August 11, 2026, 7:17 am

এসডিজি বাস্তবায়নে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান

এসডিজি বাস্তবায়নে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা (মন্ত্রীর পদমর্যাদা) ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেছেন, এসডিজির লক্ষ্য এবং নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকারের মধ্যে যে সামঞ্জস্য রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে আগামী পাঁচ বছরের কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন পরিকল্পনা ওপর থেকে চাপিয়ে না দিয়ে স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন, মতামত ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার রাজধানীর হারমনি হল, বিসিএফসিসিতে আয়োজিত ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো: নীতি, অংশীদারিত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনের প্রথম দিনের ‘এসডিজি স্থানীয়করণ ও এসডিজি গ্রাম পাইলটিং কর্মসূচি’ বিষয়ক প্লেনারি অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই এসডিজি অর্জন সম্ভব। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তা, মাঠ প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

এসডিজির সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০, তারেক রহমানের ২৭ দফা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ঘোষিত ৩১ দফা এবং সর্বশেষ নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নের জন্য যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তার অনেকগুলোর সঙ্গেই এসডিজির লক্ষ্যগুলোর সামঞ্জস্য রয়েছে। এসডিজির আওতায় না থাকলেও নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা এসডিজি বাস্তবায়ন করছি, নাকি নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করছি—এই প্রশ্নের উত্তর হলো দুটিই। কারণ নির্বাচনী ইশতেহারের অনেক অঙ্গীকারের সঙ্গে এসডিজির লক্ষ্যগুলোর সরাসরি মিল রয়েছে।’

এসডিজি স্থানীয়করণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, গ্রামের মানুষের প্রয়োজন ও মতামতের ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। স্থানীয় নেতৃত্বকে কাজে লাগিয়ে গ্রামের সমস্যা চিহ্নিত করে সেখান থেকেই সমাধানের পথ বের করতে হবে। তিনটি গ্রামকে মডেল হিসেবে নিয়ে এসডিজির বিভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সফল মডেল দেশের অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি পিছিয়ে থাকা চরাঞ্চল থেকে একটি গ্রামকে পাইলট কর্মসূচির আওতায় নেওয়ার সুপারিশ করেন।

অধিবেশনে রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য সমতলের তুলনায় ভিন্ন ও স্থানীয় বাস্তবতাভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার দাবি জানান। সুপেয় পানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি, পর্যটন ও স্থানীয় পণ্যের বাজারজাতকরণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। জুমচাষিদের কৃষক কার্ডের আওতায় এনে তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের বাজারজাত নিশ্চিত করারও প্রস্তাব দেন।

দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাদিক রিয়াজ বলেন, বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগরকে এসডিজি গ্রামের পাইলট কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হয়েছে। সেখানে দারিদ্র্য কমাতে কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ানোর উদ্যোগ প্রয়োজন। দিনাজপুরের লিচু প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানির জন্য গবেষণাগার স্থাপন এবং বেকার যুবকদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য দূর করা এবং বিরল স্থলবন্দর চালু করে সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়নের ওপর জোর দেন।

বক্তারা বলেন, এসডিজির সাফল্য শুধু বড় অবকাঠামো বা উন্নয়নের পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা যাবে না। মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষকের ন্যায্য দাম, পরিবারের আয় ও দুর্যোগে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে কি না—এসবের ওপরই প্রকৃত উন্নয়ন নির্ভর করবে। তাই স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই এসডিজি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

ইএটি

Please Share This Post in Your Social Media


Leave a Reply

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com