May 20, 2026, 5:01 am

৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন দিলেন প্রধানমন্ত্রী

৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন দিলেন প্রধানমন্ত্রী

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে সরকার। আর স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা করপোরেশনের প্রকল্প ধরে এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম এডিপি ৩ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেল।

আজ সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলনকক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় নতুন এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এনইসি সভায় সভাপতিত্ব করেন।

অনুমোদিত এডিপির আকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি থেকে ৫০ শতাংশ বেশি। মূল এডিপিতে দেশজ উৎস থেকে জোগান দেওয়া হবে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প সহায়তা হিসেবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এডিপিতে প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ১০৫।

নতুন এডিপিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এডিপিতে বরাদ্দ পাওয়া শীর্ষ পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে তিনটি হলো স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বরাদ্দ আগের চেয়ে বেশ বেড়েছে।

নতুন এডিপিতে বরাদ্দের দিক থেকে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এই বিভাগের বরাদ্দ হলো ৩৩ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এ বিভাগের বরাদ্দ ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থানে থাকা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বরাদ্দ ২৬ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা। এরপর চতুর্থ স্থানে থাকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে, বরাদ্দ ১৯ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা।

সভা শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না- এ নিয়ে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে ড্যাশবোর্ড থাকবে। প্রকল্পের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, এডিপি থেকে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দিতে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিতে কিছু নিয়মকানুন অনুসরণ করা হবে। প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকলে কেউ প্রকল্প পরিচালক হতে পারবেন না। অতীতে প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে অনেক দুর্নীতির অভিযোগ আছে।

এডিপি উচ্চাভিলাষী কি না— এমন প্রশ্নের উত্তরে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক সরকারের উচ্চাভিলাষ থাকতে হবে। আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অতীতের সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতিতে বিনিয়োগ লাগবে। সে জন্য বড় এডিপি নেওয়া হয়েছে।

ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠনের জন্য বড় বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই বলে জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অস্থিরতা, অদক্ষতা, অপচয় ও দুর্বল বিনিয়োগ পরিবেশ থেকে বের হয়ে বাংলাদেশকে একটি টেকসই ও কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতিতে রূপ দিতে সরকার আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন রোডম্যাপ তৈরি করেছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এডিপি প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে সামনের দিকে এগোতে হলে পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠনের একটি সুস্পষ্ট কৌশল প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য থেকেই সরকার ‘ফাইভ ইয়ার স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ তৈরি করেছে। এটি আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংস্কার থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং সামাজিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এসআর

Please Share This Post in Your Social Media


Leave a Reply

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com