April 6, 2026, 8:22 pm
দেশের শীর্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি সামিট বিবিয়ানা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড প্রায় ৭৬ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে তা পরিশোধে গড়িমসি করছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানায়, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নির্ধারিত ভ্যাট বকেয়া ৭৬ কোটি ২৯ লাখ ৯৬ হাজার ৩১৫ টাকা, যা এখনো পরিশোধ করা হয়নি।
এনবিআরের ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) তদন্তে ৭৬ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তারা একই সঙ্গে দুটি হিসাব পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। একদিকে রেজিস্ট্রার খাতায় প্রকৃত বেচাকেনার হিসাব সংরক্ষণ, অন্যদিকে কম্পিউটারে ভুয়া বা কম দেখানো বিক্রির তথ্য প্রদর্শন করে কম ভ্যাট পরিশোধ করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ভ্যাট গোয়েন্দারা কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালান। এ সময় উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যাংক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জব্দ করা হয় প্রকৃত হিসাব সংবলিত রেজিস্ট্রার। পরে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে কম্পিউটার থেকে আসল আর্থিক তথ্য উদ্ধার করা হয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ফাঁকির বিষয়টি নিশ্চিত হয় এনবিআর।
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান ভ্যাট দেওয়ার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা পরিশোধ করছে না। কেউ কেউ ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর (বিন) পর্যন্ত নেয়নি। বড় অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকির সঙ্গে জড়িত এসব প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বকেয়া আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্তে দেখা যায়, বারবার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এক টাকাও পরিশোধ করেনি। অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সামান্য অর্থ দিয়ে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। একাধিক দফা সময় দেওয়ার পর এনবিআর সিদ্ধান্ত নিয়েছে—আর সময় বাড়ানো হবে না। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের তলব করে বকেয়া পরিশোধের সময় জানতে চাওয়া হলেও তারা নির্দিষ্ট কোনো সময় দিতে পারেননি।
এনবিআরের ভ্যাট গোয়েন্দা শাখার মহাপরিচালক মুহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, তদন্তের মাধ্যমে সামিট বিবিয়ানা পাওয়ারের ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে।রাজস্ব আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বকেয়া পরিশোধ না করলে মামলা, ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং বিন নম্বর স্থগিত করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
এদিকে সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদ মন্তব্য করেন, বছরের পর বছর এসব বড় প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক প্রভাব ও অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছে। এই চক্র ভাঙতে হলে শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এমআর
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.