February 22, 2026, 10:35 pm
দেশের অর্থনীতিতে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতির চাপ ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। রপ্তানি আয় সামান্য কমলেও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানি ও কাঁচামাল আমদানির উচ্চ ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে অর্থনীতিতে।
বাংলাদেশ ব্যাংক–এর বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (বিওপি) সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার (১১.৫৫ বিলিয়ন)। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ৯৭৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে দেশে ৩ হাজার ৩৬৮ কোটি ডলারের (৩৩.৬৮ বিলিয়ন) পণ্য আমদানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আমদানির পরিমাণ ছিল ৩২ বিলিয়ন ডলার। রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ২১২ কোটি ডলার (২২.১২ বিলিয়ন), যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ২ হাজার ২৩২ কোটি ডলার। আমদানি ও রপ্তানির এ ব্যবধানই মূলত বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার প্রধান কারণ।
চলতি হিসাবের ভারসাম্য (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স) ডিসেম্বর শেষে সামান্য ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। এ সময়ে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫২ কোটি ডলার। সাধারণত চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকলে বৈদেশিক লেনদেন পরিচালনায় ঋণের প্রয়োজন পড়ে না।
তবে সামগ্রিক লেনদেনের (ওভারঅল ব্যালেন্স) চিত্র তুলনামূলক ইতিবাচক। ডিসেম্বর শেষে সামগ্রিক লেনদেনে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১৯৪ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৬ কোটি ডলারের ঘাটতি।
অর্থনীতির স্বস্তির জায়গা হিসেবে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৬২৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি।
একই সময়ে দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে এফডিআই ছিল ৫৫ কোটি ডলার, যা চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বেড়ে ৮২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগে নেতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১০ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ঋণাত্মক ৫ কোটি ডলার।
সার্বিকভাবে, রপ্তানি আয় স্থবির থাকা এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট বাণিজ্য ঘাটতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিময় হার ও সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। তবে রেমিট্যান্স ও সামগ্রিক লেনদেনে উদ্বৃত্ত পরিস্থিতিকে কিছুটা ভারসাম্য দিচ্ছে।
ইএটি
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.