August 14, 2026, 10:18 pm

সিডনির হারবারের মতো হবে ময়মনসিংহের কেওয়াটখালি সেতু

সিডনির হারবারের মতো হবে ময়মনসিংহের কেওয়াটখালি সেতু

ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর দেশের ইতিহাসে প্রথম এক হাজার ১০০ মিটার ধনুকের মতো আকৃতির ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। যেটি দেখতে হবে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবার ব্রিজের মতো। নদীতে ব্রিজটির কোনো পিলার থাকবে না। এজন্য এটিকে দেশের প্রথম মডেল ব্রিজ মনে করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্পটিসহ মোট আটটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। একনেক কার্যপত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আজ একনেক সভায় ময়মনসিংহে ‘কেওয়াটখালি সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য ভৌত অবকাঠামো বিভাগ থেকে উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৬৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। চীনের নেতৃত্বাধীন এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) ঋণ হিসেবে দেবে ১ হাজার ৯৩০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। একনেকে অনুমোদন পেলে চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় ৩৩ দশমিক ২ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ৪৫৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং পুনর্বাসনের জন্য ৯০ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রাক্কলিত ব্যয়ের ভিত্তি এবং পুনর্বাসন ব্যয়ের পরিকল্পনা ডিপিপিতে সংযুক্ত করা হয়নি। প্রকল্পের আওতায় ১০ দশমিক ৬৪ লাখ ঘন মিটার মাটির কাজের জন্য ৭৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে- ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর একটি ব্রিজ, ওভারপাস ও ৬.২ কিলোমিটার সড়ক পৃথক এসএমভিটি লেনসহ চার লেন নির্মাণের মাধ্যমে ময়মনসিংহ বিভাগের আওতাধীন উত্তরাঞ্চলের জেলাসহ এ অঞ্চলের স্থলবন্দর, ইপিজেড এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সঙ্গে রাজধানী ঢাকার নিরাপদ, উন্নত ও ব্যয় সাশ্রয়ী যোগাযোগ স্থাপন করা।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে- ২,০৯৩ মিটার ব্রিজ ফাউন্ডেশন এবং সাবস্ট্রাকচার, ৩২০ মিটার স্টিল আর্চ ব্রিজ সুপারস্ট্রাকচার, ১,৭৭৩ মিটার কংক্রিট ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক বাঁধে ১৪.৬৫ লাখ ঘনমিটার মাটির কাজ, ৬.২০ কিলোমিটার পেভমেন্ট নির্মাণ, একটি টোল প্লাজা নির্মাণ, ৩৩.০২ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, ৩৩.০২ হেক্টর পুনর্বাসন, ইউটিলিটি স্থানান্তর, ড্রেইনেজ, রোড মার্কিং, সাইন-সিগনাল, বেরিয়ার, গার্ড রেল, রেস্ট এরিয়া নির্মাণসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মামুন-আল-রশিদ বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ময়মনসিংহ বিভাগের কয়েকটি জেলাসহ এ অঞ্চলের স্থলবন্দর, ইপিজেড এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর নিরাপদ ও উন্নত যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক কার্যক্রমগুলো ত্বরান্বিত হবে। যা জিডিপি বৃদ্ধি, শিল্প উন্নয়ন, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সর্বোপরি জনগণের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ বিবেচনায় প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com