানিটির শেয়ার দর ২.৮০ টাকা বা ৯.৮৯ শতাংশ বেড়েছে।
পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স: বুধবার পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের ক্লোজিং দর ছিল ১৯.৫০ টাকায়। আজ কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন শুরু হয়েছে ২০.৫০ টাকা। সর্বশেষ কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১.৪০ টাকায়। অর্থাৎ আজ কোম্পানিটির শেয়ার দর ১.৯০ টাকা বা ৯.৭৪ শতাংশ বেড়েছে।
সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স : বুধবার সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের ক্লোজিং দর ছিল ১৯.৯০ টাকায়। আজ কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন শুরু হয়েছে ২১ টাকা। সর্বশেষ কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১.৮০ টাকায়। অর্থাৎ আজ কোম্পানিটির শেয়ার দর ১.৯০ টাকা বা ৯.৫৪ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে গত বুধবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য ২৬টি বিমা কোম্পানির শর্ত শিথিল করেছে বিএসইসি। ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্টড রেগুলেটিরি অথরিটির (আইডিআরএ) আবেদনের প্রেক্ষিতে বিএসইসি ২৬টি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে ফিক্সড প্রাইস ম্যাথোডের মাধ্যমে আইপিওতে সর্বনিম্ন ৩০ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলনের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। ফলে উক্ত ২৬টি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ফিক্সড প্রাইস ম্যাথোডের মাধ্যমে আইপিওতে সর্বনিম্ন ১৫ কোটি টাকা বা তার বেশি মূলধন উত্তোলন করতে পারবে। এ প্রেক্ষিতে কমিশন অতি শিগগিরই একটি নোটিফিকেশন জারি করা হবে।
গতকাল এ খবরটি বিমা খাতের শেয়ারে চাহিদা সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে। অনেকেই ধরে নিয়েছে যেহেতু ছাড়া দিয়ে বিমা কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা হচ্ছে সেহেতু এ খাতের ভবিষ্যৎ ভালো। যে কারণে গতকাল এ খাতের শেয়ারে ঝুঁকে পড়েন বিনিয়োগকারীরা।
এদিকে গতকাল বিমা ছাড়া মাত্র দুটি খাত মোট লেনদেনে ১০ শতাংশের বেশি অবদান রাখতে সক্ষম হয়। এ খাত দুটি হচ্ছে ওষুধ ও রসায়ন এবং বস্ত্র। এর মধ্যে ওষুধ ও রসায়ন খাতের মোট লেনদেনে অবদান ছিল ১১ শতাংশ। আর দিন শেষে মোট লেনদেনে বস্ত্র খাতের অবদান দেখতে পাওয়া যায় ১০ দশমিক ২১ শতাংশ। এছাড়া বাকি খাতগুলোর শেয়ারে তেমন আগ্রহ ছিল না বিনিয়োগকারীদের।
এদিকে গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক সামান্য বাড়লেও দিন শেষে লেনদেন আগের দিনের চেয়ে সামান্য কমতে দেখা গেছে। গতকাল দিন শেষে ছয় পয়েন্ট বেড়ে সূচক স্থির হয় চার হাজার ৯৭৮ পয়েন্টে। আর লেনদেন হয় ৮৮০ কোটি টাকা। যার মধ্যে ১৯ কোটি টাকা ছিল ব্লক মার্কেটের লেনদেন।