August 20, 2026, 10:20 am
বহুলপ্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশ হতে পারে। এ লক্ষ্যে প্রস্তাবটির চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে অর্থ বিভাগ। মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যেসব জটিলতা তৈরি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন হতে পারে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী আইনগত দিক পর্যালোচনার জন্য তা আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ে পাঠানো হবে। ভেটিং শেষ হলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
সূত্র জানায়, এর আগে আগস্টের মধ্যে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা ছিল। তবে বেতন বৃদ্ধির হার, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনার কারণে প্রক্রিয়াটি কিছুটা পিছিয়েছে। এখন মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব পাঠানোর আগে বেতন কাঠামোর অবশিষ্ট জটিলতাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকের পর প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠাবে অর্থ বিভাগ। মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কমিটির কাজ শেষ হলেই নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। চলতি বছরের মধ্যেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সরকারের বর্তমান অগ্রগতি অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
সরকার চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে। তবে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আপাতত পুরোনো বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গেজেট প্রকাশের পর নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে বিবেচনা করে বকেয়া বেতন-ভাতা সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হতে পারে।
তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিও রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কার্যকর করা হতে পারে।
এদিকে নবম জাতীয় পে-কমিশনের সুপারিশে যে হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছিল, সচিব কমিটি পর্যালোচনার পর সেই হার কিছুটা কমানোর সুপারিশ করেছে বলেও জানা গেছে।
ইএটি
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.