April 19, 2026, 2:27 am

করোনায় প্রভাব পড়েছে স্কুল ব্যাংকিংয়ে, আমানতে প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ

করোনায় প্রভাব পড়েছে স্কুল ব্যাংকিংয়ে, আমানতে প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ

মহামারি করোনার বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে স্কুল ব্যাংকিংয়ে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসে স্কুল ব্যাংকিংয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা ও আমানতে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই সময়ে স্কুল ব্যাংকিংয়ে অ্যাকাউন্ট বেড়েছে সাড়ে ৪ শতাংশেরও কম। আর আমানতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ২ শতাংশ। তবে এক বছরের ব্যবধানে এই প্রবৃদ্ধি বেড়েছে যথাক্রমে প্রায় ২২ শতাংশ ও ১৮ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারি করোনায় অঘোষিত লকডাউনে গত তিন মাসে স্কুল ব্যাংকিংয়ে অ্যাকাউন্ট ও আমানতে নিম্ন প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধির হার সন্তোষজনক।

১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিং সেবা ও আধুনিক ব্যাংকিং প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে স্কুল ব্যাংকিং কর্মসূচি গ্রহণে ২০১০ সালের নভেম্বরে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে শিক্ষার্থীরা টাকা জমা রাখার সুযোগ পায় ২০১১ সাল থেকে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদেরকে দেশের আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে আসাই স্কুল ব্যাংকিংয়ের লক্ষ্য। ব্যাংকগুলো ন্যূনতম ১০০ টাকা জমা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব খুলছে। এ ছাড়া ব্যাংক হিসাবে আকর্ষণীয় মুনাফা প্রদান, সার্ভিস চার্জ গ্রহণ না করা, ডেবিট কার্ড প্রদানসহ বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা প্রদান এবং স্কুলকেন্দ্রিক আর্থিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের প্রসার ঘটানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়ছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুন শেষে স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ৩১ হাজার ৬০২টি। তিন মাস আগে মার্চে যা ছিল ২৩ লাখ ২৯ হাজার ১৩১টি। ফলে তিন মাসের ব্যবধানে অ্যাকাউন্ট বেড়েছে এক লাখ দুই হাজার ৪৭০টি বা ৪.৪০ শতাংশ। আর এক বছরের ব্যবধানে স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে চার লাখ ৩৫ হাজার ৫৭১টি বা ২১.৮২ শতাংশ। এ সময়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের আমানত দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৬২ কোটি ৮২ লাখ টাকা। তিন মাস আগে যা ছিল এক হাজার ৭২৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ফলে তিন মাসের ব্যবধানে আমানত বেড়েছে মাত্র ৩৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা বা ২.২২ শতাংশ। তবে গত এক বছরের ব্যবধানে আমানত বেড়েছে ২৬৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা বা ১৭.৯৬ শতাংশ।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, মোট অ্যাকাউন্টের ৩৯.১৮ শতাংশ খোলা হয়েছে গ্রামাঞ্চলে। ৬০.৮২ শতাংশ খোলা হয়েছে শহরাঞ্চলে। গ্রামাঞ্চলের অ্যাকাউন্টে জমা আছে ৪৫৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা আর শহরাঞ্চলের অ্যাকাউন্টগুলোতে জমা এক হাজার ৩০৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুল শিক্ষার্থীদের হিসাব সংখ্যা ও টাকা জমার স্থিতির দিক থেকে বেসরকারি ব্যাংকের অবদান সবচেয়ে বেশি। বেসরকারি ব্যাংকগুলো মোট ১৬ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮৯ট ব্যাংক হিসাব খুলেছে, যা মোট স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের ৬৯.০৫ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এক হাজার ৪৬৬ কোটি ১২ লাখ টাকা আমানত সংগ্রহ করেছে, যা স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের মোট স্থিতির ৮৩.১৭৪ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ২৫.০১ শতাংশ স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খুললেও মোট আমানতের মাত্র ২২৯ কোটি ৪০ লাখ বা ১৩ শতাংশ সংগ্রহ করেছে। শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি হিসাব খুলেছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে। ব্যাংকটিতে সর্বোচ্চসংখ্যক অর্থাৎ পাঁচ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৩টি হিসাব খুলেছে শিক্ষার্থীরা, যা মোট হিসাবের ২১.৩২ শতাংশ। অন্যদিকে স্থিতির ভিত্তিতেও শীর্ষে অবস্থান করছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। তাদের সংগৃহীত আমানত প্রায় ৫১৩ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা মোট আমানত স্থিতির ২৯.১১ শতাংশ।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com