August 22, 2026, 1:27 pm

ডলারের দাম বাড়ানো-অনলাইনে কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণে লিগ্যাল নোটিশ

ডলারের দাম বাড়ানো-অনলাইনে কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণে লিগ্যাল নোটিশ

মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন রোধ এবং অনলাইনে ডলার কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।
লিগ্যাল নোটিশে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বিবাদী করা হয়েছে।

লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও নিয়ন্ত্রণের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তা না হলে এ বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ পেতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মূলত মার্কিন ডলার ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে ডলারের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ২০০৬ সালে ১ ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৭০ টাকা। অপরদিকে ২০২১ সালের অক্টোবরে ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৫ দশমিক ৬০ টাকা এবং ক্ষেত্রবিশেষে ৮৮ টাকা দরে ডলার বিক্রি হচ্ছে।

অর্থনীতির ভাষ্য অনুযায়ী, সকল মুদ্রার (Fiat Currency) মুদ্রাস্ফীতি রয়েছে। এমনকি মার্কিন ডলারেরও মুদ্রাস্ফীতি আছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, বাংলাদেশে এই মার্কিন ডলারের দাম অনৈতিক ও অন্যায়ভাবে বাড়ানো হচ্ছে এবং বাংলাদেশের মুদ্রা টাকার মান অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে।

টাকার অবমূল্যায়নের কারণে বিদেশ থেকে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানিতে অধিক পরিমাণে অর্থ খরচ হচ্ছে এবং আমদানিকৃত খাদ্যদ্রব্য ও জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ ব্যাপক সমস্যায় জর্জরিত হয়েছেন এবং দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য কিনতে পারছেন না।

নোটিশে আরও বলা হয়, মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও টাকার অবমূল্যায়ন রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যর্থতার জন্য বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং আমদানিকৃত খাদ্যদ্রব্য ও জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কারণে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ ও দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ অবর্ণনীয় কষ্টে নিপতিত হয়েছে।

অপরদিকে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স ব্যতীত বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু বাংলাদেশে সেওনিয়ার, স্ক্রিল, নেটেলার, গ্রেপল, ওয়েবমানি ইত্যাদি মাধ্যমে অধিক মূল্যে ডলার কেনাবেচা হচ্ছে। বাংলাদেশে এসব বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় ডলার বিক্রি হচ্ছে।

সুতরাং বাংলাদেশ ব্যাংককে অবিলম্বে এসব অনলাইন মানি এক্সচেঞ্জ সাইট নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে এবং এসব ওয়েবসাইটের ডলারের মূল্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত মূল্যে করতে হবে। পাশাপাশি এসব ডলার কেনোবেচার অনলাইন সাইটগুলোকে বাংলাদেশের ফরেন রিজার্ভের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com